০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণায় কানাডা, মেক্সিকো ও জাপানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ঘাটতি কাটাতে এবং দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নতুন শুল্ক পরিকল্পনা চালু করেছেন। এর আওতায়, ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন সব দেশ ও অঞ্চলের রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প ২ এপ্রিলকে “অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বলেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করবে। তবে, তার এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী তীব্র বিরোধিতা সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর ২০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ইইউ-এর প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথমে আলোচনায় গুরুত্ব দেব, কিন্তু যদি তাতে কোনো ফল না হয়, তাহলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বিশ্বের বৃহত্তম দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীনও ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত। চীনের ওপর ২৪ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জাপানের ওপরও ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইওজি মাতো বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক,” এবং তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু জানান, তারা মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা না করে, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিবেন।

কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, তারা “জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের” প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম বলেছেন, তারা “বিস্তৃত কর্মসূচি” গ্রহণ করবেন, যদিও তারা ‘টিট ফর ট্যাট’ নীতিতে বিশ্বাসী নয়।

অস্ট্রেলিয়ার ওপর ১০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তারা শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ব্রাজিলের সরকার জানিয়েছে, তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ পুনরুদ্ধারসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবে।

বিশ্বের বিভিন্ন নেতারা ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনাকে সমালোচনা করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান এবং কানাডা সহ বেশ কিছু দেশ ইতোমধ্যে পাল্টা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই শুল্ক যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং প্রতিক্রিয়া বাড়ছে, যা আগামীদিনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগ
পোস্টকারীর সকল তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউনূস-মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণায় কানাডা, মেক্সিকো ও জাপানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া।

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ঘাটতি কাটাতে এবং দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নতুন শুল্ক পরিকল্পনা চালু করেছেন। এর আওতায়, ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন সব দেশ ও অঞ্চলের রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প ২ এপ্রিলকে “অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বলেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করবে। তবে, তার এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী তীব্র বিরোধিতা সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর ২০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ইইউ-এর প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথমে আলোচনায় গুরুত্ব দেব, কিন্তু যদি তাতে কোনো ফল না হয়, তাহলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বিশ্বের বৃহত্তম দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীনও ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত। চীনের ওপর ২৪ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জাপানের ওপরও ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইওজি মাতো বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক,” এবং তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু জানান, তারা মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা না করে, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিবেন।

কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, তারা “জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের” প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম বলেছেন, তারা “বিস্তৃত কর্মসূচি” গ্রহণ করবেন, যদিও তারা ‘টিট ফর ট্যাট’ নীতিতে বিশ্বাসী নয়।

অস্ট্রেলিয়ার ওপর ১০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তারা শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ব্রাজিলের সরকার জানিয়েছে, তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ পুনরুদ্ধারসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবে।

বিশ্বের বিভিন্ন নেতারা ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনাকে সমালোচনা করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান এবং কানাডা সহ বেশ কিছু দেশ ইতোমধ্যে পাল্টা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই শুল্ক যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং প্রতিক্রিয়া বাড়ছে, যা আগামীদিনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।