০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবাইকে সতর্ক করলেন সেনাপ্রধান।

নিজেরা কাদা–ছোড়াছুড়ি, মারামারি ও কাটাকাটি করলে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে বলে সতর্ক করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আজ, মঙ্গলবার  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে,রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বক্তব্য রাখেন।

তিনি আরও বলেন, “আজকে একটা বেদনাবিধুর দিবস। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আমরা এই ৫৭ জন চৌকস সেনা অফিসার কে হারিয়েছি এবং শুধু তাই নয়, তাঁদের কিছু কিছু পরিবারবর্গের সদস্যদের আমরা হারিয়েছি

সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বলেন, “পিলখানা হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণটাই বিডিআর সদস্য দ্বারা সংঘটিত, ফুলস্টপ, কোনো ‘ইফ’ এবং ‘বাট’ নাই।”

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার বক্তব্যেশান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা প্রসঙ্গে বলেছেন, এই দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর একার নয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী এককভাবে কাজ করছে না, বরং এতেপুলিশ বি জিবি র‍্যাব আনসার ভিডিপি সহ বিভিন্ন বাহিনীও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, “দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমি ৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু এই সংখ্যাটি কখনও স্থির থাকে না। কিছু সৈন্য নিয়োজিত থাকে, আবার কিছু সৈন্য ক্যান্টনমেন্টে চলে যায়। এর মাধ্যমে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তা পূরণ করা খুবই কঠিন। তবুও আমরা দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার বক্তব্যে”অবাধ, সুষ্ঠ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন” এর গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সফলতা এই ধরনের নির্বাচনের ওপর নির্ভরশীল।

সেনাপ্রধান সুষ্পষ্টভাবে বলেছেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া যদি সুষ্ঠু, অবাধ এবং সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়, তবে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এর মাধ্যমে জনগণের মতামত এবং ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

এমন নির্বাচন জাতির ঐক্য, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাহায্য করবে, যেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে জনগণের স্বাভাবিক অধিকার।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, তার বক্তব্যে সেনাবাহিনীর প্রতি আক্রমণ না করার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আক্রমণ কিংবা বিভেদ সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, যদি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সমালোচনা করা হয়, তবে সেটা জাতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে।

এছাড়া, তিনি আরও বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে, জাতির মঙ্গল এবং উন্নতির জন্য।

সেনাপ্রধান সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,  যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি আজকে বলে দিলাম, নইলে আপনারা বলবেন, আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে দেশ ও জাতির প্রতি তার অবিচলিত বিশ্বস্ততা এবং পেশাদারিত্বের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমার কোনো ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নেই। আমার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা হলো, দেশের ও জাতির জন্য কাজ শেষ  করে সেনাবাহিনীতে ফিরে আসা।

ট্যাগ

পয়লা ফাল্গুনে রঙিন বাংলাদেশ, ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে জোড়া উৎসব

আজ পয়লা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। বাংলা সনের একাদশ মাসের সূচনা ঘিরে সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ। একই দিনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় উৎসবে যুক্ত হয়েছে বাড়তি মাত্রা। প্রকৃতির রঙিন সাজ, তরুণ-তরুণীদের বাসন্তী পোশাক আর দখিনা হাওয়ার মৃদু পরশে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পয়লা ফাল্গুন উদযাপনের আয়োজন করে। এরপর থেকেই দিনটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এ বছরও বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদের আয়োজনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে বসন্তবরণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীর ‘ফুসফুস’খ্যাত রমনা পার্ক-এ দেখা গেছে শিমুল, পলাশ, রক্তকাঞ্চনের রঙিন সমারোহ। কোকিলের কুহুতান আর আম্রকুঞ্জের মুকুলের ঘ্রাণে চারদিক ভরে উঠেছে। অনেক তরুণীর পরনে হলুদ, বাসন্তী ও কমলা রঙের শাড়ি; মাথায় গাঁদা ফুলের মালা। অন্যদিকে ছেলেদের পরনে রঙিন পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। এ রঙিন সাজে ঢাকার যান্ত্রিক চেহারা যেন মুহূর্তেই বদলে গেছে। ফাল্গুনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির ঐতিহ্য ও ইতিহাস। ‘ফাল্গুন’ নামটি এসেছে ফাল্গুনী নক্ষত্র থেকে। ১৯৫০–৬০ দশকে পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে নিজেদের আলাদা পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে রবীন্দ্রসংগীত ও বাঙালি আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পয়লা ফাল্গুন উদযাপন জনপ্রিয়তা পায়। বসন্তের রক্তিম রং স্মরণ করিয়ে দেয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা—রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারদের রক্তে রাঙা ইতিহাসও ফাল্গুনের স্মারক হয়ে আছে। বসন্ত নিয়ে সাহিত্য-সংগীতে রয়েছে বিস্তৃত...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ

দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ

বিগত কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হননি—এমন দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মধ্যেই প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয় পেয়েছেন এবং ইতোমধ্যে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলে যেতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান-ও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াত থেকে নির্বাচিত ৬৮ জনের মধ্যে ৬৫ জনই নতুন মুখ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে প্রায় ৭১ জন এবার প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন। বিএনপি-জোট মোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি দলে সম্পূর্ণ নতুন প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ৬ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ২ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) থেকে ১ জন প্রার্থী প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করছেন। তবে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ নির্বাচনের আগে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি সংসদে দেড় শতাধিক নতুন সদস্য থাকা ইতিবাচক...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ফলাফল বদলে দেওয়ার অভিযোগ ১১ দলের

ফলাফল বদলে দেওয়ার অভিযোগ ১১ দলের

গণভোটে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট সংস্কারের পক্ষে পড়েছে দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, একই জনগণ ১১ দলীয় জোটের পক্ষেও ভোট দিলেও শেষ মুহূর্তে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটে কারচুপি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে এবং সেটিকে তারা স্বাগতও জানিয়েছিলেন। তবে ফলাফল ঘোষণার সময় এসে কিছু নির্দিষ্ট আসনকে লক্ষ্য করে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “না হলে পুরো ভোটটাই ১১ দলের পক্ষেই আসত।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে ব্যবহার করে কিছু কেন্দ্র দখল এবং জোরপূর্বক ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মামুনুল হক-এর ঢাকা-১৩ আসন, ঢাকা-৮ আসন এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের আসনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের কথা। তার দাবি, এসব আসনে পরিকল্পিতভাবে ফলাফল পরিবর্তন করে ১১ দলীয় প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কারচুপি অতীতে যেভাবে নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে, তারই পুনরাবৃত্তি বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় ১১ দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং হুমকির ঘটনা ঘটছে। এতে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

তারেক রহমানকে অভিনন্দন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের

তারেক রহমানকে অভিনন্দন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েক। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বাংলাদেশের জনগণকে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করার জন্য শুভেচ্ছা জানান। বার্তায় দিশানায়েক বলেন, নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমান অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিজয় মূলত তারেক রহমানের প্রতি জনগণের আস্থারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জনগণের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। সাম্প্রতিক এই শুভেচ্ছা বার্তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সবাইকে সতর্ক করলেন সেনাপ্রধান।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:২৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

নিজেরা কাদা–ছোড়াছুড়ি, মারামারি ও কাটাকাটি করলে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে বলে সতর্ক করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আজ, মঙ্গলবার  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে,রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বক্তব্য রাখেন।

তিনি আরও বলেন, “আজকে একটা বেদনাবিধুর দিবস। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আমরা এই ৫৭ জন চৌকস সেনা অফিসার কে হারিয়েছি এবং শুধু তাই নয়, তাঁদের কিছু কিছু পরিবারবর্গের সদস্যদের আমরা হারিয়েছি

সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বলেন, “পিলখানা হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণটাই বিডিআর সদস্য দ্বারা সংঘটিত, ফুলস্টপ, কোনো ‘ইফ’ এবং ‘বাট’ নাই।”

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার বক্তব্যেশান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা প্রসঙ্গে বলেছেন, এই দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর একার নয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী এককভাবে কাজ করছে না, বরং এতেপুলিশ বি জিবি র‍্যাব আনসার ভিডিপি সহ বিভিন্ন বাহিনীও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, “দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমি ৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে কাজ করছি, কিন্তু এই সংখ্যাটি কখনও স্থির থাকে না। কিছু সৈন্য নিয়োজিত থাকে, আবার কিছু সৈন্য ক্যান্টনমেন্টে চলে যায়। এর মাধ্যমে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তা পূরণ করা খুবই কঠিন। তবুও আমরা দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার বক্তব্যে”অবাধ, সুষ্ঠ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন” এর গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সফলতা এই ধরনের নির্বাচনের ওপর নির্ভরশীল।

সেনাপ্রধান সুষ্পষ্টভাবে বলেছেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া যদি সুষ্ঠু, অবাধ এবং সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়, তবে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এর মাধ্যমে জনগণের মতামত এবং ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

এমন নির্বাচন জাতির ঐক্য, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাহায্য করবে, যেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে জনগণের স্বাভাবিক অধিকার।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, তার বক্তব্যে সেনাবাহিনীর প্রতি আক্রমণ না করার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আক্রমণ কিংবা বিভেদ সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, যদি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সমালোচনা করা হয়, তবে সেটা জাতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে।

এছাড়া, তিনি আরও বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে, জাতির মঙ্গল এবং উন্নতির জন্য।

সেনাপ্রধান সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,  যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি আজকে বলে দিলাম, নইলে আপনারা বলবেন, আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে দেশ ও জাতির প্রতি তার অবিচলিত বিশ্বস্ততা এবং পেশাদারিত্বের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমার কোনো ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নেই। আমার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা হলো, দেশের ও জাতির জন্য কাজ শেষ  করে সেনাবাহিনীতে ফিরে আসা।