০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের কাতারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বজুড়ে আলোচিত ও মর্যাদাপূর্ণ তালিকা ‘টাইম ১০০: বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি’–তে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের গর্ব, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সমাজসংস্কারক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন ঘোষিত ২০২৫ সালের এই তালিকায় তিনি স্থান পেয়েছেন ‘লিডারস’ (নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি) বিভাগে।

ড. ইউনূসের পাশাপাশি এই বিভাগে আরও আছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির শীর্ষ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া সেইনবোম, এবং বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক।

ড. ইউনূসকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনে প্রশংসাবাক্য লিখেছেন সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন:

“ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন দেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন একজন পরিচিত নেতা—নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস।”

হিলারি ইউনূসের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে লেখেন:

“ড. ইউনূসের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে তখন, যখন তিনি ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের আদলে একটি প্রোগ্রাম চালু করতে তৎকালীন গভর্নর বিল ক্লিনটন ও আমাকে সহায়তা করতে আরকানসাসে আসেন। এরপর থেকে বিশ্বের যেখানে গিয়েছি, সেখানেই আমি তার কাজের অসাধারণ প্রভাব প্রত্যক্ষ করেছি।”

“আজ আবার তিনি দেশের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। বাংলাদেশকে নিপীড়ন, দমন-পীড়নের ছায়া থেকে মুক্ত করতে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি সমাজ গঠনের জন্য কাজ করছেন।”

ড. ইউনূস বিশ্বজুড়ে সমাদৃত মূলত ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করার জন্য। তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে লাখো নারী-পুরুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলেছে। ব্যাংকটির ঋণ সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই নারী, যারা নিজেদের জীবনে পরিবর্তন এনেছেন এবং সমাজে মর্যাদার সঙ্গে টিকে আছেন।

টাইম ম্যাগাজিনের মতো একটি আন্তর্জাতিক ও মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে ড. ইউনূসের এই স্বীকৃতি শুধু তার ব্যক্তি সফলতার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জন্যও এক গৌরবময় অর্জন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে তিনি আবারও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

 

ট্যাগ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে মাঠে নামছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ শনিবার গণমাধ্যমকে জানান, সেনাবাহিনী আগে থেকেই আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে। আজ থেকে আরও সদস্য যুক্ত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন (৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি) মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য সহায়ক। সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সবাই এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বাহিনীভিত্তিক মোতায়েনের সংখ্যা হলো—আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি): ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন,সেনাবাহিনী: ১ লাখ ৩ হাজার,নৌবাহিনী: ৫ হাজার,বিমানবাহিনী: ৩ হাজার ৭৩০ জন,বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি): ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন,কোস্ট গার্ড: ৩ হাজার ৫৮৫ জন,পুলিশ: ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন,র‌্যাব: ৯ হাজার ৩৪৯ জন এবংচৌকিদার-দফাদার: ৪৫ হাজার ৮২০ জন। পরিপত্রে আরও বলা হয়,...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের সব ভোটকেন্দ্রকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সম্প্রতি দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় ভোটার, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যসম্মত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মোসাদের গুপ্তচর ছিলেন এপস্টিন—এফবিআই নথির দাবি

মোসাদের গুপ্তচর ছিলেন এপস্টিন—এফবিআই নথির দাবি। ছবিঃসংগৃহীত

কুখ্যাত ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন গুপ্তচর ছিলেন—এমন বিস্ফোরক দাবি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর একটি গোপন নথিতে। ২০২০ সালের ওই নথিটি সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এপস্টিন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে জনসমক্ষে এসেছে। এফবিআই নথিটি একটি গোপনীয় মানবীয় সূত্র (Confidential Human Source – CHS)-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। নথিতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দেশীয় ও বিদেশি অনভিপ্রেত প্রভাব নিয়ে তথ্য থাকলেও, সেখানে এপস্টিনের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কিত বিস্তৃত বিবরণ উঠে আসে। নথি অনুযায়ী, এপস্টিন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সূত্রটি দাবি করেছে, বারাকের বিভিন্ন ব্যক্তিগত আলাপচারিতা শোনার পর তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে এপস্টিন মূলত মোসাদের একজন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। সূত্রটি আরও জানায়, এপস্টিন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক অ্যালান ডারশোভিটজ-এর মধ্যে হওয়া একাধিক ফোনালাপ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন এবং এসব কথোপকথনের বিস্তারিত নোট রাখা হতো। অভিযোগ রয়েছে, ওই তথ্যগুলো পরবর্তীতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে পাঠানো হতো। এফবিআইয়ের নথিতে দাবি করা হয়, ডারশোভিটজ একাধিকবার বলেছেন যে, “এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।” একই সঙ্গে সূত্রটি দাবি করেছে, ডারশোভিটজ নিজেও মোসাদের সুবিধাভোগী ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। উল্লেখ্য, অ্যালান ডারশোভিটজ একজন অত্যন্ত বিতর্কিত আইনজীবী...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ঢাকার ৬ আসনে আজ তারেক রহমানের টানা জনসভা

ঢাকার ৬ আসনে আজ তারেক রহমানের টানা জনসভা। ছবিঃসংগৃহীত

নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আজ রোববার রাজধানী ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয়টি সংসদীয় আসনে পৃথক জনসভায় অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আয়োজিত এসব জনসভায় তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টায় ঢাকা-১৭ আসনের নিজ নির্বাচনী এলাকা ইসিবি চত্বরে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ গোলচত্বর-সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এবং বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় গেটে জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। বিকেলের পর প্রচারণা আরও জোরদার করে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকা-১৩ আসনের শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডার সাঁতারকুলে অবস্থিত সানভ্যালি মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যানের। দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার মিলিয়ে মোট ১৪টি জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এর আগে গতকাল শনিবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নির্বাচনের মাঠে বিএনপির প্রচারণা জোরদার করতে এসব জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা...

আরো পড়ুন
জনপ্রিয় সংবাদ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের কাতারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বজুড়ে আলোচিত ও মর্যাদাপূর্ণ তালিকা ‘টাইম ১০০: বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি’–তে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের গর্ব, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সমাজসংস্কারক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন ঘোষিত ২০২৫ সালের এই তালিকায় তিনি স্থান পেয়েছেন ‘লিডারস’ (নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি) বিভাগে।

ড. ইউনূসের পাশাপাশি এই বিভাগে আরও আছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির শীর্ষ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া সেইনবোম, এবং বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক।

ড. ইউনূসকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনে প্রশংসাবাক্য লিখেছেন সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন:

“ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন দেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন একজন পরিচিত নেতা—নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস।”

হিলারি ইউনূসের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে লেখেন:

“ড. ইউনূসের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে তখন, যখন তিনি ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের আদলে একটি প্রোগ্রাম চালু করতে তৎকালীন গভর্নর বিল ক্লিনটন ও আমাকে সহায়তা করতে আরকানসাসে আসেন। এরপর থেকে বিশ্বের যেখানে গিয়েছি, সেখানেই আমি তার কাজের অসাধারণ প্রভাব প্রত্যক্ষ করেছি।”

“আজ আবার তিনি দেশের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। বাংলাদেশকে নিপীড়ন, দমন-পীড়নের ছায়া থেকে মুক্ত করতে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি সমাজ গঠনের জন্য কাজ করছেন।”

ড. ইউনূস বিশ্বজুড়ে সমাদৃত মূলত ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করার জন্য। তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে লাখো নারী-পুরুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলেছে। ব্যাংকটির ঋণ সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই নারী, যারা নিজেদের জীবনে পরিবর্তন এনেছেন এবং সমাজে মর্যাদার সঙ্গে টিকে আছেন।

টাইম ম্যাগাজিনের মতো একটি আন্তর্জাতিক ও মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে ড. ইউনূসের এই স্বীকৃতি শুধু তার ব্যক্তি সফলতার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জন্যও এক গৌরবময় অর্জন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে তিনি আবারও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।