
মেলা সাধারণত, খোলামেলা পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার ঈদ উপলক্ষে মেলার পরিবেশ ছিল আরও জমজমাট। রং-বেরঙের বাতি, সাজানো-গোছানো স্টল, আনন্দঘন সঙ্গীতের আওয়াজ, সব মিলিয়ে এক অনন্য উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। ছোট বড় সবাই মেলায় ঢুকতেই অনুভব করতে পারছিলেন ঈদের বিশেষ আনন্দ।
ঈদুল ফিতরের আনন্দ এবার আরও বেশি রঙিন হয়েছে, বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য। ঈদ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন পার্ক, মেলা ও রিসোর্টে বাচ্চাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল নানা ধরনের রাইডের। যেখানে তারা নানা রকম রাইডের আনন্দ উপভোগ করতে পারছে। এবার ঈদের আনন্দ শুধু বড়দের নয়, বাচ্চাদের জন্যও ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা, যেখান তারা রাইডে চড়তে চড়তে আনন্দে কাটিয়েছে পুরো দিনটি।
বাচ্চাদের জন্য একটি অন্যতম জনপ্রিয় রাইড হলো কার রাইড। ছোট ছোট গাড়িতে চড়ে বাচ্চারা আনন্দের সাথে সারা পার্ক ঘুরে বেড়িয়েছে। বিশেষ করে ছোটদের জন্য এই রাইডে অভিজ্ঞতা ছিল একেবারে দারুণ। কিছু জায়গায়, শিশুদের চড়া গাড়িগুলোর রং ছিল উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয়, যা তাদের কাছে আরও মজাদার হয়ে উঠেছিল।
ঈদের দিনে অনেক পার্কে বাচ্চাদের জন্য হেলিকপ্টার রাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ছোট্ট হেলিকপ্টারে চড়ে বাচ্চারা আকাশে উড়ে যাওয়ার স্বাদ পেয়েছে। যদিও এই রাইডে ভাড়া ছিল একটু বেশি, তবে শিশুদের মুখে হাসি দেখে মনে হয়েছিল, মূল্যটা সার্থক ছিল।
অনেক বড় মেলা ও পার্কে ছিল হরর হাউস, যেখানে ছোটরা একটু দুঃসাহসিক আনন্দ উপভোগ করেছে। যদিও এই রাইড কিছুটা ভয়াবহ, তবে বাচ্চাদের জন্য কিছু নিরাপদ সংস্করণ রাখা হয়েছিল যাতে তারা মজা নিতে পারে। মোমের ভাস্কর্য এবং কাল্পনিক চরিত্রদের দেখে তারা একেবারে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল।
ঈদ আনন্দের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল রোলার কোস্টার। উচ্চতা এবং গতি নিয়ে কিছু বাচ্চা একটু ভয় পেলেও, বেশিরভাগই চড়ে এই রাইডের এক্সাইটমেন্টে মেতে উঠেছিল। কিছু বাচ্চার চোখে ছিল উচ্ছ্বাস, আবার কারো কারো ছিল গা ছমছম। তবে সবাই শেষে হাসি-ঠাট্টায় একসাথে আনন্দ উপভোগ করেছে।
ঈদের এক বড় আকর্ষণ ছিল ঘোড়ার পিঠে চড়ার আনন্দ। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য এটি ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। নানা রঙের ঘোড়া নিয়ে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছিল একেবারে আনন্দের সাথে। ঘোড়া চড়ে বাচ্চারা নিজেদের রাজপুত্র বা রাজকন্যা মনে করছিল।
ঈদের দিনগুলোতে অনেক জায়গায় ছিল জাম্পিং রাইড। যেখানে বাচ্চারা লাফিয়ে লাফিয়ে আনন্দিত হয়ে উঠেছিল। এটি ছিল তাদের জন্য এক অত্যন্ত মজাদার অভিজ্ঞতা, যেখানে একে অপরকে দেখে হাস্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে তারা।
মেলায় একদিকে যেমন রাইড ছিল, তেমনি ছিল বিভিন্ন খাবারের স্টল, যা মেলায় উপস্থিত সকলের মধ্যে আরও বেশি আনন্দ নিয়ে এসেছিল। বিশেষ করে বাচ্চাদের কাছে মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা ছিল পিপঁড়ে মিষ্টির দোকান এবং বিভিন্ন রকম ফাস্ট ফুড স্টল। আইসক্রিম, পপকর্ন, চিপস, পাস্তা, সবই ছিল তাদের পছন্দের খাবার তালিকায়।
মেলায় ঈদের ঐতিহ্যপূর্ণ সাজ-সজ্জার মধ্যে ছিল নানা ধরনের হাতে তৈরি সামগ্রী, সজ্জিত রঙিন লাইটিং, ঘরোয়া পণ্য ।
ঈদের মেলা সাধারণত বাচ্চাদের জন্য একটি সুস্বাদু স্মৃতি হয়ে থাকে। একদিনের এই আনন্দের পর, মেলায় বাচ্চারা ফিরতে চায় না, যেন তারা সেই মজার দিনটির স্মৃতি চিরকাল রাখতে চায়। বিশেষ করে ঈদের দিনটি যখন তারা বন্ধুদের সঙ্গে রাইডে চড়তে এবং আনন্দ করতে থাকে, তখন মেলার আনন্দ আরো তীব্র হয়ে ওঠে।
মেলা শুধুমাত্র আনন্দের উৎস নয়, এটি একটি ঐতিহ্য, যেখানে নানা বয়সী মানুষ একত্রিত হয় এবং একে অপরের সঙ্গে সময় কাটায়। এই ঈদে মেলায় ছিল বিশেষ আয়োজন, যেখানে বাচ্চারা খেলার মাধ্যমে তাদের ঈদের দিনটিকে রাঙিয়ে তুলেছিল।
ঈদের দিন বাচ্চাদের জন্য ছিল এক আনন্দের উৎসব, যেখানে তারা নানা রকম রাইড উপভোগ করেছে। নানা ধরনের রাইড, হাস্যরস, আর খেলার মাধ্যমে তাদের ঈদ আরও স্পেশাল হয়ে উঠেছে। প্রতিটি রাইডে বাচ্চাদের চোখে ছিল তৃপ্তি এবং আনন্দের মিছিল, যা সত্যিই ঈদের প্রকৃত আনন্দের প্রতিফলন।
নাতাশা মুন্নি ।