০৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের চোখের সামনে গাজায় গণহত্যা! মৃত ৫১ হাজার ছাড়াল

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত ১৫ মাস ধরে চলমান আগ্রাসনে গাজায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫১ হাজার ২৫০ জনে। সোমবার (২১ এপ্রিল) তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টার ইসরায়েলি হামলায় আরও ৬২ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৩১ জনে পৌঁছেছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে আছেন এবং রাস্তায় পড়ে থাকা আহতদের অনেকের কাছে এখনো উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি।

গত ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। প্রায় দুই মাস গাজায় তুলনামূলক শান্তি বিরাজ করলেও মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফের বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার ওপর নতুন করে চালানো এই হামলার পেছনে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৮৬৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ৪ হাজার ৯০০ জন আহত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে ভেঙে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, চলমান হামলায় গাজার ৮৫ শতাংশ জনগণ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় জনগণের জন্য খাদ্য, পানি, চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এছাড়াও, গাজার ওপর চালানো আগ্রাসনের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গণহত্যার মামলাও চলমান রয়েছে।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবতা ও ব্যর্থতা এ সংকটকে আরও গভীরতর করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগ

সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান আর নেই। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২৭ দিন পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হুজাইফার চাচা শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “আপনারা সবাই আমার ভাতিজির জন্য দোয়া করবেন।” গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে অবস্থানকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে হুজাইফার মাথায় লাগে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় জানান, অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকির কারণে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। কেবল মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৩ জানুয়ারি শিশুটিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হুজাইফার পরিবার জানায়, ঘটনার আগের রাতে সীমান্তের ওপারে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় শিশুটি বাইরে বের হলে আবারও...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়, একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়, একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী দলের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নির্বাচন শেষে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তাদের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তারা সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছে। যদিও ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল, তবে এবার সেই জোট পুনরায় গঠনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছেন তারেক রহমান। তারেক...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

হাদি হত্যা তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার

হাদি হত্যা তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার। ছবিঃসংগৃহীত

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিক পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে যমুনা ঘিরে সংঘর্ষে গুলির ব্যবহার হয়নি বলে দাবি সরকারের। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে পরিচালনার দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠানো হবে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরুতে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি। তবে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কোনো ধরনের গুলি বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে সরকার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক। ছবিঃসংগৃহীত

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার গড়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজের দুই প্রতিষ্ঠান SpaceX ও xAI-কে একীভূত করেছেন ধনকুবের উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার SpaceX-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই একীভূতকরণের ঘোষণা দেন। টেসলার সিইও ইলন মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও শীতলকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা পৃথিবীতে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, সূর্যের অফুরন্ত শক্তি কাজে লাগাতে সক্ষম মহাকাশ-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারই এআই-এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। মাস্ক লিখেছেন, “দীর্ঘমেয়াদে মহাকাশ-ভিত্তিক এআই ছাড়া বড় পরিসরে এআই সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। সূর্যের শক্তির মাত্র এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করলেও তা আমাদের বর্তমান সভ্যতার ব্যবহৃত শক্তির তুলনায় প্রায় দশ লক্ষ গুণ বেশি।” তিনি আরও বলেন, “এই বিপুল সম্পদ-নির্ভর কার্যক্রমকে এমন জায়গায় স্থানান্তর করাই যুক্তিসংগত, যেখানে শক্তি ও জায়গার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।” তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই এআই কম্পিউটিংয়ের সবচেয়ে কম খরচের জায়গা হয়ে উঠবে মহাকাশ। SpaceX ও xAI-এর এই একীভূতকরণে মাস্কের মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প একই ছাতার নিচে চলে এলো। SpaceX বর্তমানে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেট কর্মসূচি পরিচালনা করছে, আর xAI পরিচিত এআই-চালিত Grok চ্যাটবট তৈরির জন্য। গত বছর xAI সামাজিক...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

জাতিসংঘের চোখের সামনে গাজায় গণহত্যা! মৃত ৫১ হাজার ছাড়াল

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত ১৫ মাস ধরে চলমান আগ্রাসনে গাজায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫১ হাজার ২৫০ জনে। সোমবার (২১ এপ্রিল) তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টার ইসরায়েলি হামলায় আরও ৬২ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৩১ জনে পৌঁছেছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে আছেন এবং রাস্তায় পড়ে থাকা আহতদের অনেকের কাছে এখনো উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি।

গত ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। প্রায় দুই মাস গাজায় তুলনামূলক শান্তি বিরাজ করলেও মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফের বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার ওপর নতুন করে চালানো এই হামলার পেছনে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৮৬৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ৪ হাজার ৯০০ জন আহত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে ভেঙে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, চলমান হামলায় গাজার ৮৫ শতাংশ জনগণ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় জনগণের জন্য খাদ্য, পানি, চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এছাড়াও, গাজার ওপর চালানো আগ্রাসনের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গণহত্যার মামলাও চলমান রয়েছে।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবতা ও ব্যর্থতা এ সংকটকে আরও গভীরতর করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।