০৫:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৭ রমজান: বদর যুদ্ধের ঐতিহাসিক দিন।

ইতিহাসের পাতায় ১৭ রমজান একটি অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। এই দিনে, হিজরী ২ সালের ১৭ তারিখে, মুসলমানদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছিল বদর যুদ্ধের মাধ্যমে। বদর যুদ্ধ ছিল কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়; এটি ছিল সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত পরীক্ষা, ঈমান ও কুফরের মধ্যকার প্রথম মুখোমুখি সংঘর্ষ।

মক্কার কাফিররা ইসলামের বিস্তার ঠেকানোর জন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড নির্যাতন চালাচ্ছিল। কিন্তু ১৭ রমজানে, আল্লাহ তায়ালার সাহায্যে, মুসলমানরা বদর যুদ্ধের ময়দানে হাজির হয়ে নিজেদের ঈমান ও সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে যান।

এ যুদ্ধের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের বিজয়ের সুসংবাদ দেন। বদরের বিজয় ছিল ইসলামের ইতিহাসের একটি অন্যতম মাইলফলক, যা মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস ও ঈমানকে মজবুত করে তোলে।

বদর যুদ্ধের বিজয় ইসলামের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, মুসলমানদের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে। এটি শুধু একটি সামরিক বিজয় ছিল না, বরং ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের ঈমান ও বিশ্বাসের এক মহামূল্যবান পুরস্কার।

১৭ রমজান, বদর যুদ্ধের মাধ্যমে, আজও মুসলমানদের কাছে একটি প্রেরণাদায়ী দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে, যা তাদের সাহস, দৃঢ়তা এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ট্যাগ

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মিনা, শুরু হলো হজের প্রথম দিন

মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে আজ (৭ জিলহজ, মঙ্গলবার) শুরু হলো পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মিনায় পৌঁছাতে শুরু করেছেন। মিনার উপত্যকা মুখরিত হয়ে উঠেছে “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনিতে। নিয়ম অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম বা নিজ নিজ আবাসন থেকে ইহরাম বেঁধে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে মিনার উদ্দেশে রওনা হন হাজিরা। সৌদি আরবের হজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় চার লক্ষাধিক মুসল্লি মিনায় অবস্থান করছেন। হজের নিয়ম অনুযায়ী, মিনায় রাত্রিযাপন শেষে আগামী ৯ জিলহজ (৫ জুন, বৃহস্পতিবার) আরাফাতের ময়দানে যাবেন হাজিরা, যেখানে প্রদান করা হবে হজের ঐতিহাসিক খুতবা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের খুতবা প্রদান করবেন সৌদি আরবের প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শেখ সালেহ বিন হুমাইদ। তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, আরাফাতে অবস্থান করাকেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে গণ্য করা হয়। সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফার পথে। সেখানে রাত যাপন ও রমি (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ) এর জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ, ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা ফিরে আসবেন মিনায়। সেদিনই অনুষ্ঠিত হবে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, দমে শোকর বা কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা, কাবা শরিফে তওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া সায়ি। এরপর তারা পুনরায় মিনায় ফিরে আসবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

সদাকাতুল ফিতর: ঈদের পূর্বে আদায় করা জরুরি ও উত্তম

সদাকাতুল ফিতর ঈদুল ফিতরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা রোজাদারের পবিত্রতা ও গরীব-দুঃখীদের জন্য খাদ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে ফরজ করা হয়েছে। ইসলামিক শরিয়তে এটি একটি ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হয়, এবং সঠিক সময়ে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সদাকাতুল ফিতর আদায়ের উত্তম সময় হলো ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখার পর থেকে ঈদগাহে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। তবে, এর আগেও ফিতরা আদায় করা সম্ভব, যা গরীবদের সুবিধার জন্য আরও উত্তম। কোনো কারণে যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিতরা আদায় করতে না পারেন, তবে এটি পরবর্তীতে আদায় করা আবশ্যক। হাদিসের নির্দেশনা হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন: فَرَضَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصّائِمِ مِنَ اللّغْوِ وَالرّفَثِ، وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ، مَنْ أَدّاهَا قَبْلَ الصّلَاةِ، فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ، وَمَنْ أَدّاهَا بَعْدَ الصّلَاةِ، فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصّدَقَاتِ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাকাতুল ফিতরের বিধান দিয়েছেন—রোজাদারকে অশ্লীল ও অবাঞ্ছিত কথা থেকে পবিত্র করার জন্য এবং গরীবদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পূর্বে সদাকাতুল ফিতর আদায় করবে, তার জন্য তা মাকবুল সদকা হবে। আর নামাজের পর আদায় করলে তা অন্যান্য সদকার মতো হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৬০৯) সদাকাতুল ফিতর রোজার পবিত্রতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গরীবদের জন্য ঈদের দিনে খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে। এ কারণে ঈদের নামাজের পূর্বে ফিতরা দেওয়া মুস্তাহাব এবং...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

লাইলাতুল কদর: আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের উপায় ।

লাইলাতুল কদর (যা "শাহরুল কদর" বা "নির্ধারিত রাত্রি" হিসেবে পরিচিত) হলো ইসলামের এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ রাত, যা রমজান মাসের শেষ দশ দিন (বিশেষত ২৭তম রাত্রি) পাওয়া যায়। এই রাতে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে অনেক রহমত ও মাগফিরাত (ক্ষমা) বর্ষণ করেন এবং সারা বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। মুসলিমরা এই রাতে বিশেষ ইবাদত ও আমল করে থাকে। লাইলাতুল কদরে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল বা কাজ: ১. নফল নামাজ (তাহজুদ নামাজ) পড়া লাইলাতুল কদরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রাতভর নফল নামাজ পড়া (তাহজুদ)। এটি আল্লাহর কাছে দোয়া, প্রার্থনা এবং ক্ষমা চাওয়ার একটি অত্যন্ত সেরা মাধ্যম। হাদীসে এসেছে: "যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ইবাদত করবে ইমান ও ইহতিসাবের সাথে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" (বুখারি, মুসলিম) ২. দোয়া ও আযকার করা এই রাতে আল্লাহ তাআলা সর্বাধিক ক্ষমাশীল। তাই মুসলমানরা বেশি বেশি দোয়া করতে থাকেন। বিশেষ করে উম্মুল মুসলিমিন হাদীস অনুযায়ী, "اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني" (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুও তুহিব্বুল আফা ফাআফু আন্নি) - "হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।" এই দোয়া বিশেষভাবে লাইলাতুল কদরে পাঠ করা হয়। ৩. কুরআন তিলাওয়াত করা কুরআন তিলাওয়াত করা হলো লাইলাতুল কদরের একটি বড় আমল। এই রাতে কুরআন পড়া বিশেষভাবে পুরস্কৃত হয় এবং এক আয়াতের জন্য এক পাহাড়ের মতো সওয়াব পাওয়া...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

সেনাবাহিনী প্রধান আহত ছাত্রদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে মিলিত।

২৩ মার্চ ২০২৫ (রবিবার): আজ সন্ধ্যায় ঢাকা সেনানিবাসস্থ সেনামালঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মানে এক ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি। তিনি আহত ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, ইফতার ও নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বেসামরিক পরিমণ্ডলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উপস্থিত আহতদের ঈদ উপহার প্রদান করা হয়। উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত মোট ৪২১৫ জন ছাত্র-ছাত্রীকে দেশের বিভিন্ন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে, এর মধ্যে ৯৮৯ জনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে, ৩৯ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএমএইচ, ঢাকা'তে রয়েছেন।

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

১৭ রমজান: বদর যুদ্ধের ঐতিহাসিক দিন।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

ইতিহাসের পাতায় ১৭ রমজান একটি অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। এই দিনে, হিজরী ২ সালের ১৭ তারিখে, মুসলমানদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছিল বদর যুদ্ধের মাধ্যমে। বদর যুদ্ধ ছিল কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়; এটি ছিল সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত পরীক্ষা, ঈমান ও কুফরের মধ্যকার প্রথম মুখোমুখি সংঘর্ষ।

মক্কার কাফিররা ইসলামের বিস্তার ঠেকানোর জন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড নির্যাতন চালাচ্ছিল। কিন্তু ১৭ রমজানে, আল্লাহ তায়ালার সাহায্যে, মুসলমানরা বদর যুদ্ধের ময়দানে হাজির হয়ে নিজেদের ঈমান ও সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে যান।

এ যুদ্ধের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের বিজয়ের সুসংবাদ দেন। বদরের বিজয় ছিল ইসলামের ইতিহাসের একটি অন্যতম মাইলফলক, যা মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস ও ঈমানকে মজবুত করে তোলে।

বদর যুদ্ধের বিজয় ইসলামের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, মুসলমানদের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে। এটি শুধু একটি সামরিক বিজয় ছিল না, বরং ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের ঈমান ও বিশ্বাসের এক মহামূল্যবান পুরস্কার।

১৭ রমজান, বদর যুদ্ধের মাধ্যমে, আজও মুসলমানদের কাছে একটি প্রেরণাদায়ী দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে, যা তাদের সাহস, দৃঢ়তা এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে থাকবে।