০৬:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনকে যাবজ্জীবন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-ই-বাংলা হলে আবরার ফাহাদ নামের ২১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং চাঞ্চল্যকর, যা বাংলাদেশের সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনের মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষ করে ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করে।

এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে, যারা আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিষয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে নির্যাতন চালায়। হত্যার কারণ হিসেবে আবরারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি একটি মেসেজ শেয়ার করেছিলেন যা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এটি তার উপর অমানবিক নির্যাতনের কারণ হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার আগে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছিল।

মামলার বিচারিক পর্যায়:

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। বিচারক তার রায়ে বলেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আবরারকে হত্যা করেছে এবং এটি ছিল একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।

আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড:

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে বুয়েট ছাত্রলীগের বিভিন্ন শীর্ষ নেতা-কর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন:

  • মেহেদী হাসান রাসেল (সাধারণ সম্পাদক, সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ),
  • মেহেদী হাসান রবিন (সাংগঠনিক সম্পাদক, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ),
  • অনিক সরকার অপু (তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ),
  • মনিরুজ্জামান মনির (সাহিত্য সম্পাদক, ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ),
  • মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (ক্রীড়া সম্পাদক, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ),
  • ইফতি মোশাররফ সকাল (উপসমাজসেবা সম্পাদক, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ),
    এছাড়া আরও অনেক ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন যারা এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে প্রমাণিত হয় যে তারা আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, যা তাকে শ্বাসরোধে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা:
এদের মধ্যে ছিলেন:

  • মুহতাসিম ফুয়াদ (সহ-সভাপতি, সিই বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ),
  • ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ),
  • অমিত সাহা (আইনবিষয়ক উপসম্পাদক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং),
  • আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ),
  • মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

এ মামলায় ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয় এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। এই রায়ের সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে বি রুমি, জহিরুল ইসলাম সুমন, নূর মোহাম্মদ আজমী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মাসুদ হাসান চৌধুরী ও আজিজুর রহমান দুলু।

হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, গত বছর অক্টোবর মাসে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শুনানির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আদালতের নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।

ট্যাগ

মোসাদের গুপ্তচর ছিলেন এপস্টিন—এফবিআই নথির দাবি

মোসাদের গুপ্তচর ছিলেন এপস্টিন—এফবিআই নথির দাবি। ছবিঃসংগৃহীত

কুখ্যাত ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন গুপ্তচর ছিলেন—এমন বিস্ফোরক দাবি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর একটি গোপন নথিতে। ২০২০ সালের ওই নথিটি সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এপস্টিন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে জনসমক্ষে এসেছে। এফবিআই নথিটি একটি গোপনীয় মানবীয় সূত্র (Confidential Human Source – CHS)-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। নথিতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দেশীয় ও বিদেশি অনভিপ্রেত প্রভাব নিয়ে তথ্য থাকলেও, সেখানে এপস্টিনের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কিত বিস্তৃত বিবরণ উঠে আসে। নথি অনুযায়ী, এপস্টিন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সূত্রটি দাবি করেছে, বারাকের বিভিন্ন ব্যক্তিগত আলাপচারিতা শোনার পর তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে এপস্টিন মূলত মোসাদের একজন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। সূত্রটি আরও জানায়, এপস্টিন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক অ্যালান ডারশোভিটজ-এর মধ্যে হওয়া একাধিক ফোনালাপ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন এবং এসব কথোপকথনের বিস্তারিত নোট রাখা হতো। অভিযোগ রয়েছে, ওই তথ্যগুলো পরবর্তীতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে পাঠানো হতো। এফবিআইয়ের নথিতে দাবি করা হয়, ডারশোভিটজ একাধিকবার বলেছেন যে, “এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।” একই সঙ্গে সূত্রটি দাবি করেছে, ডারশোভিটজ নিজেও মোসাদের সুবিধাভোগী ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। উল্লেখ্য, অ্যালান ডারশোভিটজ একজন অত্যন্ত বিতর্কিত আইনজীবী...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ইরান চুক্তি করতে মরিয়া, দাবি ট্রাম্পের

ইরান চুক্তি করতে মরিয়া, দাবি ট্রাম্পের; আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকের ইঙ্গিত। ছবিঃ বিবিসি

ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার গতিপ্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে—ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী, এমনকি মরিয়াও। সম্প্রতি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার পর এই প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত মার-এ-লাগো রিসোর্টে ভ্রমণের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। খবর জানিয়েছে বিবিসি ও টাইমস অব ইসরায়েল। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমাদের দেখতে হবে চুক্তিটি আসলে কোন পর্যায়ে আছে। আমার মনে হয় ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে খুবই আগ্রহী, যেমনটি তাদের হওয়া উচিত। আগেরবার তারা চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এবার তারা তাদের মন পরিবর্তন করেছে বলে মনে হচ্ছে। চুক্তিটি অবশ্যই আগের চেয়ে আলাদা হবে।” তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল নৌবহর ও শক্তিশালী নৌবাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে। “আমরা দেখব পরিস্থিতি কোন দিকে যায়,”—যোগ করেন তিনি। চুক্তির বিষয়ে কতদিন অপেক্ষা করবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের হাতে অনেক সময় আছে। ভেনেজুয়েলার কথা মনে করুন—সেখানে আমরা অপেক্ষা করেছি, আমাদের কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না।” ট্রাম্প জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও বৈঠক হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “চুক্তি না করার পরিণতি কী হতে পারে, তা আপনারা জানেন। পরিণতি স্পষ্ট। আমরা দেখব কী হয়।” চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে কথা...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক। ছবিঃসংগৃহীত

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার গড়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজের দুই প্রতিষ্ঠান SpaceX ও xAI-কে একীভূত করেছেন ধনকুবের উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার SpaceX-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই একীভূতকরণের ঘোষণা দেন। টেসলার সিইও ইলন মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও শীতলকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা পৃথিবীতে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, সূর্যের অফুরন্ত শক্তি কাজে লাগাতে সক্ষম মহাকাশ-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারই এআই-এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। মাস্ক লিখেছেন, “দীর্ঘমেয়াদে মহাকাশ-ভিত্তিক এআই ছাড়া বড় পরিসরে এআই সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। সূর্যের শক্তির মাত্র এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করলেও তা আমাদের বর্তমান সভ্যতার ব্যবহৃত শক্তির তুলনায় প্রায় দশ লক্ষ গুণ বেশি।” তিনি আরও বলেন, “এই বিপুল সম্পদ-নির্ভর কার্যক্রমকে এমন জায়গায় স্থানান্তর করাই যুক্তিসংগত, যেখানে শক্তি ও জায়গার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।” তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই এআই কম্পিউটিংয়ের সবচেয়ে কম খরচের জায়গা হয়ে উঠবে মহাকাশ। SpaceX ও xAI-এর এই একীভূতকরণে মাস্কের মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প একই ছাতার নিচে চলে এলো। SpaceX বর্তমানে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেট কর্মসূচি পরিচালনা করছে, আর xAI পরিচিত এআই-চালিত Grok চ্যাটবট তৈরির জন্য। গত বছর xAI সামাজিক...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু

যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু। ছবিঃসংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠায় এই আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওমান ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে, ফলে এবারও দেশটি আলোচনার জন্য নিরপেক্ষ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। ইরান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো পারমাণবিক ইস্যুতে একটি “ন্যায়সঙ্গত, উভয় পক্ষের জন্য সন্তোষজনক ও সম্মানজনক চুক্তি” অর্জন করা। তার ভাষায়, তেহরান এমন একটি সমাধান চায় যা ইরানের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় স্বার্থকে সম্মান করবে। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবসহ একাধিক বিষয় আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছে। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে ইরান, যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরোক্ষ আলোচনা সফল হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমানোর পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে মতপার্থক্য গভীর হওয়ায় দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো...

আরো পড়ুন
জনপ্রিয় সংবাদ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনকে যাবজ্জীবন।

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-ই-বাংলা হলে আবরার ফাহাদ নামের ২১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং চাঞ্চল্যকর, যা বাংলাদেশের সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনের মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষ করে ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করে।

এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে, যারা আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিষয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে নির্যাতন চালায়। হত্যার কারণ হিসেবে আবরারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি একটি মেসেজ শেয়ার করেছিলেন যা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এটি তার উপর অমানবিক নির্যাতনের কারণ হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার আগে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছিল।

মামলার বিচারিক পর্যায়:

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। বিচারক তার রায়ে বলেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আবরারকে হত্যা করেছে এবং এটি ছিল একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।

আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড:

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে বুয়েট ছাত্রলীগের বিভিন্ন শীর্ষ নেতা-কর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন:

  • মেহেদী হাসান রাসেল (সাধারণ সম্পাদক, সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ),
  • মেহেদী হাসান রবিন (সাংগঠনিক সম্পাদক, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ),
  • অনিক সরকার অপু (তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ),
  • মনিরুজ্জামান মনির (সাহিত্য সম্পাদক, ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ),
  • মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (ক্রীড়া সম্পাদক, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ),
  • ইফতি মোশাররফ সকাল (উপসমাজসেবা সম্পাদক, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ),
    এছাড়া আরও অনেক ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন যারা এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে প্রমাণিত হয় যে তারা আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, যা তাকে শ্বাসরোধে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা:
এদের মধ্যে ছিলেন:

  • মুহতাসিম ফুয়াদ (সহ-সভাপতি, সিই বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ),
  • ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ),
  • অমিত সাহা (আইনবিষয়ক উপসম্পাদক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং),
  • আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ),
  • মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

এ মামলায় ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয় এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। এই রায়ের সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে বি রুমি, জহিরুল ইসলাম সুমন, নূর মোহাম্মদ আজমী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মাসুদ হাসান চৌধুরী ও আজিজুর রহমান দুলু।

হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, গত বছর অক্টোবর মাসে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শুনানির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আদালতের নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।