
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বৈঠকের প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
বিক্রম মিশ্রি জানান, বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং তাদের প্রতি হওয়া নির্যাতনের ঘটনা তদন্তের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছেন। মিশ্রি বলেন, মোদি প্রফেসর ইউনূসকে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক তৈরির প্রতি তার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার কথা জানান।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মোদি বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বজায় রাখার গুরুত্বের কথা উঠে এসেছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ:
বৈঠকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিক্রম মিশ্রি নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছে, তবে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। তখন থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তার প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে, যা আজকের বৈঠকে পুনরায় তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন, এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায় এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করতে আগ্রহী।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 


















