
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে। ট্রাম্প বিশ্বের কয়েকটি দেশ, বিশেষত বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর উপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি “পারস্পরিক শুল্ক” ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন, যেখানে এসব দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প বাংলাদেশে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৭৪% শুল্ক আরোপ করে। এবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করবে, যা পূর্বের গড়ে ১৫% শুল্কের তুলনায় অনেক বেশি।
ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভিয়েতনাম, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এবং অন্যান্য দেশের ওপর শুল্কের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চীনা পণ্যের ওপর ৩৪%, ভারতের ওপর ২৬%, পাকিস্তানের ওপর ২৯%, ভিয়েতনামের ওপর ৪৬%, এবং কম্বোডিয়ার ওপর ৪৯% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে, যার প্রধান অংশ গঠন করে তৈরি পোশাক। নতুন শুল্ক বাড়ানোর কারণে বিশেষভাবে তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি শুল্ক যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে বিভিন্ন দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের উপর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে।
ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন যে, চীন ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের উপর কোনো শুল্ক আরোপ করা হয়নি, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাণিজ্যিক ক্ষতি হয়ে আসছে। তিনি তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব দেশের শুল্কের অর্ধেক পরিমাণ শুল্ক তাদের থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।