০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“দখলের ভেতরে প্রতিবাদ: ইসরায়েলের নিভৃত সাহসীদের কথা”

  • নাতাশা মুন্নি
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
  • ১০৬ শেয়ার

ইসরায়েলের ভেতরের প্রতিবাদ: নিপীড়নের বিরুদ্ধে যে কণ্ঠগুলো আমরা শুনি না

ইসরায়েল—একটি রাষ্ট্র, যার নাম উচ্চারণেই ভেসে আসে ফিলিস্তিনের ওপর দখল, বোমাবর্ষণ আর নির্মম হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য। কিন্তু এই দখলদার রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরেও কিছু মানুষ, কিছু সংগঠন নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে আছেন যুদ্ধ, বর্ণবাদ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে। কারা এঁরা? কেনই বা তাঁদের কথা বিশ্ব খুব কম জানে?

________________________________________

ভিন্নমতের আদিগণ: মেইর ভিলনার

ইসরায়েলি ইতিহাসে যুদ্ধ ও দখলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানুষের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। সেই ধারার একজন আদিগণ ছিলেন মেইর ভিলনার (১৯১৮–২০০৩)। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী হয়েও তিনি ছিলেন জায়নিজম ও বর্ণবাদবিরোধী একজন দৃঢ় মার্ক্সবাদী।

পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে তিনি ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরোধিতা করেন। তাঁর অবস্থানের কারণে তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ বলা হয় এবং একবার এক উগ্রপন্থী ইহুদির ছুরিকাঘাতে আহত হন। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গঠিত হয় হাদাশ—একটি আরব-ইহুদি বামপন্থী দল, যা আজও সংসদে সক্রিয়।

________________________________________

ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া সাহসী সংগঠন

ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার আগেই বাম সংগঠন ‘মাপাম’, ‘মাকি’, ও ‘হাশোমের হাতসায়ার’ আরব-ইহুদি সহাবস্থানের পক্ষে ছিল। তারা বিশ্বাস করত, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ছাড়া নিরাপত্তা অসম্ভব। ১৯৬৭-র পর ‘অধিকৃত ভূখণ্ড’ শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় হয় মূলত ইসরায়েলি মানবাধিকার কর্মীদের মাধ্যমেই।

________________________________________

এখনো বেঁচে থাকা প্রতিবাদের ধারা

বর্তমানে ইসরায়েলের ভেতরেও সক্রিয় রয়েছে এক ঝাঁক সংগঠন, যারা নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব। এর মধ্যে রয়েছে ‘বেতসেলেম’, ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’, ‘মখসোম ওয়াচ’, ‘যেশ গ্ভুল’, ‘জোচরট’ ইত্যাদি। সাবেক সেনা, নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা এই সংগঠনে যুক্ত। এদের মতে, ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে তা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ।

________________________________________

প্রতিবাদ মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ?

এই সংগঠনগুলোকে ইসরায়েলি সরকার নানা উপায়ে দমন করে—আর্থিক নিপীড়ন, নজরদারি, সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়া। ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর মতো সংগঠনের ওপর চলছে লাগাতার হুমকি। ২০১৮ সালে পাস হওয়া বিতর্কিত ‘নেশন স্টেট ল’ ইহুদিদের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জাতি হিসেবে ঘোষণা দেয়—যার বিরোধিতা করেন হাদাশ পার্টির এমপি আইমান ওদে, দোভ খানিন ও তামার জানবার্গ।

________________________________________

২০২৩-২৪-এর সাম্প্রতিক প্রতিবাদ

২০২৩ সালের গাজা আগ্রাসনের সময় তেল আবিব, হাইফা, ও নাজারেথে যুদ্ধবিরোধী মিছিল হয়। ‘জিউস এগেইনস্ট জেনোসাইড’, ‘স্টুডেন্টস ফর সিজফায়ার’সহ ছোট সংগঠনগুলো রাস্তায় নামলে পুলিশি নিপীড়নের মুখে পড়ে।

তবু গিডিওন লেভি, আমির হাসের মতো সাংবাদিকরা হারেৎজ পত্রিকায় সাহসের সঙ্গে লিখে চলেছেন। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক-ছাত্র গাজার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

________________________________________

‘না’ বলার রাজনীতি

সেনাবাহিনী যোগদান বাধ্যতামূলক হলেও অনেক তরুণ-তরুণী এতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এদের বলা হয় ‘রিফিউজেনিক্স’। তারা ‘মেসারভত’ নামের সংগঠনের মাধ্যমে সহায়তা পান। তাঁদের বুকে লেখা—“উর্দি পরা খুনি হতে অস্বীকার করি।”

________________________________________

নীরবতার কারণ: ভয়, শিক্ষা ও সমাজচ্যুতি

ইসরায়েলি পাঠ্যবইয়ে ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব নেই। প্রতিবাদ মানেই আত্মপরিচয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যার ফলে পরিবারে ফাটল, বন্ধুত্বে ছেদ এবং পেশাগতভাবে ধ্বংস হওয়া খুব সাধারণ ঘটনা।

________________________________________

কেন আমরা এদের কথা জানি না?

কারণ স্পষ্ট—রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই মানবিক কণ্ঠগুলোকে সামনে আনতে চায় না। অথচ এসব কণ্ঠই ইসরায়েলের ভেতরে বেঁচে থাকা বিবেকের চিহ্ন।

________________________________________

ইসরায়েলি রাষ্ট্রযন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা দখল ও নিপীড়নের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলো প্রমাণ করে, বিবেক হারায়নি সব ইহুদি নাগরিক। যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই কণ্ঠগুলো শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বরং গোটা মানবতার জন্যই এক আশার প্রতীক।

ট্যাগ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে মাঠে নামছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ শনিবার গণমাধ্যমকে জানান, সেনাবাহিনী আগে থেকেই আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে। আজ থেকে আরও সদস্য যুক্ত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন (৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি) মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য সহায়ক। সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সবাই এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বাহিনীভিত্তিক মোতায়েনের সংখ্যা হলো—আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি): ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন,সেনাবাহিনী: ১ লাখ ৩ হাজার,নৌবাহিনী: ৫ হাজার,বিমানবাহিনী: ৩ হাজার ৭৩০ জন,বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি): ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন,কোস্ট গার্ড: ৩ হাজার ৫৮৫ জন,পুলিশ: ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন,র‌্যাব: ৯ হাজার ৩৪৯ জন এবংচৌকিদার-দফাদার: ৪৫ হাজার ৮২০ জন। পরিপত্রে আরও বলা হয়,...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের সব ভোটকেন্দ্রকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সম্প্রতি দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় ভোটার, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যসম্মত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মোসাদের গুপ্তচর ছিলেন এপস্টিন—এফবিআই নথির দাবি

মোসাদের গুপ্তচর ছিলেন এপস্টিন—এফবিআই নথির দাবি। ছবিঃসংগৃহীত

কুখ্যাত ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন গুপ্তচর ছিলেন—এমন বিস্ফোরক দাবি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর একটি গোপন নথিতে। ২০২০ সালের ওই নথিটি সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এপস্টিন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে জনসমক্ষে এসেছে। এফবিআই নথিটি একটি গোপনীয় মানবীয় সূত্র (Confidential Human Source – CHS)-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। নথিতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দেশীয় ও বিদেশি অনভিপ্রেত প্রভাব নিয়ে তথ্য থাকলেও, সেখানে এপস্টিনের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কিত বিস্তৃত বিবরণ উঠে আসে। নথি অনুযায়ী, এপস্টিন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সূত্রটি দাবি করেছে, বারাকের বিভিন্ন ব্যক্তিগত আলাপচারিতা শোনার পর তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে এপস্টিন মূলত মোসাদের একজন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। সূত্রটি আরও জানায়, এপস্টিন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক অ্যালান ডারশোভিটজ-এর মধ্যে হওয়া একাধিক ফোনালাপ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন এবং এসব কথোপকথনের বিস্তারিত নোট রাখা হতো। অভিযোগ রয়েছে, ওই তথ্যগুলো পরবর্তীতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে পাঠানো হতো। এফবিআইয়ের নথিতে দাবি করা হয়, ডারশোভিটজ একাধিকবার বলেছেন যে, “এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।” একই সঙ্গে সূত্রটি দাবি করেছে, ডারশোভিটজ নিজেও মোসাদের সুবিধাভোগী ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। উল্লেখ্য, অ্যালান ডারশোভিটজ একজন অত্যন্ত বিতর্কিত আইনজীবী...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ঢাকার ৬ আসনে আজ তারেক রহমানের টানা জনসভা

ঢাকার ৬ আসনে আজ তারেক রহমানের টানা জনসভা। ছবিঃসংগৃহীত

নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আজ রোববার রাজধানী ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয়টি সংসদীয় আসনে পৃথক জনসভায় অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আয়োজিত এসব জনসভায় তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টায় ঢাকা-১৭ আসনের নিজ নির্বাচনী এলাকা ইসিবি চত্বরে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ গোলচত্বর-সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এবং বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় গেটে জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। বিকেলের পর প্রচারণা আরও জোরদার করে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকা-১৩ আসনের শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডার সাঁতারকুলে অবস্থিত সানভ্যালি মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যানের। দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার মিলিয়ে মোট ১৪টি জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এর আগে গতকাল শনিবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নির্বাচনের মাঠে বিএনপির প্রচারণা জোরদার করতে এসব জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা...

আরো পড়ুন
জনপ্রিয় সংবাদ

৯.৭০ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ, আজ থেকে মাঠে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

“দখলের ভেতরে প্রতিবাদ: ইসরায়েলের নিভৃত সাহসীদের কথা”

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

ইসরায়েলের ভেতরের প্রতিবাদ: নিপীড়নের বিরুদ্ধে যে কণ্ঠগুলো আমরা শুনি না

ইসরায়েল—একটি রাষ্ট্র, যার নাম উচ্চারণেই ভেসে আসে ফিলিস্তিনের ওপর দখল, বোমাবর্ষণ আর নির্মম হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য। কিন্তু এই দখলদার রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরেও কিছু মানুষ, কিছু সংগঠন নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে আছেন যুদ্ধ, বর্ণবাদ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে। কারা এঁরা? কেনই বা তাঁদের কথা বিশ্ব খুব কম জানে?

________________________________________

ভিন্নমতের আদিগণ: মেইর ভিলনার

ইসরায়েলি ইতিহাসে যুদ্ধ ও দখলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানুষের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। সেই ধারার একজন আদিগণ ছিলেন মেইর ভিলনার (১৯১৮–২০০৩)। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী হয়েও তিনি ছিলেন জায়নিজম ও বর্ণবাদবিরোধী একজন দৃঢ় মার্ক্সবাদী।

পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে তিনি ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরোধিতা করেন। তাঁর অবস্থানের কারণে তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ বলা হয় এবং একবার এক উগ্রপন্থী ইহুদির ছুরিকাঘাতে আহত হন। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গঠিত হয় হাদাশ—একটি আরব-ইহুদি বামপন্থী দল, যা আজও সংসদে সক্রিয়।

________________________________________

ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া সাহসী সংগঠন

ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার আগেই বাম সংগঠন ‘মাপাম’, ‘মাকি’, ও ‘হাশোমের হাতসায়ার’ আরব-ইহুদি সহাবস্থানের পক্ষে ছিল। তারা বিশ্বাস করত, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ছাড়া নিরাপত্তা অসম্ভব। ১৯৬৭-র পর ‘অধিকৃত ভূখণ্ড’ শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় হয় মূলত ইসরায়েলি মানবাধিকার কর্মীদের মাধ্যমেই।

________________________________________

এখনো বেঁচে থাকা প্রতিবাদের ধারা

বর্তমানে ইসরায়েলের ভেতরেও সক্রিয় রয়েছে এক ঝাঁক সংগঠন, যারা নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব। এর মধ্যে রয়েছে ‘বেতসেলেম’, ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’, ‘মখসোম ওয়াচ’, ‘যেশ গ্ভুল’, ‘জোচরট’ ইত্যাদি। সাবেক সেনা, নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা এই সংগঠনে যুক্ত। এদের মতে, ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে তা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ।

________________________________________

প্রতিবাদ মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ?

এই সংগঠনগুলোকে ইসরায়েলি সরকার নানা উপায়ে দমন করে—আর্থিক নিপীড়ন, নজরদারি, সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়া। ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর মতো সংগঠনের ওপর চলছে লাগাতার হুমকি। ২০১৮ সালে পাস হওয়া বিতর্কিত ‘নেশন স্টেট ল’ ইহুদিদের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জাতি হিসেবে ঘোষণা দেয়—যার বিরোধিতা করেন হাদাশ পার্টির এমপি আইমান ওদে, দোভ খানিন ও তামার জানবার্গ।

________________________________________

২০২৩-২৪-এর সাম্প্রতিক প্রতিবাদ

২০২৩ সালের গাজা আগ্রাসনের সময় তেল আবিব, হাইফা, ও নাজারেথে যুদ্ধবিরোধী মিছিল হয়। ‘জিউস এগেইনস্ট জেনোসাইড’, ‘স্টুডেন্টস ফর সিজফায়ার’সহ ছোট সংগঠনগুলো রাস্তায় নামলে পুলিশি নিপীড়নের মুখে পড়ে।

তবু গিডিওন লেভি, আমির হাসের মতো সাংবাদিকরা হারেৎজ পত্রিকায় সাহসের সঙ্গে লিখে চলেছেন। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক-ছাত্র গাজার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

________________________________________

‘না’ বলার রাজনীতি

সেনাবাহিনী যোগদান বাধ্যতামূলক হলেও অনেক তরুণ-তরুণী এতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এদের বলা হয় ‘রিফিউজেনিক্স’। তারা ‘মেসারভত’ নামের সংগঠনের মাধ্যমে সহায়তা পান। তাঁদের বুকে লেখা—“উর্দি পরা খুনি হতে অস্বীকার করি।”

________________________________________

নীরবতার কারণ: ভয়, শিক্ষা ও সমাজচ্যুতি

ইসরায়েলি পাঠ্যবইয়ে ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব নেই। প্রতিবাদ মানেই আত্মপরিচয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যার ফলে পরিবারে ফাটল, বন্ধুত্বে ছেদ এবং পেশাগতভাবে ধ্বংস হওয়া খুব সাধারণ ঘটনা।

________________________________________

কেন আমরা এদের কথা জানি না?

কারণ স্পষ্ট—রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই মানবিক কণ্ঠগুলোকে সামনে আনতে চায় না। অথচ এসব কণ্ঠই ইসরায়েলের ভেতরে বেঁচে থাকা বিবেকের চিহ্ন।

________________________________________

ইসরায়েলি রাষ্ট্রযন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা দখল ও নিপীড়নের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলো প্রমাণ করে, বিবেক হারায়নি সব ইহুদি নাগরিক। যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই কণ্ঠগুলো শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বরং গোটা মানবতার জন্যই এক আশার প্রতীক।