০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

“লালমনিরহাটে মৃত মুরগি নিয়ে থানায় নারীর অভিযোগ, তদন্ত শুরু”

লালমনিরহাট, ৫ এপ্রিল ২০২৫: শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে লালমনিরহাট সদর থানায় ৫টি মৃত মুরগি নিয়ে হাজির হলেন রশিদা বেগম নামের এক নারী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি থানার কর্মকর্তাদের জানায়, তার বাড়ির উঠানে গতকাল সকালে পরম যত্নে পালিত চারটি মুরগিকে খাবার দিয়ে ছেড়ে দেয়ার পর তিনি কাজে বের হন। তবে ফিরে এসে দেখেন তার ১১টি মুরগিই মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

রশিদা বেগমের অভিযোগ, “মুরগিগুলোর মৃত্যু শত্রুতার ফল হতে পারে। আমি নিশ্চিত, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগ করে অথবা অন্য কোনো উপায়ে আমার মুরগিগুলো মেরে ফেলেছে।” তিনি আরো জানান, মুরগিগুলো কিনতে তিনি ভিক্ষা করেছিলেন এবং এগুলিই তার একমাত্র সম্বল ছিল। ডিম বিক্রি ও বাচ্চা ফুটিয়ে বড় করার আশা ছিল তার। “আমি গরিব মানুষ, কারো ক্ষতি করিনি। তবে কেন এমন ঘটল?”—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি থানায় আসেন বিচার চেয়ে।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী জানান, “এটি একটি কষ্টকর ঘটনা। আমরা অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি এবং মুরগিগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করছি।” তিনি আরও বলেন, “অভিযোগকারী নারীর সন্দেহ এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে মৃত মুরগিগুলোর ময়নাতদন্তের জন্য পশুসম্পদ বিভাগে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে যদি কোনো দায় প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, অভিযোগকারী রশিদা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের না করলেও, পাঁচটি মৃত মুরগি প্রমাণ হিসেবে থানায় নিয়ে এসেছেন। তিনি তার মুরগিগুলোর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

এ ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করতে তদন্ত চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগ
পোস্টকারীর সকল তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোকোর শাশুড়ি মুকরেমা রেজা ইন্তেকাল করেছেন ।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

“লালমনিরহাটে মৃত মুরগি নিয়ে থানায় নারীর অভিযোগ, তদন্ত শুরু”

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

লালমনিরহাট, ৫ এপ্রিল ২০২৫: শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে লালমনিরহাট সদর থানায় ৫টি মৃত মুরগি নিয়ে হাজির হলেন রশিদা বেগম নামের এক নারী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি থানার কর্মকর্তাদের জানায়, তার বাড়ির উঠানে গতকাল সকালে পরম যত্নে পালিত চারটি মুরগিকে খাবার দিয়ে ছেড়ে দেয়ার পর তিনি কাজে বের হন। তবে ফিরে এসে দেখেন তার ১১টি মুরগিই মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

রশিদা বেগমের অভিযোগ, “মুরগিগুলোর মৃত্যু শত্রুতার ফল হতে পারে। আমি নিশ্চিত, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগ করে অথবা অন্য কোনো উপায়ে আমার মুরগিগুলো মেরে ফেলেছে।” তিনি আরো জানান, মুরগিগুলো কিনতে তিনি ভিক্ষা করেছিলেন এবং এগুলিই তার একমাত্র সম্বল ছিল। ডিম বিক্রি ও বাচ্চা ফুটিয়ে বড় করার আশা ছিল তার। “আমি গরিব মানুষ, কারো ক্ষতি করিনি। তবে কেন এমন ঘটল?”—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি থানায় আসেন বিচার চেয়ে।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী জানান, “এটি একটি কষ্টকর ঘটনা। আমরা অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি এবং মুরগিগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করছি।” তিনি আরও বলেন, “অভিযোগকারী নারীর সন্দেহ এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে মৃত মুরগিগুলোর ময়নাতদন্তের জন্য পশুসম্পদ বিভাগে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে যদি কোনো দায় প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, অভিযোগকারী রশিদা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের না করলেও, পাঁচটি মৃত মুরগি প্রমাণ হিসেবে থানায় নিয়ে এসেছেন। তিনি তার মুরগিগুলোর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

এ ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করতে তদন্ত চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।