০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাচার হওয়া ২৩৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত আনার জন্য বিশেষ আইন করতে যাচ্ছে সরকার ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গত ১৫ বছরে দেশের বাইরে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশেষ একটি আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। খুব শিগগির অধ্যাদেশ আকারে এই আইনটি কার্যকর হবে।

আজ সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ২০০৯ থেকে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে। এই টাকা উদ্ধারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হবে।

প্রেস সচিব বলেন, এই টাকা ফেরত আনার জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১১ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। টাস্কফোর্স এবং অন্যান্য সংস্থা পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে তৎপর রয়েছে এবং বৈঠকে এই বিষয়ক অগ্রগতির খতিয়ান নেওয়া হয়েছে।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে বিশেষ আইন তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে ২০০টি আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, তবে ৩০টির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হতে যাচ্ছে।

প্রেস সচিব আরও জানান, আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে এই আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নেবে।

ট্যাগ

সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান আর নেই। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২৭ দিন পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হুজাইফার চাচা শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “আপনারা সবাই আমার ভাতিজির জন্য দোয়া করবেন।” গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে অবস্থানকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে হুজাইফার মাথায় লাগে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় জানান, অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকির কারণে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। কেবল মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৩ জানুয়ারি শিশুটিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হুজাইফার পরিবার জানায়, ঘটনার আগের রাতে সীমান্তের ওপারে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় শিশুটি বাইরে বের হলে আবারও...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়, একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়, একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী দলের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নির্বাচন শেষে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তাদের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তারা সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছে। যদিও ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল, তবে এবার সেই জোট পুনরায় গঠনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছেন তারেক রহমান। তারেক...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

হাদি হত্যা তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার

হাদি হত্যা তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার। ছবিঃসংগৃহীত

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিক পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে যমুনা ঘিরে সংঘর্ষে গুলির ব্যবহার হয়নি বলে দাবি সরকারের। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে পরিচালনার দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠানো হবে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরুতে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি। তবে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কোনো ধরনের গুলি বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে সরকার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ভোলার মনপুরায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১০

ভোলার মনপুরায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১০, দৌলতখানে নারী কর্মী হেনস্তার অভিযোগ। ছবিঃসংগৃহীত

ভোলার মনপুরা উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচনী গণসংযোগের সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই দলের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি আব্দুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির নেতা–কর্মীরা বাধা দেন। পরে সংঘর্ষে জামায়াতের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। অন্যদিকে মনপুরা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামাল উদ্দিন দাবি করেন, ভোট চাওয়ার নামে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে বিএনপির পাঁচ নেতা–কর্মী আহত হন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ফরাজি বলেন, একটি বাড়িতে ভোট চাইতে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং নৌবাহিনীও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

পাচার হওয়া ২৩৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত আনার জন্য বিশেষ আইন করতে যাচ্ছে সরকার ।

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গত ১৫ বছরে দেশের বাইরে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশেষ একটি আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। খুব শিগগির অধ্যাদেশ আকারে এই আইনটি কার্যকর হবে।

আজ সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ২০০৯ থেকে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে। এই টাকা উদ্ধারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হবে।

প্রেস সচিব বলেন, এই টাকা ফেরত আনার জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১১ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। টাস্কফোর্স এবং অন্যান্য সংস্থা পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে তৎপর রয়েছে এবং বৈঠকে এই বিষয়ক অগ্রগতির খতিয়ান নেওয়া হয়েছে।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে বিশেষ আইন তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে ২০০টি আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, তবে ৩০টির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হতে যাচ্ছে।

প্রেস সচিব আরও জানান, আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে এই আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নেবে।