০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শি জিনপিং ও ইউনূসের বৈঠক: বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: শি জিনপিং ও ইউনূসের ঐতিহাসিক বৈঠক

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশ দুটির সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রগুলোকে আরো শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অভ্যর্থনা ও সহায়ক বক্তব্য

অধ্যাপক ইউনূস তার দুই উপদেষ্টাকে নিয়ে গ্রেট হলে পৌঁছানোর পর, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে এক বিরল সম্মান জানিয়ে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে অভ্যর্থনা জানান। উষ্ণ এবং আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা তাদের নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন। এটি ছিল প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বিদেশে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর।

বেইজিংয়ের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহায়তা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশকে চীনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বেইজিংয়ের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশী পণ্যের উপর শূন্য-শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখবে এবং ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত এই সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি করবে।

চীনা বিনিয়োগ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি বাংলাদেশে আরও চীনা বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিনিয়োগ চুক্তি শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য চীনা উৎপাদন কারখানা স্থানান্তর ও বেসরকারি বিনিয়োগের প্রচারের কথা জানান।

চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাসপাতাল নির্মাণ

প্রেসিডেন্ট শি বলেন, চীন বাংলাদেশে একটি চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প পার্ক নির্মাণে সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতালও নির্মাণ করবে। তিনি ইউনানসহ চীনের অন্যান্য প্রদেশে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশিদেরও স্বাগত জানান।

রোহিঙ্গা সংকট ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের আমন্ত্রণ

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা কামনা করেন এবং বাংলাদেশে একটি চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি চীনা প্রকল্প ঋণের সুদের হার কমানোর এবং ঋণের ওপর ধার্যকৃত ফি মওকুফেরও দাবি জানান।

তিস্তা নদী প্রকল্প, যুদ্ধ বিমান ক্রয় ও বহুমুখী পরিবহন সংযোগ

দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে হয়। তিস্তা নদী প্রকল্পের জন্য চীনের সমর্থন, বহুমুখী যুদ্ধ বিমান ক্রয় এবং চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুনমিংকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য বহুমুখী পরিবহন সংযোগ প্রতিষ্ঠা বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যত:

বৈঠক শেষে, চীনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আজ, আমরা ইতিহাস তৈরির সাক্ষী হয়েছি। এটি একটি রূপান্তরমূলক সফর। দুই নেতা সুদৃঢ় কৌশলগত সম্পর্কের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছেন, যা কয়েক দশক ধরে স্থায়ী হবে।”

চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ঝেং শানজি এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডংসহ ঊর্ধ্বতন চীনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি ও পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, এবং প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান।

ট্যাগ

কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

১৫ ফেব্রুয়ারি: ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তাঁরা মাথানত করবেন না এবং ন্যায় ও সত্যের ওপর অটল থাকবেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর আমির তাঁর পোস্টে নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং নারীদের শ্লীলতাহানির মতো ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। শফিকুর রহমান লেখেন, “দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাই-বোনদের ওপর একটি বিশেষ দলের কিছু উশৃঙ্খল আচরণ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—এমনকি ১১ দলের প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের সম্মানিত নারীদের শ্লীলতাহানির মতো বেদনাদায়ক ঘটনার খবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের কাছে আসছে।” তিনি আরও বলেন, “ন্যায় ও সত্যের ওপর ইনশাআল্লাহ আমরা অটল থাকবো। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা মাথানত করবো না। যেখানেই এ ধরনের আঘাত আসবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মজলুমের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানেই তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির আহ্বান জানান, সাধারণ মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে। তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, এটি মানবতার দাবি, মহান আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি এবং দেশকে ভালোবাসার দাবি। এই দাবি পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ব্যাপারে কোনো দুর্বলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই।” পোস্টের শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে দোয়া...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

রমজানে ট্রাকসেল শুরু করছে টিসিবি

রমজানে ট্রাকসেল শুরু করছে টিসিবি

তেল-ডাল-চিনির সঙ্গে মিলবে ছোলা ও খেজুর, ৩০–৩৫ লাখ ভোক্তা উপকৃত হবেন আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাকের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান Trading Corporation of Bangladesh (টিসিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, রমজান মাস শুরুর আগের দিন থেকেই ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবি জানায়, বর্তমানে সারাদেশে ভর্তুকি মূল্যে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি রমজান মাসে ট্রাকসেলের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। টিসিবির নিয়মিত পণ্য—সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি—এর পাশাপাশি রমজান উপলক্ষে ছোলা ও খেজুরও ট্রাকসেলের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে ট্রাকসেলের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পরে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। টিসিবি জানিয়েছে, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, ট্রাকসেল কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

বিএনপি সরকারের শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি, প্রতিনিধি পাঠাবে ভারত

বিএনপি সরকারের শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি, প্রতিনিধি পাঠাবে ভারত

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি — ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে শপথ অনুষ্ঠানে মোদির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Hindustan Times। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই দিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভারত সফরে যাচ্ছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে মোদি ও ম্যাক্রোঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। এরপর ম্যাক্রোঁ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এআই ইমপ্যাক্ট সম্মেলনে অংশ নেবেন। তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করবেন। এই কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে বাংলাদেশের শপথ অনুষ্ঠানে মোদির উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়। তবে ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারতের ভাইস-প্রেসিডেন্ট অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এদিকে, নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপি প্রধান তারেক রহমানকে টেলিফোনে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশের নির্বাচনে ‘অসাধারণ জয়’-এর জন্য শুভেচ্ছা জানান। পোস্টে মোদি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

খাগড়াছড়িতে ১১ জনের মধ্যে ৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

খাগড়াছড়িতে ১১ জনের মধ্যে ৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৮ শতাংশের কম ভোট পাওয়ায় নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তাদের জামানত হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা নির্বাচন কার্যালয়। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৯টি ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮০টি ভোট বাতিল হিসেবে গণ্য হয়েছে। অন্যদিকে জামানত হারানো সাত প্রার্থীর সম্মিলিত প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৭ হাজার ৬৬৯। অর্থাৎ বাতিল ভোটের সংখ্যাই তাদের মোট প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় পার্টি-এর মিথিলা রওয়াজা (লাঙ্গল, ১,০২৪ ভোট), বাংলাদেশ মার্জিনাল জনতা পার্টি (বিএমজেপি)-এর উশ্যেপ্রু মারমা (রকেট, ১,০৩০ ভোট), জিরুনা ত্রিপুরা (কলস, ৯০৪ ভোট), গণঅধিকার পরিষদ-এর দীনময় রওয়াজা (ট্রাক, ৭৫৫ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মো. কাউসার (হাতপাখা, ৩,০৮৯ ভোট), নুর ইসলাম (আপেল, ৬৮৩ ভোট) এবং নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া মো. মোস্তফা (হারিকেন, ১৮৪ ভোট)। আরও পড়ুন  কুড়িগ্রামের ৪ আসনে ১৮ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন জানান, বিধি অনুযায়ী কাস্ট হওয়া ভোটের অন্তত ৮ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই হিসাবেই এই আসনে সাতজন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জামানত হারানোদের মধ্যে উশ্যেপ্রু মারমা, মো. মোস্তফা ও মিথিলা রওয়াজা ২০২৪...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

শি জিনপিং ও ইউনূসের বৈঠক: বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত।

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: শি জিনপিং ও ইউনূসের ঐতিহাসিক বৈঠক

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশ দুটির সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রগুলোকে আরো শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অভ্যর্থনা ও সহায়ক বক্তব্য

অধ্যাপক ইউনূস তার দুই উপদেষ্টাকে নিয়ে গ্রেট হলে পৌঁছানোর পর, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে এক বিরল সম্মান জানিয়ে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে অভ্যর্থনা জানান। উষ্ণ এবং আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা তাদের নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন। এটি ছিল প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বিদেশে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর।

বেইজিংয়ের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহায়তা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশকে চীনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বেইজিংয়ের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশী পণ্যের উপর শূন্য-শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখবে এবং ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত এই সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি করবে।

চীনা বিনিয়োগ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি বাংলাদেশে আরও চীনা বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিনিয়োগ চুক্তি শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য চীনা উৎপাদন কারখানা স্থানান্তর ও বেসরকারি বিনিয়োগের প্রচারের কথা জানান।

চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাসপাতাল নির্মাণ

প্রেসিডেন্ট শি বলেন, চীন বাংলাদেশে একটি চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প পার্ক নির্মাণে সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতালও নির্মাণ করবে। তিনি ইউনানসহ চীনের অন্যান্য প্রদেশে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশিদেরও স্বাগত জানান।

রোহিঙ্গা সংকট ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের আমন্ত্রণ

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা কামনা করেন এবং বাংলাদেশে একটি চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি চীনা প্রকল্প ঋণের সুদের হার কমানোর এবং ঋণের ওপর ধার্যকৃত ফি মওকুফেরও দাবি জানান।

তিস্তা নদী প্রকল্প, যুদ্ধ বিমান ক্রয় ও বহুমুখী পরিবহন সংযোগ

দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে হয়। তিস্তা নদী প্রকল্পের জন্য চীনের সমর্থন, বহুমুখী যুদ্ধ বিমান ক্রয় এবং চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুনমিংকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য বহুমুখী পরিবহন সংযোগ প্রতিষ্ঠা বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যত:

বৈঠক শেষে, চীনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আজ, আমরা ইতিহাস তৈরির সাক্ষী হয়েছি। এটি একটি রূপান্তরমূলক সফর। দুই নেতা সুদৃঢ় কৌশলগত সম্পর্কের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছেন, যা কয়েক দশক ধরে স্থায়ী হবে।”

চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ঝেং শানজি এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডংসহ ঊর্ধ্বতন চীনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি ও পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, এবং প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান।