০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনে সাহায্য নয়, ব্যান্ড কিনতে ব্যস্ত বাঙালি: আসল সমর্থন কোথায়?

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন ফুটবল প্লেয়ার ফিলিস্তিনের মানচিত্রযুক্ত একটি ব্যান্ড পরে আছেন। এই ছবিটি মুহূর্তের মধ্যে আলোচনায় চলে আসে এবং মুহূর্তেই তা প্রচুর শেয়ার হতে থাকে। অনেকেই ব্যান্ডটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন, আর কিছু পেইজে তো এই ব্যান্ড বিক্রিও শুরু হয়ে যায়। দামও বেশ চড়া, কিছু জায়গায় এটি ৫০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।

তবে, প্রশ্ন উঠছে—এই ধরনের সামগ্রী কেনার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের কী উপকার হবে? সমাজের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ ভালোবাসা এবং সহানুভূতি দেখাতে আগ্রহী হলেও, তারা কি জানে যে আসল সাহায্য ফিলিস্তিনের মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য তাদের কেবল বাহ্যিক জিনিসে মনোযোগ না দিয়ে, সঠিক জায়গায় দান বা সহায়তা পৌঁছানো দরকার?

অধিকাংশ মানুষ হয়তো জানে না, ফিলিস্তিনের জন্য সহায়তার সবচে বড় মাধ্যম হলো সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সাহায্য পাঠানো এবং সেখানকার মানুষের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সাহায্য নিশ্চিত করা। খাদ্য, পানীয়, চিকিৎসা সরঞ্জাম, এবং সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জন্য ফান্ড সংগ্রহ, এসবের দিকে মানুষের মনোযোগ প্রয়োজন।

অথচ, কিছু মানুষ ব্যান্ড কেনার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে, যা শুধু এক ধরনের বাহ্যিক ভালোবাসার প্রকাশ হতে পারে, তবে এই থেকে সৃষ্ট অর্থ ফিলিস্তিনে পৌঁছাচ্ছে না।

অনেকে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনের জন্য ডোনেশন সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়, যা সরাসরি সেখানে সাহায্য পাঠানোর উপায় হতে পারে। শুধু কিছু সময় ব্যয় করলে এবং সঠিক জায়গায় সাহায্য পৌঁছানোর পদ্ধতি জানলে, এই ধরনের সহানুভূতি প্রকৃতভাবে কার্যকরী হতে পারে।

এটি কেবল একটি স্মরণে আনার বিষয় যে, ভালোবাসা দেখাতে হলে কেবল বাহ্যিক জিনিস কিনে নয়, বরং প্রকৃত সহায়তা পাঠানোর মাধ্যমে সেই ভালোবাসাকে বাস্তবে পরিণত করতে হবে।

ট্যাগ
পোস্টকারীর সকল তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোকোর শাশুড়ি মুকরেমা রেজা ইন্তেকাল করেছেন ।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

ফিলিস্তিনে সাহায্য নয়, ব্যান্ড কিনতে ব্যস্ত বাঙালি: আসল সমর্থন কোথায়?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন ফুটবল প্লেয়ার ফিলিস্তিনের মানচিত্রযুক্ত একটি ব্যান্ড পরে আছেন। এই ছবিটি মুহূর্তের মধ্যে আলোচনায় চলে আসে এবং মুহূর্তেই তা প্রচুর শেয়ার হতে থাকে। অনেকেই ব্যান্ডটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন, আর কিছু পেইজে তো এই ব্যান্ড বিক্রিও শুরু হয়ে যায়। দামও বেশ চড়া, কিছু জায়গায় এটি ৫০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।

তবে, প্রশ্ন উঠছে—এই ধরনের সামগ্রী কেনার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের কী উপকার হবে? সমাজের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ ভালোবাসা এবং সহানুভূতি দেখাতে আগ্রহী হলেও, তারা কি জানে যে আসল সাহায্য ফিলিস্তিনের মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য তাদের কেবল বাহ্যিক জিনিসে মনোযোগ না দিয়ে, সঠিক জায়গায় দান বা সহায়তা পৌঁছানো দরকার?

অধিকাংশ মানুষ হয়তো জানে না, ফিলিস্তিনের জন্য সহায়তার সবচে বড় মাধ্যম হলো সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সাহায্য পাঠানো এবং সেখানকার মানুষের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সাহায্য নিশ্চিত করা। খাদ্য, পানীয়, চিকিৎসা সরঞ্জাম, এবং সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জন্য ফান্ড সংগ্রহ, এসবের দিকে মানুষের মনোযোগ প্রয়োজন।

অথচ, কিছু মানুষ ব্যান্ড কেনার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে, যা শুধু এক ধরনের বাহ্যিক ভালোবাসার প্রকাশ হতে পারে, তবে এই থেকে সৃষ্ট অর্থ ফিলিস্তিনে পৌঁছাচ্ছে না।

অনেকে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনের জন্য ডোনেশন সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়, যা সরাসরি সেখানে সাহায্য পাঠানোর উপায় হতে পারে। শুধু কিছু সময় ব্যয় করলে এবং সঠিক জায়গায় সাহায্য পৌঁছানোর পদ্ধতি জানলে, এই ধরনের সহানুভূতি প্রকৃতভাবে কার্যকরী হতে পারে।

এটি কেবল একটি স্মরণে আনার বিষয় যে, ভালোবাসা দেখাতে হলে কেবল বাহ্যিক জিনিস কিনে নয়, বরং প্রকৃত সহায়তা পাঠানোর মাধ্যমে সেই ভালোবাসাকে বাস্তবে পরিণত করতে হবে।