
চার দিনব্যাপী ‘ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৪’ শেষ হয়েছে শনিবার (১২ এপ্রিল)। এই আয়োজনে হান্ডা গ্রুপ ও দেশীয় স্টার্টআপ শপআপ মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন রোববার (১৩ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি লেখেন, “সামিটে সব ক্ষেত্রে দশে দশ না পেলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের একটি আয়োজন করতে।”
উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ
চৌধুরী আশিক জানান, এবারের সামিটে ১৫০টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ৬টি চুক্তি (MOU) স্বাক্ষর এবং প্রায় ৩,৫০০-এর বেশি মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন ৭১০ জন, যাদের মধ্যে ৪১৫ জন বিদেশি অথবা প্রবাসী বাংলাদেশি।
বিডা চেয়ারম্যান আরও বলেন, “হান্ডা গ্রুপ ও শপআপ মিলিয়ে মোট ৩,১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। এর মধ্যে কিছু উদ্যোগ তাৎক্ষণিক, আবার কিছু দীর্ঘমেয়াদি। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।”
সামিটের কাঠামো ও উদ্দেশ্য
চার দিনের এ সামিট তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়:
- ৭–৮ এপ্রিল: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ইপিজেড ও ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করানো হয়। স্টার্টআপদের জন্য ছিল বিশেষ সেশন।
- ৯ এপ্রিল: সকালে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সন্ধ্যায় দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
- ৯–১০ এপ্রিল: বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি করা হয়।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি
চৌধুরী আশিক বলেন, “বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ একদিনে আসে না। তবে যদি এই সামিটে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে ইতিবাচক একটি ধারণা তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতে ৪,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়— সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে বাংলাদেশের বিষয়ে ভুল তথ্য জানেন। পুরনো ও ভুল র্যাংকিং এখনও রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আমাদের কাজ দেশকে প্রমোট করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।”
রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সহযোগিতা
সামিট নিয়ে রাজনৈতিক অনুমোদনের প্রশ্নে তিনি লেখেন, “বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান— যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এটা সবার কমন এজেন্ডা। সকল বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই সামিটে অংশগ্রহণ ও সমর্থন এসেছে।”
সমাপ্তিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
চৌধুরী আশিক তার পোস্টের শেষে বলেন, “সরকার একা এই সামিট আয়োজন করেনি। মিডিয়া, প্রাইভেট সেক্টর, অ্যাম্বাসি, ফরেন পার্টনার, রাজনৈতিক দল ও সরকারি সংস্থাসহ সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে। সফলতার কৃতিত্ব সবার, আর ব্যর্থতা আমাদের। আমরা চেষ্টা করবো আগামী বছর আরও ভালো কিছু করার।”