০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেলিকম খাতে বাঁধন আলগা, ইন্টারনেট আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সংস্কার নীতিমালা-২০২৫’ এর খসড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জটিল, বহুস্তরভিত্তিক লাইসেন্সিং কাঠামো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর বদলে আনা হচ্ছে একটি সহজ, উদ্ভাবনী ও বিনিয়োগবান্ধব লাইসেন্সিং ব্যবস্থা।

নতুন নীতিমালায় তিনটি মূল লাইসেন্স এবং দুটি এনলিস্টমেন্ট চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এগুলো হলো— মোবাইল ও ফিক্সড টেলিকম সেবা, ব্যাকহল-টাওয়ার-ফাইবার অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক ভয়েস ও ডেটা সংযোগ। অন্যদিকে, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা, এসএমএস অ্যাগ্রিগেটর এবং ক্ষুদ্র টেলিকম সেবাগুলো ‘এনলিস্টমেন্ট’ এর আওতায় পরিচালিত হবে।

বিলুপ্ত হচ্ছে চার স্তরের সঞ্চালন কাঠামো

আইসিএক্স, নিক্স, আইজিডব্লিউ ও আইআইজি—এই চারটি মধ্যবর্তী স্তর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে খসড়ায়। এর ফলে ইন্টারনেট এখন সরাসরি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারবে, যা ইন্টারনেট সেবার মান উন্নত করবে এবং খরচ কমাবে।

লাইসেন্স ছাড়া চালানো যাবে একাধিক সেবা

টেলিকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (TVAS), কল সেন্টার, ভেহিকেল ট্র্যাকিং ইত্যাদি সেবাকে লাইসেন্সের আওতামুক্ত করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি স্বীকৃতির (এনলিস্টমেন্ট) মাধ্যমে এগুলো পরিচালনার সুযোগ থাকবে। এতে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রবেশ আরও সহজ হবে এবং বাজারে উদ্ভাবনী সেবার প্রসার ঘটবে।

বিদেশি বিনিয়োগের দুয়ার খুলছে

প্রস্তাবিত নীতিমালায় দুইটি ক্যাটাগরির লাইসেন্সে বিদেশি মালিকানার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইন্টারনেট কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার (N-ICSP) লাইসেন্সে ৭০% এবং ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার (I-ICSP) লাইসেন্সে ৪৯% পর্যন্ত বিদেশি মালিকানা অনুমোদনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

৭টি উদ্দেশ্য, ৩ ধাপে বাস্তবায়ন

বিটিআরসির খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে সাতটি মূল লক্ষ্য—এর মধ্যে রয়েছে সহজ টপোলজি, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা, সেবা সহজলভ্যতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন। নীতিমালাটি বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে:

  • ২০২৫ সালে অনুমোদন ও কার্যকারিতা শুরু

  • ২০২৫-২৬ সালে নতুন লাইসেন্স দেওয়া

  • ২০২৭ সালে পুরনো লাইসেন্স মেয়াদ শেষে নতুন কাঠামোয় স্থানান্তর

বিশেষজ্ঞদের মত
টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষকদের মতে, এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, প্রযুক্তির উন্নয়ন হবে এবং গ্রাহকরা আরও উন্নত মানের সেবা পাবেন।

একজন বিটিআরসি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, নতুন এ বিধান সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং টেলিকম খাতে আধুনিকতা ও দক্ষতা আনবে।”


ট্যাগ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে মাঠে নামছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ শনিবার গণমাধ্যমকে জানান, সেনাবাহিনী আগে থেকেই আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে। আজ থেকে আরও সদস্য যুক্ত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন (৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি) মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য সহায়ক। সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সবাই এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বাহিনীভিত্তিক মোতায়েনের সংখ্যা হলো—আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি): ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন,সেনাবাহিনী: ১ লাখ ৩ হাজার,নৌবাহিনী: ৫ হাজার,বিমানবাহিনী: ৩ হাজার ৭৩০ জন,বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি): ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন,কোস্ট গার্ড: ৩ হাজার ৫৮৫ জন,পুলিশ: ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন,র‌্যাব: ৯ হাজার ৩৪৯ জন এবংচৌকিদার-দফাদার: ৪৫ হাজার ৮২০ জন। পরিপত্রে আরও বলা হয়,...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের সব ভোটকেন্দ্রকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সম্প্রতি দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় ভোটার, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যসম্মত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মোসাদের গুপ্তচর ছিলেন এপস্টিন—এফবিআই নথির দাবি

মোসাদের গুপ্তচর ছিলেন এপস্টিন—এফবিআই নথির দাবি। ছবিঃসংগৃহীত

কুখ্যাত ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন গুপ্তচর ছিলেন—এমন বিস্ফোরক দাবি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর একটি গোপন নথিতে। ২০২০ সালের ওই নথিটি সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এপস্টিন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে জনসমক্ষে এসেছে। এফবিআই নথিটি একটি গোপনীয় মানবীয় সূত্র (Confidential Human Source – CHS)-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। নথিতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দেশীয় ও বিদেশি অনভিপ্রেত প্রভাব নিয়ে তথ্য থাকলেও, সেখানে এপস্টিনের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কিত বিস্তৃত বিবরণ উঠে আসে। নথি অনুযায়ী, এপস্টিন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সূত্রটি দাবি করেছে, বারাকের বিভিন্ন ব্যক্তিগত আলাপচারিতা শোনার পর তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে এপস্টিন মূলত মোসাদের একজন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। সূত্রটি আরও জানায়, এপস্টিন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক অ্যালান ডারশোভিটজ-এর মধ্যে হওয়া একাধিক ফোনালাপ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন এবং এসব কথোপকথনের বিস্তারিত নোট রাখা হতো। অভিযোগ রয়েছে, ওই তথ্যগুলো পরবর্তীতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে পাঠানো হতো। এফবিআইয়ের নথিতে দাবি করা হয়, ডারশোভিটজ একাধিকবার বলেছেন যে, “এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।” একই সঙ্গে সূত্রটি দাবি করেছে, ডারশোভিটজ নিজেও মোসাদের সুবিধাভোগী ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। উল্লেখ্য, অ্যালান ডারশোভিটজ একজন অত্যন্ত বিতর্কিত আইনজীবী...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ঢাকার ৬ আসনে আজ তারেক রহমানের টানা জনসভা

ঢাকার ৬ আসনে আজ তারেক রহমানের টানা জনসভা। ছবিঃসংগৃহীত

নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আজ রোববার রাজধানী ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয়টি সংসদীয় আসনে পৃথক জনসভায় অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আয়োজিত এসব জনসভায় তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টায় ঢাকা-১৭ আসনের নিজ নির্বাচনী এলাকা ইসিবি চত্বরে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ গোলচত্বর-সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এবং বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় গেটে জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। বিকেলের পর প্রচারণা আরও জোরদার করে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকা-১৩ আসনের শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডার সাঁতারকুলে অবস্থিত সানভ্যালি মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যানের। দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার মিলিয়ে মোট ১৪টি জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এর আগে গতকাল শনিবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নির্বাচনের মাঠে বিএনপির প্রচারণা জোরদার করতে এসব জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা...

আরো পড়ুন
জনপ্রিয় সংবাদ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

টেলিকম খাতে বাঁধন আলগা, ইন্টারনেট আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সংস্কার নীতিমালা-২০২৫’ এর খসড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জটিল, বহুস্তরভিত্তিক লাইসেন্সিং কাঠামো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর বদলে আনা হচ্ছে একটি সহজ, উদ্ভাবনী ও বিনিয়োগবান্ধব লাইসেন্সিং ব্যবস্থা।

নতুন নীতিমালায় তিনটি মূল লাইসেন্স এবং দুটি এনলিস্টমেন্ট চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এগুলো হলো— মোবাইল ও ফিক্সড টেলিকম সেবা, ব্যাকহল-টাওয়ার-ফাইবার অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক ভয়েস ও ডেটা সংযোগ। অন্যদিকে, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা, এসএমএস অ্যাগ্রিগেটর এবং ক্ষুদ্র টেলিকম সেবাগুলো ‘এনলিস্টমেন্ট’ এর আওতায় পরিচালিত হবে।

বিলুপ্ত হচ্ছে চার স্তরের সঞ্চালন কাঠামো

আইসিএক্স, নিক্স, আইজিডব্লিউ ও আইআইজি—এই চারটি মধ্যবর্তী স্তর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে খসড়ায়। এর ফলে ইন্টারনেট এখন সরাসরি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারবে, যা ইন্টারনেট সেবার মান উন্নত করবে এবং খরচ কমাবে।

লাইসেন্স ছাড়া চালানো যাবে একাধিক সেবা

টেলিকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (TVAS), কল সেন্টার, ভেহিকেল ট্র্যাকিং ইত্যাদি সেবাকে লাইসেন্সের আওতামুক্ত করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি স্বীকৃতির (এনলিস্টমেন্ট) মাধ্যমে এগুলো পরিচালনার সুযোগ থাকবে। এতে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রবেশ আরও সহজ হবে এবং বাজারে উদ্ভাবনী সেবার প্রসার ঘটবে।

বিদেশি বিনিয়োগের দুয়ার খুলছে

প্রস্তাবিত নীতিমালায় দুইটি ক্যাটাগরির লাইসেন্সে বিদেশি মালিকানার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইন্টারনেট কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার (N-ICSP) লাইসেন্সে ৭০% এবং ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার (I-ICSP) লাইসেন্সে ৪৯% পর্যন্ত বিদেশি মালিকানা অনুমোদনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

৭টি উদ্দেশ্য, ৩ ধাপে বাস্তবায়ন

বিটিআরসির খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে সাতটি মূল লক্ষ্য—এর মধ্যে রয়েছে সহজ টপোলজি, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা, সেবা সহজলভ্যতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন। নীতিমালাটি বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে:

  • ২০২৫ সালে অনুমোদন ও কার্যকারিতা শুরু

  • ২০২৫-২৬ সালে নতুন লাইসেন্স দেওয়া

  • ২০২৭ সালে পুরনো লাইসেন্স মেয়াদ শেষে নতুন কাঠামোয় স্থানান্তর

বিশেষজ্ঞদের মত
টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষকদের মতে, এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, প্রযুক্তির উন্নয়ন হবে এবং গ্রাহকরা আরও উন্নত মানের সেবা পাবেন।

একজন বিটিআরসি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, নতুন এ বিধান সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং টেলিকম খাতে আধুনিকতা ও দক্ষতা আনবে।”