০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আট মাসে ২৬টি নতুন রাজনৈতিক দল ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠার পেছনে কী রহস্য?

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মাত্র আট মাসে দেশে আত্মপ্রকাশ করেছে ২৬টি নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম। এই সময়ে গড়ে প্রতি মাসে তিনটির বেশি দল গঠনের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নজিরবিহীন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক কৌশল, রাজনৈতিক লেবেল অর্জনের প্রয়াস এবং ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা।


🧾 যেসব নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে

এ পর্যন্ত গণমাধ্যমে যেসব দলের নাম এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  1. নিউক্লিয়াস পার্টি অব বাংলাদেশ (এনপিবি)

  2. জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি

  3. ওয়ার্ল্ড মুসলিম কমিউনিটি

  4. সমতা পার্টি

  5. বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি (বিপিপি)

  6. সার্বভৌমত্ব আন্দোলন

  7. বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি)

  8. বাংলাদেশ মুক্তির ডাক ৭১

  9. বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টি

  10. বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি)

  11. জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ

  12. দেশ জনতা পার্টি

  13. আমজনতার দল

  14. বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক শক্তি

  15. বাংলাদেশ সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএসডিপি)

  16. বাংলাদেশ জন-অধিকার পার্টি

  17. জাতীয় নাগরিক পার্টি

  18. জনতার বাংলাদেশ পার্টি

  19. জনতার দল

  20. গণতান্ত্রিক নাগরিক শক্তি

  21. ভাসানী জনশক্তি পার্টি

  22. বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি (বিএজেপি)

  23. জাতীয় নাগরিক কমিটি (প্ল্যাটফর্ম)

  24. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (প্ল্যাটফর্ম)

  25. বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (ছাত্র সংগঠন)

  26. ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (ঘোষণার অপেক্ষায়)


🧠 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখে নতুন দলের হিড়িক

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের এই প্রবণতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুরনো একটি দৃশ্যপটের পুনরাবৃত্তি মাত্র।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন:

“নির্বাচনের গন্ধ এলেই দেশে হঠাৎ করেই ব্যাঙের ছাতার মতো ছোট ছোট দল গজিয়ে ওঠে। এরশাদের আমলেও এমনটা দেখা গিয়েছিল। সেই সময় একপর্যায়ে দেশে ১২০টির মতো দল তৈরি হয়, যার মধ্যে ৯০টি দল নিয়ে একটি জোট গঠন করা হয়েছিল।”

তিনি মনে করেন, আজকের এই প্রবণতার পেছনেও তেমন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই কাজ করছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বলেন:

“রাজনীতি এখন অনেকের কাছে দ্রুত অর্থ ও প্রভাব অর্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদর্শের জায়গা সরে গিয়ে এখানে ‘রাজনৈতিক অর্থনীতি’র বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। তাই অনেকেই ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়ার আশায় দল গঠন করছে।”

তাঁদের মতে, এসব দলের বড় অংশ আদর্শনির্ভর রাজনীতির ধারক নয়, বরং তা অনেকটাই সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল বা ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার প্রয়াসমাত্র।

 


🧓 ‘রাজনৈতিক লেবেল’ না থাকায় জেলেই আটকে থাকা!

ডেসটিনির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন গঠন করেছেন বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি
তিনি বলেন,

“যেদিন শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন, তার পরের কয়েকদিনে বহু মানুষ জেল থেকে ছাড়া পেল। আমি যখন চাই, তখন বলা হলো—‘আপনার তো কোনো রাজনৈতিক দল নেই।’ অর্থাৎ রাজনৈতিক লেবেল থাকলে ছাড় মিলত!”

এই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজের ‘জুলুমের কথা’ জানানোর জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন বলেও জানান তিনি।


🎓 এনসিপি ও ছাত্র নেতৃত্বের উত্থান

সব দল সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও ন্যাশনাল চেঞ্জ পার্টি (এনসিপি) এক প্রকার আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
এটি মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি থেকে গড়ে ওঠা একটি সংগঠন। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ

শিবিরের সাবেক নেতাদের একটি অংশ এর মধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন নতুন দল ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।


🧑‍🤝‍🧑 জনগণ কী বলছে?

রাজধানীর এক CNG চালক  মো. আক্কেল আলি  বলেন  “বাংলাদেশে মনে হয়  ১০ জনেও দল করন যায়। যার যার মতো খালি দল বানাইতাছে। এগুলা আমরাও ১টা দল  বানাইতে হারি।” কেউ কি কইতে পারবো বাংলাদেশে কত দল।

শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের কাছেও  জিজ্ঞান  বেশিরভাগ দলের নামই অজানা।


📉 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: কয়টি দল টিকে থাকবে?

রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, অনেক দল এলেও টিকে থাকে খুব কম। কেউ কেউ বড় দলে মিশে যায়, কেউ আবার একবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই অদৃশ্য হয়ে যায়।


📌 উপসংহার
নতুন দল গঠন গণতান্ত্রিক চর্চার একটি বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো ব্যক্তিগত বা কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য গঠিত হয়।
আগামী নির্বাচন ঘিরে এই দলগুলোর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং কয়টি দল সত্যিকার অর্থে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে—তা সময়ই বলে দেবে।


🗨️ আপনার মতে, এই নতুন দলগুলো কি গণতন্ত্রের শক্তি বাড়াবে, না কি রাজনৈতিক বিভ্রান্তির নতুন অধ্যায় শুরু করবে? 

আমাদের কমেন্ট করে জানান।

ট্যাগ

সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান আর নেই। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২৭ দিন পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হুজাইফার চাচা শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “আপনারা সবাই আমার ভাতিজির জন্য দোয়া করবেন।” গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে অবস্থানকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে হুজাইফার মাথায় লাগে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় জানান, অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকির কারণে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। কেবল মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৩ জানুয়ারি শিশুটিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হুজাইফার পরিবার জানায়, ঘটনার আগের রাতে সীমান্তের ওপারে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় শিশুটি বাইরে বের হলে আবারও...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়, একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়, একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী দলের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নির্বাচন শেষে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তাদের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তারা সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছে। যদিও ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল, তবে এবার সেই জোট পুনরায় গঠনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছেন তারেক রহমান। তারেক...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

হাদি হত্যা তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার

হাদি হত্যা তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার। ছবিঃসংগৃহীত

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিক পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে যমুনা ঘিরে সংঘর্ষে গুলির ব্যবহার হয়নি বলে দাবি সরকারের। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে পরিচালনার দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠানো হবে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরুতে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি। তবে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কোনো ধরনের গুলি বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে সরকার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক। ছবিঃসংগৃহীত

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার গড়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজের দুই প্রতিষ্ঠান SpaceX ও xAI-কে একীভূত করেছেন ধনকুবের উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার SpaceX-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই একীভূতকরণের ঘোষণা দেন। টেসলার সিইও ইলন মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও শীতলকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা পৃথিবীতে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, সূর্যের অফুরন্ত শক্তি কাজে লাগাতে সক্ষম মহাকাশ-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারই এআই-এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। মাস্ক লিখেছেন, “দীর্ঘমেয়াদে মহাকাশ-ভিত্তিক এআই ছাড়া বড় পরিসরে এআই সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। সূর্যের শক্তির মাত্র এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করলেও তা আমাদের বর্তমান সভ্যতার ব্যবহৃত শক্তির তুলনায় প্রায় দশ লক্ষ গুণ বেশি।” তিনি আরও বলেন, “এই বিপুল সম্পদ-নির্ভর কার্যক্রমকে এমন জায়গায় স্থানান্তর করাই যুক্তিসংগত, যেখানে শক্তি ও জায়গার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।” তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই এআই কম্পিউটিংয়ের সবচেয়ে কম খরচের জায়গা হয়ে উঠবে মহাকাশ। SpaceX ও xAI-এর এই একীভূতকরণে মাস্কের মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প একই ছাতার নিচে চলে এলো। SpaceX বর্তমানে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেট কর্মসূচি পরিচালনা করছে, আর xAI পরিচিত এআই-চালিত Grok চ্যাটবট তৈরির জন্য। গত বছর xAI সামাজিক...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

আট মাসে ২৬টি নতুন রাজনৈতিক দল ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠার পেছনে কী রহস্য?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মাত্র আট মাসে দেশে আত্মপ্রকাশ করেছে ২৬টি নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম। এই সময়ে গড়ে প্রতি মাসে তিনটির বেশি দল গঠনের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নজিরবিহীন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক কৌশল, রাজনৈতিক লেবেল অর্জনের প্রয়াস এবং ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা।


🧾 যেসব নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে

এ পর্যন্ত গণমাধ্যমে যেসব দলের নাম এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  1. নিউক্লিয়াস পার্টি অব বাংলাদেশ (এনপিবি)

  2. জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি

  3. ওয়ার্ল্ড মুসলিম কমিউনিটি

  4. সমতা পার্টি

  5. বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি (বিপিপি)

  6. সার্বভৌমত্ব আন্দোলন

  7. বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি)

  8. বাংলাদেশ মুক্তির ডাক ৭১

  9. বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টি

  10. বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি)

  11. জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ

  12. দেশ জনতা পার্টি

  13. আমজনতার দল

  14. বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক শক্তি

  15. বাংলাদেশ সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএসডিপি)

  16. বাংলাদেশ জন-অধিকার পার্টি

  17. জাতীয় নাগরিক পার্টি

  18. জনতার বাংলাদেশ পার্টি

  19. জনতার দল

  20. গণতান্ত্রিক নাগরিক শক্তি

  21. ভাসানী জনশক্তি পার্টি

  22. বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি (বিএজেপি)

  23. জাতীয় নাগরিক কমিটি (প্ল্যাটফর্ম)

  24. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (প্ল্যাটফর্ম)

  25. বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (ছাত্র সংগঠন)

  26. ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (ঘোষণার অপেক্ষায়)


🧠 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখে নতুন দলের হিড়িক

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের এই প্রবণতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুরনো একটি দৃশ্যপটের পুনরাবৃত্তি মাত্র।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন:

“নির্বাচনের গন্ধ এলেই দেশে হঠাৎ করেই ব্যাঙের ছাতার মতো ছোট ছোট দল গজিয়ে ওঠে। এরশাদের আমলেও এমনটা দেখা গিয়েছিল। সেই সময় একপর্যায়ে দেশে ১২০টির মতো দল তৈরি হয়, যার মধ্যে ৯০টি দল নিয়ে একটি জোট গঠন করা হয়েছিল।”

তিনি মনে করেন, আজকের এই প্রবণতার পেছনেও তেমন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই কাজ করছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বলেন:

“রাজনীতি এখন অনেকের কাছে দ্রুত অর্থ ও প্রভাব অর্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদর্শের জায়গা সরে গিয়ে এখানে ‘রাজনৈতিক অর্থনীতি’র বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। তাই অনেকেই ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়ার আশায় দল গঠন করছে।”

তাঁদের মতে, এসব দলের বড় অংশ আদর্শনির্ভর রাজনীতির ধারক নয়, বরং তা অনেকটাই সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল বা ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার প্রয়াসমাত্র।

 


🧓 ‘রাজনৈতিক লেবেল’ না থাকায় জেলেই আটকে থাকা!

ডেসটিনির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন গঠন করেছেন বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি
তিনি বলেন,

“যেদিন শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন, তার পরের কয়েকদিনে বহু মানুষ জেল থেকে ছাড়া পেল। আমি যখন চাই, তখন বলা হলো—‘আপনার তো কোনো রাজনৈতিক দল নেই।’ অর্থাৎ রাজনৈতিক লেবেল থাকলে ছাড় মিলত!”

এই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজের ‘জুলুমের কথা’ জানানোর জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন বলেও জানান তিনি।


🎓 এনসিপি ও ছাত্র নেতৃত্বের উত্থান

সব দল সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও ন্যাশনাল চেঞ্জ পার্টি (এনসিপি) এক প্রকার আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
এটি মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি থেকে গড়ে ওঠা একটি সংগঠন। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ

শিবিরের সাবেক নেতাদের একটি অংশ এর মধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন নতুন দল ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।


🧑‍🤝‍🧑 জনগণ কী বলছে?

রাজধানীর এক CNG চালক  মো. আক্কেল আলি  বলেন  “বাংলাদেশে মনে হয়  ১০ জনেও দল করন যায়। যার যার মতো খালি দল বানাইতাছে। এগুলা আমরাও ১টা দল  বানাইতে হারি।” কেউ কি কইতে পারবো বাংলাদেশে কত দল।

শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের কাছেও  জিজ্ঞান  বেশিরভাগ দলের নামই অজানা।


📉 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: কয়টি দল টিকে থাকবে?

রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, অনেক দল এলেও টিকে থাকে খুব কম। কেউ কেউ বড় দলে মিশে যায়, কেউ আবার একবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই অদৃশ্য হয়ে যায়।


📌 উপসংহার
নতুন দল গঠন গণতান্ত্রিক চর্চার একটি বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো ব্যক্তিগত বা কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য গঠিত হয়।
আগামী নির্বাচন ঘিরে এই দলগুলোর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং কয়টি দল সত্যিকার অর্থে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে—তা সময়ই বলে দেবে।


🗨️ আপনার মতে, এই নতুন দলগুলো কি গণতন্ত্রের শক্তি বাড়াবে, না কি রাজনৈতিক বিভ্রান্তির নতুন অধ্যায় শুরু করবে? 

আমাদের কমেন্ট করে জানান।