১১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫, ৭ বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভালোবাসার কান্না

এক মায়ের নিখাঁদ মমতা আর হারানোর আর্তনাদ

তৃতীয় শহর— চট্টগ্রাম।
সকালে সূর্য উঠেছিল যেমন করে উঠে রোজ,
কিন্তু আজকের সকাল ছিল ভিন্ন।
কারণ, নাসরিনের কোলে আজ নেই তার ছয় মাসের ছোট্ট তামিম।

ঘটনাটা ঘটে এক মুহূর্তেই।
বাড়ির সামনের নালার পাশে বসে কাপড় ধুচ্ছিলেন নাসরিন।
তামিম পাশেই চেয়ারে বসে খেলা করছিল।
এক পলকের অসতর্কতায় সে পড়ে যায় ড্রেনের ভেতর।

চোখের সামনে সবকিছু থমকে যায়।

প্রথমে গলা ছেড়ে চিৎকার করেন নাসরিন,
তারপর শুরু হয় দৌড়, ছুটে বেড়ানো—
পাগলের মতো একের পর এক ড্রেনের মুখে মুখে খোঁজেন তিনি।

“তামিম! ও তামিম!”
ড্রেনের প্রতিধ্বনি কেবল তার নাম ফিরিয়ে দেয়,
কিন্তু তামিম ফিরত না।

পাশের বাড়ির লোকেরা আসে, সিভিল ডিফেন্স আসে,
কেউ জল সরায়, কেউ ড্রেন কেটে দেখে।
তবু তামিম— সে থাকে কোথাও এক গাঢ় নীরবতায়।

১৪ ঘণ্টা পর…

একটা নিথর দেহ উঠে আসে।
মাটির মতো কালো হয়ে যাওয়া তামিমকে দেখে
নাসরিন চিৎকার করে উঠেন,
একটানা বুক চাপড়ে কান্না করেন—
সে কান্নায় শব্দ নেই, ছন্দ নেই, শুধুই তীব্র ব্যথার গর্জন।

কেউ তাকে শান্ত করতে পারে না।
কারণ সেই কান্না ছিল আসল, খাঁটি, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার চিৎকার।
একটা মায়ের বুকের ভেতর থেকে উঠে আসা রক্তমাখা আর্তনাদ।

কোনো লোক দেখানো না, কোনো সাজানো অভিমুখ না—
এই কান্নায় ছিল শুধু একটুকরো হৃদয়ের ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া সুর।

এই মা কাউকে বিক্রি করেননি,
কোনো ভুল করেননি ইচ্ছে করে,
তবুও শাস্তি পেয়েছেন জীবনভর বুকের খালি জায়গা নিয়ে বেঁচে থাকার।

কারণ কিছু মায়েরা সন্তান হারান নিয়তির খেলায়,
কিন্তু ভালোবাসার খেলায় তারা কোনো দিন হারে না।

এই তিন মায়ের তিনটা গল্প—
একজন খুনি, একজন বিক্রেতা, আর একজন ভালোবাসার প্রতিমূর্তি।

কিন্তু মানুষ মনে রাখবে শেষজনকে,
কারণ সেই মায়ের চোখের জল আজও পবিত্র, আজও সত্য।

ট্যাগ
পোস্টকারীর সকল তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভালোবাসার কান্না

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৫০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

এক মায়ের নিখাঁদ মমতা আর হারানোর আর্তনাদ

তৃতীয় শহর— চট্টগ্রাম।
সকালে সূর্য উঠেছিল যেমন করে উঠে রোজ,
কিন্তু আজকের সকাল ছিল ভিন্ন।
কারণ, নাসরিনের কোলে আজ নেই তার ছয় মাসের ছোট্ট তামিম।

ঘটনাটা ঘটে এক মুহূর্তেই।
বাড়ির সামনের নালার পাশে বসে কাপড় ধুচ্ছিলেন নাসরিন।
তামিম পাশেই চেয়ারে বসে খেলা করছিল।
এক পলকের অসতর্কতায় সে পড়ে যায় ড্রেনের ভেতর।

চোখের সামনে সবকিছু থমকে যায়।

প্রথমে গলা ছেড়ে চিৎকার করেন নাসরিন,
তারপর শুরু হয় দৌড়, ছুটে বেড়ানো—
পাগলের মতো একের পর এক ড্রেনের মুখে মুখে খোঁজেন তিনি।

“তামিম! ও তামিম!”
ড্রেনের প্রতিধ্বনি কেবল তার নাম ফিরিয়ে দেয়,
কিন্তু তামিম ফিরত না।

পাশের বাড়ির লোকেরা আসে, সিভিল ডিফেন্স আসে,
কেউ জল সরায়, কেউ ড্রেন কেটে দেখে।
তবু তামিম— সে থাকে কোথাও এক গাঢ় নীরবতায়।

১৪ ঘণ্টা পর…

একটা নিথর দেহ উঠে আসে।
মাটির মতো কালো হয়ে যাওয়া তামিমকে দেখে
নাসরিন চিৎকার করে উঠেন,
একটানা বুক চাপড়ে কান্না করেন—
সে কান্নায় শব্দ নেই, ছন্দ নেই, শুধুই তীব্র ব্যথার গর্জন।

কেউ তাকে শান্ত করতে পারে না।
কারণ সেই কান্না ছিল আসল, খাঁটি, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার চিৎকার।
একটা মায়ের বুকের ভেতর থেকে উঠে আসা রক্তমাখা আর্তনাদ।

কোনো লোক দেখানো না, কোনো সাজানো অভিমুখ না—
এই কান্নায় ছিল শুধু একটুকরো হৃদয়ের ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া সুর।

এই মা কাউকে বিক্রি করেননি,
কোনো ভুল করেননি ইচ্ছে করে,
তবুও শাস্তি পেয়েছেন জীবনভর বুকের খালি জায়গা নিয়ে বেঁচে থাকার।

কারণ কিছু মায়েরা সন্তান হারান নিয়তির খেলায়,
কিন্তু ভালোবাসার খেলায় তারা কোনো দিন হারে না।

এই তিন মায়ের তিনটা গল্প—
একজন খুনি, একজন বিক্রেতা, আর একজন ভালোবাসার প্রতিমূর্তি।

কিন্তু মানুষ মনে রাখবে শেষজনকে,
কারণ সেই মায়ের চোখের জল আজও পবিত্র, আজও সত্য।