০৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ: রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া অপরাধ”

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার কমে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে গুতেরেস বলেন, তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি কখনো এমন একটি জনগণকে এত বেশি বৈষম্য সহ্য করতে দেখিনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলে গেছে। সহায়তা কমে যাওয়া একটি অপরাধ।”

গুতেরেস পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ করেছে, কিন্তু মানবিক সহায়তা সারা পৃথিবীতে কমে যাচ্ছে।” তিনি বাংলাদেশের প্রতি তার গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “জাতিসংঘ বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য অভূতপূর্ব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা জনগণের প্রতি অত্যন্ত দানশীল হয়েছে।”

অধ্যাপক ইউনুস, জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনার সফর শুধু রোহিঙ্গাদের জন্যই নয়, বাংলাদেশের জন্যও সময়োপযোগী।” তিনি বলেন, “এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও দৃঢ় সমর্থন আশা করছি।”

এ সময়, জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আমি আমাদের সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি জানাতে চাই। আপনার উন্নতির জন্য শুভকামনা জানাই। আমরা যা কিছু করতে পারি, আমাদের জানাবেন।”

গুতেরেস আশা প্রকাশ করেন, এসব সংস্কার আগামী দিনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে পরিচালিত করবে এবং বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান, সিনিয়র সচিব লামিয়া মর্শেদ, জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব রাবাব ফাতিমা এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুইন লুইস।

ট্যাগ

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক। ছবিঃসংগৃহীত

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার গড়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজের দুই প্রতিষ্ঠান SpaceX ও xAI-কে একীভূত করেছেন ধনকুবের উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার SpaceX-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই একীভূতকরণের ঘোষণা দেন। টেসলার সিইও ইলন মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও শীতলকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা পৃথিবীতে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, সূর্যের অফুরন্ত শক্তি কাজে লাগাতে সক্ষম মহাকাশ-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারই এআই-এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। মাস্ক লিখেছেন, “দীর্ঘমেয়াদে মহাকাশ-ভিত্তিক এআই ছাড়া বড় পরিসরে এআই সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। সূর্যের শক্তির মাত্র এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করলেও তা আমাদের বর্তমান সভ্যতার ব্যবহৃত শক্তির তুলনায় প্রায় দশ লক্ষ গুণ বেশি।” তিনি আরও বলেন, “এই বিপুল সম্পদ-নির্ভর কার্যক্রমকে এমন জায়গায় স্থানান্তর করাই যুক্তিসংগত, যেখানে শক্তি ও জায়গার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।” তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই এআই কম্পিউটিংয়ের সবচেয়ে কম খরচের জায়গা হয়ে উঠবে মহাকাশ। SpaceX ও xAI-এর এই একীভূতকরণে মাস্কের মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প একই ছাতার নিচে চলে এলো। SpaceX বর্তমানে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেট কর্মসূচি পরিচালনা করছে, আর xAI পরিচিত এআই-চালিত Grok চ্যাটবট তৈরির জন্য। গত বছর xAI সামাজিক...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু

যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু। ছবিঃসংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠায় এই আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওমান ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে, ফলে এবারও দেশটি আলোচনার জন্য নিরপেক্ষ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। ইরান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো পারমাণবিক ইস্যুতে একটি “ন্যায়সঙ্গত, উভয় পক্ষের জন্য সন্তোষজনক ও সম্মানজনক চুক্তি” অর্জন করা। তার ভাষায়, তেহরান এমন একটি সমাধান চায় যা ইরানের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় স্বার্থকে সম্মান করবে। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবসহ একাধিক বিষয় আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছে। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে ইরান, যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরোক্ষ আলোচনা সফল হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমানোর পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে মতপার্থক্য গভীর হওয়ায় দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মেঘালয়ে অবৈধ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৮

মেঘালয়ে অবৈধ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৮; আটকা আরও অনেকে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের একটি অবৈধ কয়লা খনিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার থাংস্কু এলাকার মিনসিঙ্গাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, খনিটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং বিস্ফোরণের সময় সেখানে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই প্রতিবেশী রাজ্য আসামের শ্রমিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানান, “এখন পর্যন্ত ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খনির ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে আরও কেউ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে খনিটি অবৈধ বলে মনে হচ্ছে এবং বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর খনি থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের আতঙ্কিত অবস্থায় ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে অন্তত একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পরে শিলং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

সুদানে সামরিক হাসপাতালে বোমা হামলা, চিকিৎসকসহ নিহত ২২

সুদানে সামরিক হাসপাতালে আরএসএফের বোমা হামলা, চিকিৎসকসহ নিহত ২২

উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানের দক্ষিণ কুরদোফান রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে একটি সামরিক হাসপাতালে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর চালানো ওই হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কুরদোফান রাজ্যের আল-কুয়েইক সামরিক হাসপাতালে এই বোমা হামলা চালানো হয়। এক বিবৃতিতে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানায়, হামলায় হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টরসহ আরও তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো হামলা একটি সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসা স্থাপনার সুরক্ষা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দক্ষিণ কুরদোফানজুড়ে ধারাবাহিক হামলার কারণে একাধিক হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ইতোমধ্যে ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য অবশিষ্ট স্বাস্থ্যসেবাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এই হামলার জন্য আরএসএফকে সম্পূর্ণ দায়ী করে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে চিকিৎসা স্থাপনাগুলোর ওপর পুনরাবৃত্ত হামলা বন্ধ করা যায়। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আরএসএফের...

আরো পড়ুন
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

“জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ: রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া অপরাধ”

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:২৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার কমে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে গুতেরেস বলেন, তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি কখনো এমন একটি জনগণকে এত বেশি বৈষম্য সহ্য করতে দেখিনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলে গেছে। সহায়তা কমে যাওয়া একটি অপরাধ।”

গুতেরেস পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ করেছে, কিন্তু মানবিক সহায়তা সারা পৃথিবীতে কমে যাচ্ছে।” তিনি বাংলাদেশের প্রতি তার গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “জাতিসংঘ বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য অভূতপূর্ব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা জনগণের প্রতি অত্যন্ত দানশীল হয়েছে।”

অধ্যাপক ইউনুস, জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনার সফর শুধু রোহিঙ্গাদের জন্যই নয়, বাংলাদেশের জন্যও সময়োপযোগী।” তিনি বলেন, “এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও দৃঢ় সমর্থন আশা করছি।”

এ সময়, জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আমি আমাদের সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি জানাতে চাই। আপনার উন্নতির জন্য শুভকামনা জানাই। আমরা যা কিছু করতে পারি, আমাদের জানাবেন।”

গুতেরেস আশা প্রকাশ করেন, এসব সংস্কার আগামী দিনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে পরিচালিত করবে এবং বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান, সিনিয়র সচিব লামিয়া মর্শেদ, জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব রাবাব ফাতিমা এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুইন লুইস।