০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫, ১৬ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য: ২৫ মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে মন্তব্য.

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখেন। বিএনপি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লাখো নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, কিন্তু পাকিস্তান এখনও এই গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়নি।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “২৫ মার্চ, ১৯৭১—এই রাত্রি ছিল অত্যন্ত কলঙ্কিত ও দুঃখময়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লাখো মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। আজও সেই গণহত্যা নিয়ে পাকিস্তান কোনো ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে কিছু গোষ্ঠী ও দল মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব এবং এর ত্যাগ-তিতিক্ষাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে, যা দেশবাসীকে ভুল পথে চালিত করতে পারে।

মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়, তারা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী।” তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে ভারতে পালিয়ে গেছেন, এটাই তাদের চরিত্র।”

মির্জা ফখরুল বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, “পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া ৯ মাস জেলে ছিলেন।” তিনি বাংলাদেশের মৌলিক সংস্কারের প্রথম পা রাখা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বিএনপির প্রস্তাবিত ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাব ও ২০৩০ ভিশন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়, বরং এটি বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা।” পাশাপাশি, তিনি সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আমরা কখনও সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত হতে দেব না, কারণ তারা দেশের দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিএনপিই আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করেছে, আর এই আন্দোলনের মধ্যে থেকে বিপ্লবের উত্থান হয়েছে।” তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনের অবদান এবং এর ফলে অর্জিত গৌরবের কথা স্মরণ করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।

এই সভার মাধ্যমে বিএনপি নেতারা ২৫ মার্চের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের গণতন্ত্রবিরোধী আচরণের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

 

ট্যাগ
পোস্টকারীর সকল তথ্য

“লন্ডনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদ উদযাপন, তারেক রহমানের “

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য: ২৫ মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে মন্তব্য.

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখেন। বিএনপি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লাখো নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, কিন্তু পাকিস্তান এখনও এই গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়নি।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “২৫ মার্চ, ১৯৭১—এই রাত্রি ছিল অত্যন্ত কলঙ্কিত ও দুঃখময়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লাখো মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। আজও সেই গণহত্যা নিয়ে পাকিস্তান কোনো ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে কিছু গোষ্ঠী ও দল মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব এবং এর ত্যাগ-তিতিক্ষাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে, যা দেশবাসীকে ভুল পথে চালিত করতে পারে।

মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়, তারা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী।” তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে ভারতে পালিয়ে গেছেন, এটাই তাদের চরিত্র।”

মির্জা ফখরুল বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, “পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া ৯ মাস জেলে ছিলেন।” তিনি বাংলাদেশের মৌলিক সংস্কারের প্রথম পা রাখা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বিএনপির প্রস্তাবিত ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাব ও ২০৩০ ভিশন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়, বরং এটি বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা।” পাশাপাশি, তিনি সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আমরা কখনও সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত হতে দেব না, কারণ তারা দেশের দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিএনপিই আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করেছে, আর এই আন্দোলনের মধ্যে থেকে বিপ্লবের উত্থান হয়েছে।” তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনের অবদান এবং এর ফলে অর্জিত গৌরবের কথা স্মরণ করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।

এই সভার মাধ্যমে বিএনপি নেতারা ২৫ মার্চের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের গণতন্ত্রবিরোধী আচরণের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।