১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে কমিশনের সুপারিশ: একাধিক প্রস্তাবনা উত্থাপন ।

ঢাকা: গণমাধ্যম খাতে সংস্কার বিষয়ে কমিশন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা দিয়েছে। কমিশনের প্রধান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদ আজ (শনিবার) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এক ব্রিফিংয়ে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

কামাল আহমেদ জানান, একটি প্রতিষ্ঠান একটিমাত্র গণমাধ্যমের মালিক হতে পারবে—এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটি “ওয়ান হাউস, ওয়ান মিডিয়া” নীতির আওতায় রয়েছে। এছাড়া বাসসকে জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার সাথে একীভূত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারকে স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে এবং দুটি প্রতিষ্ঠান মিলে একটি নতুন জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা গঠন করতে হবে।

সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশের জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হবে। শিক্ষানবিশ হিসেবে এক বছর কাজ করার পর সাংবাদিকরা প্রমোশন পাবেন। এছাড়া, সাংবাদিকদের বেতন বিসিএস ক্যাডারদের বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। ঢাকায় ‘ঢাকা ভাতা’ দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে একটি “সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইন” তৈরির প্রস্তাব করেছে। এই আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

কামাল আহমেদ অভিযোগ করেন, গণমাধ্যম খাতে কালো টাকা ঢুকেছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বেশিরভাগ টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকানা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৬০০ পত্রিকা সরকারি বিজ্ঞাপন পাওয়ার যোগ্য হলেও, বাস্তবে মাত্র ৫২টি পত্রিকা প্রকৃতপক্ষে প্রকাশিত হয়।

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্সের প্রতিনিধি অঞ্জন চৌধুরী, নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সচিব আখতার হোসেন খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ এবং অন্যান্য সাংবাদিক ও প্রতিনিধি।

ট্যাগ

ইতিহাসের আলো: একই পরিবারের তিন রাষ্ট্রনেতা

ইতিহাসের আলো: একই পরিবারের তিন রাষ্ট্রনেতা

রাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু পরিবার আছে, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। কখনও গণতান্ত্রিক ভোটে, কখনও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সূত্রে—একই পরিবারের একাধিক সদস্য রাষ্ট্রনেতা হয়েছেন। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ তুলে ধরা হলো। ১. নেহরু–গান্ধী পরিবার – ভারত ভারতের রাজনীতিতে নেহরু–গান্ধী পরিবার একটি প্রভাবশালী নাম। জওহরলাল নেহরু – স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী – নেহরুর কন্যা, ভারতের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী – ইন্দিরা গান্ধীর পুত্র, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই তিনজনই আলাদা সময়ে ভারতের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২. ভুট্টো পরিবার – পাকিস্তান পাকিস্তানের রাজনীতিতেও একই পরিবারের একাধিক সদস্য রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছেন। জুলফিকার আলি ভুট্টো – প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো – তার কন্যা, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী আসিফ আলি জারদারি – বেনজির ভুট্টোর স্বামী, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ৩. কিম পরিবার – উত্তর কোরিয়া উত্তর কোরিয়ায় তিন প্রজন্ম ধরে একই পরিবার রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। কিম ইল-সুং – রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতা ও সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-ইল – তার পুত্র কিম জং-উন – বর্তমান নেতা এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক শাসনের একটি উদাহরণ। ৪. জিয়া পরিবার – বাংলাদেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতেও জিয়া পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জিয়াউর রহমান – বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং সামরিক খালেদা জিয়া – স্ত্রী, দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জিয়াউর রহমানের ছেলে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

এআই কনটেন্ট ইস্যুতে X–Meta–TikTok-এর বিরুদ্ধে স্পেনের তদন্ত

এআই কনটেন্ট ইস্যুতে X–Meta–TikTok-এর বিরুদ্ধে স্পেনের তদন্ত

এআই-তৈরি শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম X, Meta ও TikTok–এর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্পেন সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Pedro Sánchez জানিয়েছেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় প্রযুক্তি জায়ান্টদের ‘দণ্ডমুক্তি’ আর চলবে না। মঙ্গলবার নিজের X অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। রাষ্ট্র এটি মেনে নিতে পারে না। এই প্রযুক্তি জায়ান্টদের দণ্ডমুক্তির অবসান ঘটাতে হবে।” সরকারের পক্ষ থেকে প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউরোপজুড়ে যখন বিগ টেক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ বাড়ছে—ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণ এবং সামাজিক মাধ্যমে আসক্তিমূলক ফিচার তৈরির অভিযোগসহ—ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে স্পেনের এ পদক্ষেপ এলো। এ মাসের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমকে “ডিজিটাল ওয়াইল্ড ওয়েস্ট” হিসেবে বর্ণনা করেন। বর্তমানে Facebook ও TikTok–এর মতো প্ল্যাটফর্মে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৩ বছর। এ প্রস্তাব ঘিরে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। X–এর মালিক Elon Musk সানচেজকে “স্পেনের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক” বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে Telegram–এর প্রতিষ্ঠাতা Pavel Durov দাবি করেন, এসব উদ্যোগ প্রকৃত সুরক্ষা নয়, বরং “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ। Ipsos Education Monitor 2025–এর এক জরিপে দেখা গেছে, স্পেনে ১৪...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

পারমাণবিক আলোচনা চললেও কড়া বার্তা খামেনির, ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ দাবি নাকচ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা চললেও কড়া বার্তা খামেনির, ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ দাবি নাকচ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা এগোলেও কড়া অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের মার্কিন দাবি ‘মূর্খতাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট জানান, এমন শর্তে কোনো বাস্তব আলোচনা সম্ভব নয়। খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে ফলাফল হিসেবে ইরানকে পারমাণবিক শক্তি ত্যাগ করতে বলছে—যা পরস্পরবিরোধী। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ওয়াশিংটন তেহরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে, তবে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি ইরানে সরকার পরিবর্তন “সর্বোত্তম ঘটনা” হতে পারে—এমন মন্তব্যেরও জবাব দেন খামেনি। তবে একই দিনে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, আলোচনায় “গুরুতর ও গঠনমূলক” মতবিনিময় হয়েছে এবং সম্ভাব্য চুক্তির কিছু ‘নির্দেশক নীতি’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তার ভাষ্য, “শেষ পর্যন্ত একটি নথি প্রণয়ন করা হবে—আমরা আশাবাদী।” ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই পরোক্ষ সংলাপে তেহরানের মূল লক্ষ্য ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রত্যাহারের পর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের ভেতরে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরান এসব শর্তকে ‘লাল রেখা’ অতিক্রম বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বরং তারা ইউরেনিয়াম পাতলা করা এবং সম্ভাব্য চুক্তির অর্থনৈতিক সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার করার প্রস্তাব দিয়েছে।...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মহড়ার অজুহাতে হরমুজ প্রণালী সাময়িক বন্ধ করল ইরান

মহড়ার অজুহাতে হরমুজ প্রণালী সাময়িক বন্ধ করল ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর লাইভ মহড়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মহড়া শেষ হলে প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হলেও কবে তা শেষ হবে— সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি। হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে অতিক্রম করে। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির প্রধান রুট এটি। ফলে প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার ঘোষণাই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহড়াটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ। তবে সামরিক মহড়ার কারণে সরাসরি এমন একটি কৌশলগত জলপথ বন্ধের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন বার্তা বহন করে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান তার কৌশলগত অবস্থান এবং প্রভাব স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে। সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, বুধবার থেকে রোজা এদিকে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে কমিশনের সুপারিশ: একাধিক প্রস্তাবনা উত্থাপন ।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:২৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

ঢাকা: গণমাধ্যম খাতে সংস্কার বিষয়ে কমিশন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা দিয়েছে। কমিশনের প্রধান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদ আজ (শনিবার) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এক ব্রিফিংয়ে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

কামাল আহমেদ জানান, একটি প্রতিষ্ঠান একটিমাত্র গণমাধ্যমের মালিক হতে পারবে—এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটি “ওয়ান হাউস, ওয়ান মিডিয়া” নীতির আওতায় রয়েছে। এছাড়া বাসসকে জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার সাথে একীভূত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারকে স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে এবং দুটি প্রতিষ্ঠান মিলে একটি নতুন জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা গঠন করতে হবে।

সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশের জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হবে। শিক্ষানবিশ হিসেবে এক বছর কাজ করার পর সাংবাদিকরা প্রমোশন পাবেন। এছাড়া, সাংবাদিকদের বেতন বিসিএস ক্যাডারদের বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। ঢাকায় ‘ঢাকা ভাতা’ দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে একটি “সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইন” তৈরির প্রস্তাব করেছে। এই আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

কামাল আহমেদ অভিযোগ করেন, গণমাধ্যম খাতে কালো টাকা ঢুকেছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বেশিরভাগ টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকানা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৬০০ পত্রিকা সরকারি বিজ্ঞাপন পাওয়ার যোগ্য হলেও, বাস্তবে মাত্র ৫২টি পত্রিকা প্রকৃতপক্ষে প্রকাশিত হয়।

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্সের প্রতিনিধি অঞ্জন চৌধুরী, নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সচিব আখতার হোসেন খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ এবং অন্যান্য সাংবাদিক ও প্রতিনিধি।