০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হার্ভার্ড বনাম হোয়াইট হাউস: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঘিরে তীব্র দ্বন্দ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীন ও খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একইসঙ্গে হার্ভার্ডকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি একাধিক শর্ত পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে হার্ভার্ডের “স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম” বাতিল করা হয়েছে। তিনি লিখেন, “এটি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।”

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি ও প্রতিশোধমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, “আমাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এক বিশ্বজনীন, স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা অটল। প্রশাসনের এ পদক্ষেপ শুধু আমাদের একাডেমিক মিশনকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ভবিষ্যতকেও অনিশ্চিত করে তুলেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হার্ভার্ডে ১৪০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা প্রায় ৬,৭০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২৭ শতাংশ।

এই ঘোষণার পরপরই হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষার্থী সারাহ ডেভিস বলেন, “আমাদের অনেকেরই গ্র্যাজুয়েশন মাত্র কয়েকদিন পর। এখন এই সিদ্ধান্ত আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

সুইডিশ শিক্ষার্থী লিও গেরডেন বলেন, “আমরা যারা হার্ভার্ডে আসতে পেরেছিলাম, তাদের জন্য এটা ছিল এক স্বপ্নের দিন। এখন হঠাৎ আমাদের আইনি মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এটা অমানবিক।”

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, হার্ভার্ডে ইহুদি-বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তারা তদন্ত শুরু করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিয়োগ, ভর্তি ও শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে বলেছে। প্রশাসনের দাবির মধ্যে রয়েছে গত পাঁচ বছরে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সব তথ্য, ভিডিও, অডিও এবং বিক্ষোভে জড়িত শিক্ষার্থীদের রেকর্ড হস্তান্তরের মতো দাবি।

এদিকে হার্ভার্ড বলছে, এসব দাবি তাদের একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনের ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা’।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এরইমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক বৃহস্পতিবার এক মামলায় এই নীতির বাস্তবায়নে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু হার্ভার্ড নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শিক্ষার্থীদের জন্য গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।


ট্যাগ

সৌদি আরব ও কুয়েত লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

সৌদি আরব ও কুয়েত লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন অধ্যায় তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার মধ্যরাতের পর এসব মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সৌদি আরব ও কুয়েত উভয় দেশই জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাগুলো সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদের কাছে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। কিন্তু লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মিসাইলগুলো ধ্বংস করে দেয়। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সেটিকে ধ্বংস করা হয়। তবে প্রতিরক্ষা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ একটি এলাকায় পড়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস আংশিক বা সম্পূর্ণ খালি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

বাহরাইনে ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনাদের আবাসস্থল

বাহরাইনে ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনাদের আবাসস্থল

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি হোটেলে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় ও আঞ্চলিক কয়েকটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খবরে বলা হয়েছে, হামলার আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার দিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজধানীতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সে সময় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানায়। এতে বোঝা যায় যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে আগেই সতর্ক ছিল দেশটির প্রশাসন। স্থানীয় একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী মানামার জুফফাইর এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেল বা আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই এলাকাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক সদস্য অবস্থান করেন। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ওই নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেনাদের আবাসস্থল। তবে হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বাহরাইনের সরকার বা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ। হতাহতের কোনো তথ্যও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে ইরানের পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ঘটনাটিকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজান মাসের শেষ দশকে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত হলো ইতিকাফ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে দুনিয়ার সব ব্যস্ততা থেকে নিজেকে দূরে রেখে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে নিমগ্ন থাকার এই আমলকে ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আলেমরা বলেন, ইতিকাফ মানুষের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে আল্লাহর ইবাদতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিবার, সমাজ, কাজ এবং নানা দায়িত্বের কারণে অনেক সময় গভীরভাবে ইবাদতে মনোনিবেশ করা সম্ভব হয় না। ইতিকাফ সেই সুযোগকে উন্মুক্ত করে দেয়, যেখানে একজন মুসলমান নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর স্মরণ, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া-ইস্তিগফারে সময় ব্যয় করতে পারেন। ১৭ রমজান: বদর যুদ্ধের ঐতিহাসিক দিন। কুরআনুল কারিমেও ইতিকাফের উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-বাকারা ১২৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তিনি হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা তাঁর ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখেন। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইতিকাফের বিধান ইসলামের প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। হাদিসেও ইতিকাফের গুরুত্ব সম্পর্কে বহু বর্ণনা রয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর প্রায় প্রতি বছরই রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। একবার বিশেষ কারণে ইতিকাফ করতে না পারায় পরের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন বলে হাদিসে উল্লেখ...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

বদি ও আইভীর জামিন স্থগিত, শুনানি ৯ মার্চ

বদি ও আইভীর জামিন স্থগিত, শুনানি ৯ মার্চ

বগুড়ায় দায়ের করা জুলাই-আগস্টের হত্যাচেষ্টা মামলায় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৯ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশের আপিল বিভাগ-এর চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় বদিকে জামিন দেন বাংলাদেশের হাইকোর্ট-এর বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের বেঞ্চ। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট হত্যাচেষ্টা মামলায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে র‌্যাব আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার করে। রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বদি। তবে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পরিবর্তে আওয়ামী লীগ তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে মনোনয়ন দেয় এবং তিনি দুই দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া চারটি হত্যামামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দেওয়া জামিনও স্থগিত করেছেন একই আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশের আপিল বিভাগ-এর চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আইভীর জামিন বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য আগামী ৯ মার্চ দিন...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

হার্ভার্ড বনাম হোয়াইট হাউস: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঘিরে তীব্র দ্বন্দ্ব

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৪৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীন ও খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একইসঙ্গে হার্ভার্ডকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি একাধিক শর্ত পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে হার্ভার্ডের “স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম” বাতিল করা হয়েছে। তিনি লিখেন, “এটি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।”

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি ও প্রতিশোধমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, “আমাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এক বিশ্বজনীন, স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা অটল। প্রশাসনের এ পদক্ষেপ শুধু আমাদের একাডেমিক মিশনকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ভবিষ্যতকেও অনিশ্চিত করে তুলেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হার্ভার্ডে ১৪০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা প্রায় ৬,৭০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২৭ শতাংশ।

এই ঘোষণার পরপরই হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষার্থী সারাহ ডেভিস বলেন, “আমাদের অনেকেরই গ্র্যাজুয়েশন মাত্র কয়েকদিন পর। এখন এই সিদ্ধান্ত আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

সুইডিশ শিক্ষার্থী লিও গেরডেন বলেন, “আমরা যারা হার্ভার্ডে আসতে পেরেছিলাম, তাদের জন্য এটা ছিল এক স্বপ্নের দিন। এখন হঠাৎ আমাদের আইনি মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এটা অমানবিক।”

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, হার্ভার্ডে ইহুদি-বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তারা তদন্ত শুরু করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিয়োগ, ভর্তি ও শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে বলেছে। প্রশাসনের দাবির মধ্যে রয়েছে গত পাঁচ বছরে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সব তথ্য, ভিডিও, অডিও এবং বিক্ষোভে জড়িত শিক্ষার্থীদের রেকর্ড হস্তান্তরের মতো দাবি।

এদিকে হার্ভার্ড বলছে, এসব দাবি তাদের একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনের ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা’।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এরইমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক বৃহস্পতিবার এক মামলায় এই নীতির বাস্তবায়নে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু হার্ভার্ড নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শিক্ষার্থীদের জন্য গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।