০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অর্থবহ সংস্কারের পরেই সুষ্ঠ নির্বাচন দিতে হবে।

অর্থবহ সংস্কারের পরেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবেঃ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জামায়াতের অবস্থান এবং তার দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। তিনি বরগুনায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তার বক্তব্যে কয়েকটি মূল বিষয় তুলে ধরেছেন:

গোলাম পরওয়ার ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গে বলেছেন, এসব নির্বাচনে জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেনি। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে নির্বাচন ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জামায়াত এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে দমন করার জন্য নিরপরাধ আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তার ও হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আওয়ামী লীগকে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং তাদের শাসনব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য কোনো দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অত্যাচার চালিয়েছে।

বরগুনায় বিশাল কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করেছিল শেখ হাসিনার শাসন একাধারে চলতে থাকবে, কিন্তু জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা সহ তার সরকার পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, এই ধরনের শাসনব্যবস্থা কখনও গণতন্ত্র নয় এবং দেশের জনগণ আর এমন শাসকের কাছে ক্ষমতা দেখতে চায় না।

জামায়াত সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারের কথা বলেছে। গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, জামায়াত নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পাঁচ থেকে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে প্রস্তুত। তারা সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া না করে শুধুমাত্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু করার জন্য সময় দিতে রাজি।

গোলাম পরওয়ার ইসলামিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি জামায়াত ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে তারা যেকোনো আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জামায়াত ক্ষমতায় আসতে চায় না, বরং তারা ইসলামকে ক্ষমতায় আনতে চায়।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশ, জামায়াতের ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং তার দলের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ইসলামিক মূলনীতির প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দেওয়া রাজনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরেছে।

ট্যাগ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে মাঠে নামছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ শনিবার গণমাধ্যমকে জানান, সেনাবাহিনী আগে থেকেই আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে। আজ থেকে আরও সদস্য যুক্ত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন (৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি) মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য সহায়ক। সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সবাই এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বাহিনীভিত্তিক মোতায়েনের সংখ্যা হলো—আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি): ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন,সেনাবাহিনী: ১ লাখ ৩ হাজার,নৌবাহিনী: ৫ হাজার,বিমানবাহিনী: ৩ হাজার ৭৩০ জন,বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি): ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন,কোস্ট গার্ড: ৩ হাজার ৫৮৫ জন,পুলিশ: ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন,র‌্যাব: ৯ হাজার ৩৪৯ জন এবংচৌকিদার-দফাদার: ৪৫ হাজার ৮২০ জন। পরিপত্রে আরও বলা হয়,...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের সব ভোটকেন্দ্রকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সম্প্রতি দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় ভোটার, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যসম্মত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ঢাকার ৬ আসনে আজ তারেক রহমানের টানা জনসভা

ঢাকার ৬ আসনে আজ তারেক রহমানের টানা জনসভা। ছবিঃসংগৃহীত

নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আজ রোববার রাজধানী ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয়টি সংসদীয় আসনে পৃথক জনসভায় অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আয়োজিত এসব জনসভায় তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টায় ঢাকা-১৭ আসনের নিজ নির্বাচনী এলাকা ইসিবি চত্বরে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ গোলচত্বর-সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এবং বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় গেটে জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। বিকেলের পর প্রচারণা আরও জোরদার করে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকা-১৩ আসনের শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডার সাঁতারকুলে অবস্থিত সানভ্যালি মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যানের। দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার মিলিয়ে মোট ১৪টি জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এর আগে গতকাল শনিবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নির্বাচনের মাঠে বিএনপির প্রচারণা জোরদার করতে এসব জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানবেন যে ৪ সহজ পদ্ধতিতে

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানবেন যে ৪ সহজ পদ্ধতিতে

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করতে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানার জন্য চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাররা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তাদের ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা ও ভোটার নম্বর জানতে পারবেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোবাইল অ্যাপ, হটলাইন, এসএমএস এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট—এই চারটি মাধ্যমে ভোটসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে। চারটি পদ্ধতি হলো— ১. স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপভোটাররা গুগল প্লে স্টোর অথবা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে পারবেন। অ্যাপের ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ অপশন নির্বাচন করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’-এ ক্লিক করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রদান করলে ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা দেখা যাবে। ২. হটলাইন নম্বর ১০৫ভোটাররা সরাসরি ১০৫ নম্বরে কল করে অপারেটরের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে। ৩. এসএমএস সেবাএসএমএসের মাধ্যমে তথ্য জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC...

আরো পড়ুন
জনপ্রিয় সংবাদ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

অর্থবহ সংস্কারের পরেই সুষ্ঠ নির্বাচন দিতে হবে।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

অর্থবহ সংস্কারের পরেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবেঃ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জামায়াতের অবস্থান এবং তার দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। তিনি বরগুনায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তার বক্তব্যে কয়েকটি মূল বিষয় তুলে ধরেছেন:

গোলাম পরওয়ার ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গে বলেছেন, এসব নির্বাচনে জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেনি। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে নির্বাচন ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জামায়াত এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে দমন করার জন্য নিরপরাধ আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তার ও হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আওয়ামী লীগকে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং তাদের শাসনব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য কোনো দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অত্যাচার চালিয়েছে।

বরগুনায় বিশাল কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করেছিল শেখ হাসিনার শাসন একাধারে চলতে থাকবে, কিন্তু জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা সহ তার সরকার পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, এই ধরনের শাসনব্যবস্থা কখনও গণতন্ত্র নয় এবং দেশের জনগণ আর এমন শাসকের কাছে ক্ষমতা দেখতে চায় না।

জামায়াত সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারের কথা বলেছে। গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, জামায়াত নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পাঁচ থেকে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে প্রস্তুত। তারা সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া না করে শুধুমাত্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু করার জন্য সময় দিতে রাজি।

গোলাম পরওয়ার ইসলামিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি জামায়াত ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে তারা যেকোনো আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জামায়াত ক্ষমতায় আসতে চায় না, বরং তারা ইসলামকে ক্ষমতায় আনতে চায়।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশ, জামায়াতের ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং তার দলের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ইসলামিক মূলনীতির প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দেওয়া রাজনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরেছে।