০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন বাংলা নববর্ষ উদযাপন: বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির মিলন

 বাংলা নববর্ষ এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ২৩ মার্চ, রবিবার, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভার শেষে, জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফারুকী তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “চল্লিশ বছর ধরে কাজ করছি, এই প্রথম এরকম একটা সভায় আমন্ত্রণ পেলাম”, এমন একটি মন্তব্য করেন মাইলস ব্যান্ডের হামিন ভাই, নববর্ষ উদযাপন বিষয়ক প্রস্তুতি সভায়। তিনি বলেন, এবারের নববর্ষ উদযাপন গত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও উদার হবে।

এবছরের উদযাপনে একে অপরের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটবে। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা, যেমন গারো, মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, এবং অন্যান্যদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতিরও একটি সুসংহত রূপ দেখা যাবে। ফারুকী জানান, এবারের কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা শুধু ইনক্লুসিভই হবে না, এটি আরো কালারফুল, আরো মিউজিক্যাল হবে।

এছাড়া, চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে রক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চাকমা, গারো, মারমা ব্যান্ডের পাশাপাশি বাংলা ভাষায় গান গাওয়া বিখ্যাত ব্যান্ডগুলোও অংশ নেবে। বেসরকারি উদ্যোগে বাউল ও ফকিরি গান পরিবেশন করা হবে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, “সুরের ধারা” ও “ছায়ানট” এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এবার বাংলা গানের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের দিয়ে তাদের নিজস্ব ভাষায় গান পরিবেশন করবে।

ফারুকী আরো জানান, ১৪ এপ্রিল বিকালে মানিক মিয়া এভিনিউতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে এবং রাতে “জুলাই এবং নববর্ষ” নিয়ে ড্রোন শো আয়োজন করা হবে, যা চীন দূতাবাসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নববর্ষ উদযাপন শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকায় নয়, সারাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায়ও অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয় এ জন্য বরাদ্দ দ্বিগুণ করেছে এবং বিশেষ মনোযোগ থাকবে সেসব অঞ্চলে, যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জনগণ বসবাস করে। ফারুকী ব্যক্তিগতভাবে বান্দরবান ও শ্রীমঙ্গলে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

“চলো বাংলাদেশ, এক সাথে”, এই শ্লোগান নিয়ে এবার নববর্ষ উদযাপন হবে আরও সমন্বিত, সম্মানজনক এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ।

ট্যাগ

এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ: নাম আছে, প্রশ্নও আছে

এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ: নাম আছে, প্রশ্নও আছে

দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন আদালত-সংক্রান্ত নথি, যোগাযোগ তালিকা ও তদন্ত ফাইলে উঠে এসেছে বিশ্বের প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির নাম। এসব নথিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতি, ব্যবসা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের উল্লেখ পাওয়া গেছে, যা নতুন করে বিতর্ক ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় রাজনীতি ও ব্যবসা খাতে উল্লেখযোগ্য নামের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিল ক্লিনটন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও জন কেরি, সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ, প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা টেড কেনেডি এবং রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র। পাশাপাশি আছেন নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো, সাবেক অর্থমন্ত্রী ল্যারি সামার্স, বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী লিস উইক্সনার ও লিওন ব্ল্যাক। বিনোদন জগতেও এপস্টেইন সংযোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছে একাধিক পরিচিত নাম। তালিকায় আছেন পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন, হলিউড অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও, ক্যামেরন ডিয়াজ, ব্রুস উইলিস ও ক্রিস টাকার। এছাড়া যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আলোচিত হার্ভে ওয়াইনস্টাইন, অভিনেতা কেভিন স্পেসি এবং পরিচালক উডি অ্যালেনের নামও নথিতে দেখা গেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে উল্লেখ রয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক এবং মাইক্রোসফট সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের। অন্যদিকে আইন ও বিচার সংক্রান্ত অংশে এপস্টেইনের আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটজ এবং স্বয়ং জেফ্রি এপস্টেইনের নাম রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত নাম প্রিন্স অ্যান্ড্রু, যার বিরুদ্ধে এপস্টেইন-সংযোগ নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ ও আইনি বিতর্ক রয়েছে।...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ইতালিতে শিল্প, ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

ইতালিতে শিল্প, ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

ইতালিতে শিল্প ও রাজনীতির সংযোগ ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রোমের একটি গির্জায় সম্প্রতি সংস্কার করা একটি ম্যুরাল। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, ম্যুরালটিতে অঙ্কিত এক দেবদূতের মুখাবয়ব দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে অদ্ভুত রকমের মিল রয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ম্যুরালটি সম্প্রতি সংস্কারের পর প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নজরে আসে। ছবিতে দেবদূতের মুখের গঠন, চোখের অভিব্যক্তি ও সামগ্রিক অবয়ব প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ এটিকে নিছক কাকতালীয় বললেও, সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—একটি গির্জার ধর্মীয় শিল্পকর্মে সমসাময়িক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চেহারার প্রতিফলন কতটা গ্রহণযোগ্য। তবে ম্যুরালের সংস্কারের দায়িত্বে থাকা শিল্পী ব্রুনো ভ্যালেন্টিনেত্তি স্পষ্টভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে চিত্রিত করার কোনো ইচ্ছা বা প্রচেষ্টা করেননি। বরং তিনি ম্যুরালটিকে তার ঐতিহাসিক ও মূল রূপে ফিরিয়ে আনার কাজই করেছেন। শিল্পীর মতে, বর্তমান বিতর্ক মূলত অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যার ফল। বিতর্ক বাড়তে থাকায় ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ম্যুরালটির সংস্কারকাজের প্রকৃতি নির্ধারণ এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না—তা যাচাই করতে একটি পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন হলে “উপযুক্ত পদক্ষেপ” নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক শুধু একটি শিল্পকর্ম ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি ইতালিতে ধর্মীয় ঐতিহ্য, শিল্পের স্বাধীনতা এবং সমসাময়িক রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বড় প্রশ্ন...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ভিয়েতনামে কম খরচে আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল ট্যুরিজম

ভিয়েতনামে কম খরচে আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল ট্যুরিজম

ভিয়েতনামে মেডিকেল ট্যুরিজম বা চিকিৎসা পর্যটন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশটির দন্তচিকিৎসার খরচ রাশিয়া ও ইউরোপের তুলনায় অত্যন্ত কম। স্থানীয় এক দন্তচিকিৎসকের অফিসে দাঁত পরিষ্কার করা যায় মাত্র ৬০০ রুবেলে, আর গহ্বরের চিকিৎসার খরচ ১,০০০ রুবেল। একজন রাশিয়ান নারী এই মূল্যতালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই কম খরচ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, যদিও সেবার মান আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি। পর্যটকদের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ, পর্যাপ্ত সুবিধা এবং দক্ষ চিকিৎসক থাকার কারণে ভিয়েতনাম ধীরে ধীরে মেডিকেল ট্যুরিজমের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভিয়েতনামের মেডিকেল সিস্টেম মূলত হাইব্রিড, অর্থাৎ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মিশ্রণ। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলো আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেয় এবং কিছু হাসপাতাল JCI (Joint Commission International) স্বীকৃত, যা সেবার মান নিশ্চিত করে। জনপ্রিয় চিকিৎসা ও সুবিধার মধ্যে রয়েছে: কসমেটিক সার্জারি ও ডেন্টাল চিকিৎসা: আন্তর্জাতিক মানের সেবা, কম খরচে হোলিস্টিক চেক-আপ ও অন্যান্য চিকিৎসা: সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফার্টিলিটি, আসক্তি নিরাময় বিশেষায়িত হাসপাতাল: Vinmec International Hospital, Family Medical, FV Hospital বিদেশিদের জন্য সুবিধাসমূহ: হাসপাতালগুলোতে ইংরেজিভাষী সেবা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বীমা করানো সম্ভব, কিছু ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের বাইরে চিকিৎসার কভারেজ নেওয়া যায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায় Zalo, WhatsApp বা সরাসরি ফোনের মাধ্যমে ভিয়েতনামের কম খরচ, আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ মিলিয়ে দেশটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মেডিকেল ট্যুরিস্টদের জন্য এক প্রধান গন্তব্য...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ ঘোষণা, সম্মাননা পাচ্ছেন ৩০ জন

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ ঘোষণা, সম্মাননা পাচ্ছেন ৩০ জন

২০২৩ সালের জন্য চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদানের জন্য মোট ৩০ জন শিল্পী ও কুশলীকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। এবার আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং বরেণ্য চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চু। চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের সৃজনশীল অবদান ও নান্দনিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে কে. এম. হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন) প্রযোজিত সিনেমা ‘সাঁতাও’। একই সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালকের পুরস্কারও পেয়েছেন খন্দকার সুমন, যা ‘সাঁতাও’-এর সাফল্যকে আরও দৃঢ় করেছে। অভিনয় বিভাগে প্রথম সিনেমা দিয়েই আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন আফরান নিশো। ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন আইনুন পুতুল, তিনিও পুরস্কারটি পাচ্ছেন ‘সাঁতাও’ সিনেমার জন্য। পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা পেয়েছেন মনির আহমেদ শাকিল (সুড়ঙ্গ) এবং শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন নাজিয়া হক অর্ষা (ওরা সাত জন)। শ্রেষ্ঠ খল চরিত্রে পুরস্কার পেয়েছেন আশীষ খন্দকার (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন) এবং শ্রেষ্ঠ কৌতুক চরিত্রে জয়ী হয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম (সুড়ঙ্গ)। শিশু শিল্পী বিভাগে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন মো. লিয়ন। একই সিনেমা ‘আম কাঁঠালের ছুটি’-এর জন্য বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছেন আরিফ হাসান আনাইরা খান। সংগীত বিভাগে একক আধিপত্য...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

নতুন বাংলা নববর্ষ উদযাপন: বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির মিলন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৫৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

 বাংলা নববর্ষ এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ২৩ মার্চ, রবিবার, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভার শেষে, জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফারুকী তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “চল্লিশ বছর ধরে কাজ করছি, এই প্রথম এরকম একটা সভায় আমন্ত্রণ পেলাম”, এমন একটি মন্তব্য করেন মাইলস ব্যান্ডের হামিন ভাই, নববর্ষ উদযাপন বিষয়ক প্রস্তুতি সভায়। তিনি বলেন, এবারের নববর্ষ উদযাপন গত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও উদার হবে।

এবছরের উদযাপনে একে অপরের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটবে। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা, যেমন গারো, মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, এবং অন্যান্যদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতিরও একটি সুসংহত রূপ দেখা যাবে। ফারুকী জানান, এবারের কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা শুধু ইনক্লুসিভই হবে না, এটি আরো কালারফুল, আরো মিউজিক্যাল হবে।

এছাড়া, চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে রক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চাকমা, গারো, মারমা ব্যান্ডের পাশাপাশি বাংলা ভাষায় গান গাওয়া বিখ্যাত ব্যান্ডগুলোও অংশ নেবে। বেসরকারি উদ্যোগে বাউল ও ফকিরি গান পরিবেশন করা হবে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, “সুরের ধারা” ও “ছায়ানট” এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এবার বাংলা গানের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের দিয়ে তাদের নিজস্ব ভাষায় গান পরিবেশন করবে।

ফারুকী আরো জানান, ১৪ এপ্রিল বিকালে মানিক মিয়া এভিনিউতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে এবং রাতে “জুলাই এবং নববর্ষ” নিয়ে ড্রোন শো আয়োজন করা হবে, যা চীন দূতাবাসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নববর্ষ উদযাপন শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকায় নয়, সারাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায়ও অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয় এ জন্য বরাদ্দ দ্বিগুণ করেছে এবং বিশেষ মনোযোগ থাকবে সেসব অঞ্চলে, যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জনগণ বসবাস করে। ফারুকী ব্যক্তিগতভাবে বান্দরবান ও শ্রীমঙ্গলে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

“চলো বাংলাদেশ, এক সাথে”, এই শ্লোগান নিয়ে এবার নববর্ষ উদযাপন হবে আরও সমন্বিত, সম্মানজনক এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ।