০৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাংশার জলঘর: ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যের সাক্ষী ।

পাংশা, রাজবাড়ী—এমন একটি স্থান যেখানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক ভবন, “জলঘর”। এই লালচে ভবনটির গায়ে আগাছার স্তুপ, কিন্তু তবুও এর গৌরবময় অতীত আজও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৬৯ সালে নির্মিত এই ভবনটি, এক সময় রেলপথে চলা কয়লাচালিত ইঞ্জিনের শীতলীকরণে ব্যবহৃত হতো।

১৮৬২ সালে ভারতের কলকাতা থেকে কুষ্টিয়া জেলার জগতি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পর, ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি একটি নতুন রেলপথ স্থাপন করা হয় গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া (পদ্মা নদী) ঘাট পর্যন্ত, প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ। তখনকার সময়ে রেলগাড়ি চলানোর জন্য ব্যবহৃত কয়লাচালিত ইঞ্জিনগুলি প্রচণ্ড গরম হয়ে যেত। সেগুলি শীতল করার জন্য প্রয়োজন ছিল বিশাল পরিমাণ পানি, যা পাংশার এই জলঘর থেকে সরবরাহ করা হতো।

১৮৬৯ সালে ইট, খোয়া এবং চুনের মিশ্রণে গোলাকার ও লম্বা আকৃতির এই জলঘরটি নির্মিত হয়। ৩৫-৪০ ফুট উচ্চতার এই ভবনটির দরজা রেললাইনের দিকে ছিল, এবং এর ওপরের দিকে ওঠার জন্য সিঁড়ি তৈরি করা হয় লোহার পাত দিয়ে। একসময় এই জলঘরটি ব্রিটিশ শাসনামলে ব্যবহৃত হলেও, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান শাসনামল শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত জলঘরের ব্যবহার বন্ধ রয়েছে।

তবে আজও এই ভবনটি পাংশার বুকে দাঁড়িয়ে আছে, তার অটুট অবস্থা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের সাক্ষী হয়ে। এর লাল রঙ এখনও ঝকঝকে, এবং দেয়ালগুলো অক্ষত রয়েছে। আজকের দিনে, এটি শুধু একটি পুরনো ভবন নয়, বরং পাংশার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা অতীতের গল্পগুলো বয়ে আনছে।

তথ্যগতভাবে এবং ঐতিহাসিক দিক থেকে, জলঘর আমাদের দেশের রেলপথ ও ব্রিটিশ আমলের শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে আছে।

ট্যাগ
পোস্টকারীর সকল তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোকোর শাশুড়ি মুকরেমা রেজা ইন্তেকাল করেছেন ।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

পাংশার জলঘর: ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যের সাক্ষী ।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

পাংশা, রাজবাড়ী—এমন একটি স্থান যেখানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক ভবন, “জলঘর”। এই লালচে ভবনটির গায়ে আগাছার স্তুপ, কিন্তু তবুও এর গৌরবময় অতীত আজও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৬৯ সালে নির্মিত এই ভবনটি, এক সময় রেলপথে চলা কয়লাচালিত ইঞ্জিনের শীতলীকরণে ব্যবহৃত হতো।

১৮৬২ সালে ভারতের কলকাতা থেকে কুষ্টিয়া জেলার জগতি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পর, ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি একটি নতুন রেলপথ স্থাপন করা হয় গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া (পদ্মা নদী) ঘাট পর্যন্ত, প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ। তখনকার সময়ে রেলগাড়ি চলানোর জন্য ব্যবহৃত কয়লাচালিত ইঞ্জিনগুলি প্রচণ্ড গরম হয়ে যেত। সেগুলি শীতল করার জন্য প্রয়োজন ছিল বিশাল পরিমাণ পানি, যা পাংশার এই জলঘর থেকে সরবরাহ করা হতো।

১৮৬৯ সালে ইট, খোয়া এবং চুনের মিশ্রণে গোলাকার ও লম্বা আকৃতির এই জলঘরটি নির্মিত হয়। ৩৫-৪০ ফুট উচ্চতার এই ভবনটির দরজা রেললাইনের দিকে ছিল, এবং এর ওপরের দিকে ওঠার জন্য সিঁড়ি তৈরি করা হয় লোহার পাত দিয়ে। একসময় এই জলঘরটি ব্রিটিশ শাসনামলে ব্যবহৃত হলেও, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান শাসনামল শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত জলঘরের ব্যবহার বন্ধ রয়েছে।

তবে আজও এই ভবনটি পাংশার বুকে দাঁড়িয়ে আছে, তার অটুট অবস্থা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের সাক্ষী হয়ে। এর লাল রঙ এখনও ঝকঝকে, এবং দেয়ালগুলো অক্ষত রয়েছে। আজকের দিনে, এটি শুধু একটি পুরনো ভবন নয়, বরং পাংশার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা অতীতের গল্পগুলো বয়ে আনছে।

তথ্যগতভাবে এবং ঐতিহাসিক দিক থেকে, জলঘর আমাদের দেশের রেলপথ ও ব্রিটিশ আমলের শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে আছে।