
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘৫ শ্রেণীর মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (তারা হলো) ১,মাদকসক্ত ২ যাদুর বৈধতায় বিশ্বাসী,৩ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, ৪ জ্যোতিশ ব্যক্তি।’ ৫,”খোটা দেওয়া ব্যক্তি
০১ * নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,মাদকসক্ত বা মদ্যপায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে না, মাদকসক্ত বা মদ্যপায়ী ইসলামে একটি গম্ভীর গুনাহ (পাপ), এবং এটি মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ। ইসলামে মদ্যপান শরীর, মন, এবং আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এবং তা মানুষের বিবেক ও বিচারক্ষমতাকে প্রতিবন্ধক করে তোলে, যা সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক ক্ষতি তৈরি করতে পারে। মুসলিমদের জন্য মাদকসক্ত বা মদ্যপান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে, এবং যারা মদ্যপান থেকে তাওবা করে তাদের জন্য আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত রয়েছে।
০২ * নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যাদুর বৈধতায় বিশ্বাসী ব্যক্তিরা জান্নাতে প্রবেশ করবেন না, ইসলামে যাদু বিশ্বাস করা, যাদু করা বা অন্য কোনো ধরনের অশুভ শক্তির সাহায্য নেয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিক হাদীসে যাদু এবং তার বৈধতায় বিশ্বাস করার বিষয়টি নিষেধ করেছেন। যারা যাদুর প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং তার মাধ্যমে অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তারা ইসলামের সঠিক পথে চলতে পারে না এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
(সহীহ মুসলিম) ইসলামের দৃষ্টিতে, যাদু এক ধরনের শয়তানি কাজ, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে,
৩* ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা বা তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সাহায্য প্রদানের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:
“আর আল্লাহ বলেছিলেন, তোমরা সেই সম্পর্ক বজায় রেখো যা আমি তোমাদের মধ্যে স্থাপন করেছি…”
(সুরা মুহাম্মদ, ৪৭:২২)
তবে, যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে বা আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে না, তারা ইসলামে একটি বড় পাপ (গুনাহ) করেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম)
০৪,হ্যাঁ, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যারা জ্যোতিষশাস্ত্র বিশ্বাস করে এবং তা অনুসরণ করে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না ।
ইসলামে জ্যোতিষশাস্ত্র এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার প্রচেষ্টা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্বানুমান করতে জ্যোতিষশাস্ত্রের বা অন্য কোনো অশুদ্ধ মাধ্যমের সহায়তা নেয়, তাদের ঈমান এবং আধ্যাত্মিকতা বিপদে পড়ে।
একটি হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষী বা ভবিষ্যদ্বক্তাকে জিজ্ঞেস করে এবং তার কথা বিশ্বাস করে, সে আমার উপর (নির্ভর) ঈমান রাখে না।” (সহীহ মুসলিম)
০৫ নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “খোটা দেওয়া ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
এটি এমন একটি হাদীস খোটা দেওয়ার গুরুত্ব এবং এর পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে। খোটা দেওয়া বড় গুনাহ (পাপ) এবং এটি ইসলামের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে চলে। “খোটা দেওয়া মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আল্লাহর আইন এবং নৈতিকতা ভঙ্গ করে এবং তার ঈমানের ক্ষতি হয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“যে ব্যক্তি খোটা দেবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
(সহীহ মুসলিম)
তবে, যদি কেউ এর জন্য তাওবা করে এবং সত্যিকারের বিশ্বাস সহ আল্লাহর প্রতি ফিরে আসে, তবে আল্লাহ তাঁর ক্ষমা করবেন, কারণ তিনি পরম দয়ালু ও পরম ক্ষমাশীল।