
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় অন্তত ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনাটি ঘটে ১ এপ্রিল রাতে, যখন কচুয়া থানার পুলিশ একটি আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশ সদস্যদের মারধর করে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার গজালিয়া ব্রিজ এলাকায়, যেখানে কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহমেদ কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ একলাছ শেখ নামের একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল। একলাছ শেখ চাঁদাবাজি এবং মারধরের মামলার আসামি ছিলেন। এই গ্রেপ্তারের পর গজালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শিকদার জাকির হোসেন টুটুল ও সাধারণ সম্পাদক শেখ দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
হামলার ফলে এসআই আহমেদ কবির, এএসআই রাকিব মোল্লা, কনস্টেবল মো. জাহিদুর রহমান এবং রঞ্জন বিশ্বাস আহত হন। তবে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ এবং সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে বিএনপির ১৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. রিয়াজ শেখ, মো. আমিনুল হক, মো. হেমায়েত মোল্ল্যা, মো. সাব্বির শেখ, মো. সোহাগ শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, আমিরাত হোসেন লিজন, মো. সাকিব শেখ, মো. ইবাদুল সিকদার, মো. আবুল খায়ের সুইট, মো. ওমর ফারুক, মো. শাওন আকন, মো. জনি শেখ, মো. রাফি সিকদার, মো. ইয়ার হোসেন, এবং মো. রিয়াজুল ইসলাম। এরা সবাই বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম আহসান জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরপূর্বক আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ এবং প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।