০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জনসভায় নতুন শর্ত: ৭২ ঘণ্টা আগে পুলিশের অনুমতি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সংশোধন করতে যাচ্ছে। নতুন খসড়া অনুযায়ী, কমিশন মিছিলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং জনসভা আয়োজনের জন্য পুলিশি অনুমতি নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেবে।

মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার সিদ্ধান্ত,

এখন পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় সব ধরনের মিছিল বা বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছিল। তবে, সংশোধিত খসড়ায় এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় মিছিল বা বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি, তবে যন্ত্রচালিত যানবাহন বা মশাল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না।

জনসভা আয়োজনের জন্য নতুন শর্ত

জনসভা বা পথসভা আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত যোগ করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা আগে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় পুলিশকে জানাতে হবে। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেয়া হচ্ছে। আর পোস্টার ব্যবহারের পরিবর্তে ব্যানার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সাদা-কালো কাপড়ের ব্যানার ব্যবহার করতে হবে এবং প্রার্থী বা দলের প্রধান ব্যতীত কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না।

অনলাইনে প্রচারের জন্য আইনি কাঠামো

প্রথমবারের মতো অনলাইনে প্রচারের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি করতে যাচ্ছে কমিশন। প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের আগে ভিডিও কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন, তবে তা ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।

প্রার্থীদের অনলাইনে প্রচারের ব্যয়ের হিসাব প্রতি সাত দিনে একবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এটি প্রচারের স্বচ্ছতা ও আইনি কাঠামো মেনে চলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধি

মাইকের ব্যবহার এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাচন কমিশন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, মাইক ব্যবহার রাত আটটা পর্যন্ত ছিল, তবে নতুন বিধিমালায় দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হবে। মাইক ব্যবহারে শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবলের মধ্যে রাখতে হবে, যাতে পরিবেশের ওপর প্রভাব কম পড়ে।

পলিথিন এবং প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রচারে লিফলেট, হ্যান্ডবিল এবং ব্যানারের পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। এটি পরিবেশ রক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের  নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ  নিষিদ্ধ।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা কেবল ভোট দিতে পারবেন, কিন্তু প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে শাস্ত্‌

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য ব্যক্তির ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি বিধি লঙ্ঘন করে, তবে তাদেরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

অনলাইন প্রচারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সুরক্ষা আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা মেনে চলার জন্য প্রার্থী ও দলের কাছ থেকে অঙ্গীকারপত্র নেয়া হবে, যাতে তারা শাস্তি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

নির্বাচন কমিশনের  বক্তব,

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, “আমরা এই খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছি এবং কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার পর তা কার্যকর করা হবে। আশা করছি, এটি নির্বাচনী পরিবেশ আরও সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করে তুলবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আরও কার্যকরী হবে। কমিশন আশা করে, এই পদক্ষেপগুলি নির্বাচনী পরিবেশের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”,নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় এসব সংশোধন নির্বাচনী পরিবেশে স্বচ্ছতা, সুষ্ঠুতা এবং আইনানুগ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলি নির্বাচনী প্রচারের সুষ্ঠুতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

ট্যাগ

কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

১৫ ফেব্রুয়ারি: ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তাঁরা মাথানত করবেন না এবং ন্যায় ও সত্যের ওপর অটল থাকবেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর আমির তাঁর পোস্টে নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং নারীদের শ্লীলতাহানির মতো ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। শফিকুর রহমান লেখেন, “দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাই-বোনদের ওপর একটি বিশেষ দলের কিছু উশৃঙ্খল আচরণ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—এমনকি ১১ দলের প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের সম্মানিত নারীদের শ্লীলতাহানির মতো বেদনাদায়ক ঘটনার খবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের কাছে আসছে।” তিনি আরও বলেন, “ন্যায় ও সত্যের ওপর ইনশাআল্লাহ আমরা অটল থাকবো। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা মাথানত করবো না। যেখানেই এ ধরনের আঘাত আসবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মজলুমের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানেই তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির আহ্বান জানান, সাধারণ মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে। তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, এটি মানবতার দাবি, মহান আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি এবং দেশকে ভালোবাসার দাবি। এই দাবি পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ব্যাপারে কোনো দুর্বলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই।” পোস্টের শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে দোয়া...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

রমজানে ট্রাকসেল শুরু করছে টিসিবি

রমজানে ট্রাকসেল শুরু করছে টিসিবি

তেল-ডাল-চিনির সঙ্গে মিলবে ছোলা ও খেজুর, ৩০–৩৫ লাখ ভোক্তা উপকৃত হবেন আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাকের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান Trading Corporation of Bangladesh (টিসিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, রমজান মাস শুরুর আগের দিন থেকেই ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবি জানায়, বর্তমানে সারাদেশে ভর্তুকি মূল্যে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি রমজান মাসে ট্রাকসেলের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। টিসিবির নিয়মিত পণ্য—সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি—এর পাশাপাশি রমজান উপলক্ষে ছোলা ও খেজুরও ট্রাকসেলের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে ট্রাকসেলের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পরে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। টিসিবি জানিয়েছে, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, ট্রাকসেল কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

বিএনপি সরকারের শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি, প্রতিনিধি পাঠাবে ভারত

বিএনপি সরকারের শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি, প্রতিনিধি পাঠাবে ভারত

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি — ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে শপথ অনুষ্ঠানে মোদির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Hindustan Times। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই দিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভারত সফরে যাচ্ছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে মোদি ও ম্যাক্রোঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। এরপর ম্যাক্রোঁ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এআই ইমপ্যাক্ট সম্মেলনে অংশ নেবেন। তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করবেন। এই কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে বাংলাদেশের শপথ অনুষ্ঠানে মোদির উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়। তবে ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারতের ভাইস-প্রেসিডেন্ট অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এদিকে, নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপি প্রধান তারেক রহমানকে টেলিফোনে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশের নির্বাচনে ‘অসাধারণ জয়’-এর জন্য শুভেচ্ছা জানান। পোস্টে মোদি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মাইন্ড হ্যাকার ওয়ালিদ মেসিলি হিপনোসিসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন

মাইন্ড হ্যাকার ওয়ালিদ মেসিলি হিপনোসিসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন

আলজেরিয়ান-আমেরিকান প্রকৌশলী ওয়ালিদ মেসিলি, যিনি নিজেকে “মাইন্ড হ্যাকার” বলে পরিচয় দেন, হিপনোসিস এবং মনোবিজ্ঞানের জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন। ব্রিটিশ স্কুল থেকে আঠারো বছর বয়সে তিনি NLP (নিউরো-লিঙ্গুয়িস্টিক প্রোগ্রামিং) সার্টিফিকেট অর্জন করেন এবং এরপর পেশাদারভাবে হিপনোসিস এবং পরামর্শে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ওয়ালিদ বলেন, “আমি আলজেরিয়ার—and আরব বিশ্বের—for প্রথমবার হিপনোসিস প্রবর্তন করি এবং এটিকে ব্যবহারিক, দ্রুত ফলপ্রসূভাবে উপস্থাপন করি, বিশেষ করে তাৎক্ষণিক হিপনোসিসের মাধ্যমে, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হিপনোটিক অবস্থা তৈরি করতে পারে।” আরো পড়ুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান, পরাজয় মেনে নিল জামায়াত বঙ্গভবন নয়  দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে শান্তি পরিষদে যোগ দেবেন হিপনোসিস বা হিপনোথেরাপি, ওয়ালিদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মনোবিজ্ঞানের একটি শাখা যা অবচেতন মনকে লক্ষ্য করে। শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত স্মৃতি, আচরণ এবং প্রোগ্রামিংয়ের উপর সরাসরি কাজ করে এটি। এর মাধ্যমে ধূমপান, মাদক, অ্যালকোহল আসক্তি, ফোবিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি ভয় নিরাময় করা সম্ভব। “আমরা অবচেতন মন পুনঃপ্রোগ্রাম করে মানুষের অসাধারণ ক্ষমতা উদ্দীপিত করতে পারি,” ওয়ালিদ বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে হিপনোসিস শুধুমাত্র বিনোদন বা সিনেমার গল্প নয়, বরং একটি বাস্তব এবং কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে এই ক্ষেত্রটি ভয় এবং কৌতূহল উভয়ই উদ্রেক করে। “সম্মোহনের ভয় প্রায়শই জ্ঞানের অভাব, চলচ্চিত্র এবং গুজব দ্বারা প্রভাবিত হয়। যারা শিখতে এবং পরীক্ষা করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জনসভায় নতুন শর্ত: ৭২ ঘণ্টা আগে পুলিশের অনুমতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

নির্বাচন কমিশন (ইসি) এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সংশোধন করতে যাচ্ছে। নতুন খসড়া অনুযায়ী, কমিশন মিছিলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং জনসভা আয়োজনের জন্য পুলিশি অনুমতি নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেবে।

মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার সিদ্ধান্ত,

এখন পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় সব ধরনের মিছিল বা বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছিল। তবে, সংশোধিত খসড়ায় এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় মিছিল বা বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি, তবে যন্ত্রচালিত যানবাহন বা মশাল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না।

জনসভা আয়োজনের জন্য নতুন শর্ত

জনসভা বা পথসভা আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত যোগ করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা আগে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় পুলিশকে জানাতে হবে। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেয়া হচ্ছে। আর পোস্টার ব্যবহারের পরিবর্তে ব্যানার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সাদা-কালো কাপড়ের ব্যানার ব্যবহার করতে হবে এবং প্রার্থী বা দলের প্রধান ব্যতীত কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না।

অনলাইনে প্রচারের জন্য আইনি কাঠামো

প্রথমবারের মতো অনলাইনে প্রচারের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি করতে যাচ্ছে কমিশন। প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের আগে ভিডিও কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন, তবে তা ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।

প্রার্থীদের অনলাইনে প্রচারের ব্যয়ের হিসাব প্রতি সাত দিনে একবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এটি প্রচারের স্বচ্ছতা ও আইনি কাঠামো মেনে চলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধি

মাইকের ব্যবহার এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাচন কমিশন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, মাইক ব্যবহার রাত আটটা পর্যন্ত ছিল, তবে নতুন বিধিমালায় দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হবে। মাইক ব্যবহারে শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবলের মধ্যে রাখতে হবে, যাতে পরিবেশের ওপর প্রভাব কম পড়ে।

পলিথিন এবং প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রচারে লিফলেট, হ্যান্ডবিল এবং ব্যানারের পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। এটি পরিবেশ রক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের  নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ  নিষিদ্ধ।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা কেবল ভোট দিতে পারবেন, কিন্তু প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে শাস্ত্‌

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য ব্যক্তির ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি বিধি লঙ্ঘন করে, তবে তাদেরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

অনলাইন প্রচারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সুরক্ষা আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা মেনে চলার জন্য প্রার্থী ও দলের কাছ থেকে অঙ্গীকারপত্র নেয়া হবে, যাতে তারা শাস্তি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

নির্বাচন কমিশনের  বক্তব,

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, “আমরা এই খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছি এবং কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার পর তা কার্যকর করা হবে। আশা করছি, এটি নির্বাচনী পরিবেশ আরও সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করে তুলবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আরও কার্যকরী হবে। কমিশন আশা করে, এই পদক্ষেপগুলি নির্বাচনী পরিবেশের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”,নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় এসব সংশোধন নির্বাচনী পরিবেশে স্বচ্ছতা, সুষ্ঠুতা এবং আইনানুগ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলি নির্বাচনী প্রচারের সুষ্ঠুতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।