০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদায় হজ: যখন এক ভাষণে গড়ে উঠেছিল ন্যায়ভিত্তিক সভ্যতার ভিত

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো তাঁর বিদায় হজ। এটি ছিল একমাত্র হজ যা তিনি স্বয়ং সম্পন্ন করেছিলেন এবং এ হজে তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে ইসলামি জীবনব্যবস্থার পূর্ণতা ঘোষণা করা হয়।

বিদায় হজ পালিত হয় ১০ হিজরি সনের জিলহজ মাসে। রাসূল (সা.) মদিনা থেকে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হন ২৫শে জিলকদ তারিখে, প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষের মতো সাহাবী তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

তিনি মক্কায় পৌঁছে ৮ই জিলহজ কাবা শরিফে গমন করেন এবং যথারীতি হজের সব নিয়ম-নীতি আদায় করেন।

🕋 হজের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

  1. ইহরাম গ্রহণ – যুলহাজ্জার শুরুতে ‘জুহফা’ নামক স্থানে পৌঁছে রাসূল (সা.) ইহরাম বাঁধেন।
  2. কাবা শরীফ তাওয়াফ – পবিত্র কাবা ঘরের তাওয়াফ করেন।
  3. আরাফাতের ময়দানে উপস্থিতি (৯ই জিলহজ) – এখানেই তিনি প্রদান করেন বিখ্যাত বিদায় খুতবা।
  4. মুযদালিফা ও মিনায় অবস্থান – রাত কাটান মুযদালিফায়, এবং মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

আরাফাতের ময়দানে প্রদত্ত খুতবায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

❝হে মানবজাতি! তোমরা সবাই আদম (আ.)-এর সন্তান, আর আদম মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছেন। কোন আরবের উপর অনারবের, অনারবের উপর আরবের, কালোর উপর সাদার, বা সাদার উপর কালোর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই — শুধুই তাকওয়ার ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত।❞
(মুসলিম, হাদীস ১২১৮; ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩০৫৫)

তিনি আরও বলেন:

❝আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা তা আঁকড়ে ধরো তবে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না — তা হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআন) এবং আমার সুন্নাহ।❞
(মুয়াত্তা মালিক, হাদীস ১৬১৩)

আরাফার মাঠে থাকাকালীন নাজিল হয় ঐতিহাসিক আয়াত:

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণতা দান করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”
— সূরা আল-মায়িদাহ: ৩

এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে পরিপূর্ণতা লাভ করে।

রাসূল (সা.) তাঁর খুতবায় বলেন:

❝হয়ত এই হজের পর আমি তোমাদের সাথে আর কখনো এখানে মিলিত হতে পারব না।❞
এ কথায় উপস্থিত সাহাবীরা অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। এই হজের পর রাসূল (সা.) মাত্র তিন মাস বেঁচে ছিলেন।

বিদায় হজ ছিল মানবতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, নারী-পুরুষের অধিকার এবং ইসলামি জীবনব্যবস্থার সারাংশ উপস্থাপনের চূড়ান্ত মঞ্চ। এর খুতবায় তুলে ধরা হয়েছে এমন এক আদর্শ সমাজব্যবস্থার রূপরেখা, যা আজও মানব জাতির জন্য পথপ্রদর্শক।

 

ট্যাগ

কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

১৫ ফেব্রুয়ারি: ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তাঁরা মাথানত করবেন না এবং ন্যায় ও সত্যের ওপর অটল থাকবেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর আমির তাঁর পোস্টে নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং নারীদের শ্লীলতাহানির মতো ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। শফিকুর রহমান লেখেন, “দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাই-বোনদের ওপর একটি বিশেষ দলের কিছু উশৃঙ্খল আচরণ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—এমনকি ১১ দলের প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের সম্মানিত নারীদের শ্লীলতাহানির মতো বেদনাদায়ক ঘটনার খবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের কাছে আসছে।” তিনি আরও বলেন, “ন্যায় ও সত্যের ওপর ইনশাআল্লাহ আমরা অটল থাকবো। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা মাথানত করবো না। যেখানেই এ ধরনের আঘাত আসবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মজলুমের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানেই তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির আহ্বান জানান, সাধারণ মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে। তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, এটি মানবতার দাবি, মহান আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি এবং দেশকে ভালোবাসার দাবি। এই দাবি পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ব্যাপারে কোনো দুর্বলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই।” পোস্টের শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে দোয়া...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

রমজানে ট্রাকসেল শুরু করছে টিসিবি

রমজানে ট্রাকসেল শুরু করছে টিসিবি

তেল-ডাল-চিনির সঙ্গে মিলবে ছোলা ও খেজুর, ৩০–৩৫ লাখ ভোক্তা উপকৃত হবেন আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাকের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান Trading Corporation of Bangladesh (টিসিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, রমজান মাস শুরুর আগের দিন থেকেই ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবি জানায়, বর্তমানে সারাদেশে ভর্তুকি মূল্যে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি রমজান মাসে ট্রাকসেলের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। টিসিবির নিয়মিত পণ্য—সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি—এর পাশাপাশি রমজান উপলক্ষে ছোলা ও খেজুরও ট্রাকসেলের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে ট্রাকসেলের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পরে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। টিসিবি জানিয়েছে, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, ট্রাকসেল কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

বিএনপি সরকারের শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি, প্রতিনিধি পাঠাবে ভারত

বিএনপি সরকারের শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি, প্রতিনিধি পাঠাবে ভারত

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি — ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে শপথ অনুষ্ঠানে মোদির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Hindustan Times। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই দিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভারত সফরে যাচ্ছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে মোদি ও ম্যাক্রোঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। এরপর ম্যাক্রোঁ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এআই ইমপ্যাক্ট সম্মেলনে অংশ নেবেন। তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করবেন। এই কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে বাংলাদেশের শপথ অনুষ্ঠানে মোদির উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়। তবে ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারতের ভাইস-প্রেসিডেন্ট অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এদিকে, নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপি প্রধান তারেক রহমানকে টেলিফোনে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশের নির্বাচনে ‘অসাধারণ জয়’-এর জন্য শুভেচ্ছা জানান। পোস্টে মোদি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মাইন্ড হ্যাকার ওয়ালিদ মেসিলি হিপনোসিসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন

মাইন্ড হ্যাকার ওয়ালিদ মেসিলি হিপনোসিসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন

আলজেরিয়ান-আমেরিকান প্রকৌশলী ওয়ালিদ মেসিলি, যিনি নিজেকে “মাইন্ড হ্যাকার” বলে পরিচয় দেন, হিপনোসিস এবং মনোবিজ্ঞানের জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন। ব্রিটিশ স্কুল থেকে আঠারো বছর বয়সে তিনি NLP (নিউরো-লিঙ্গুয়িস্টিক প্রোগ্রামিং) সার্টিফিকেট অর্জন করেন এবং এরপর পেশাদারভাবে হিপনোসিস এবং পরামর্শে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ওয়ালিদ বলেন, “আমি আলজেরিয়ার—and আরব বিশ্বের—for প্রথমবার হিপনোসিস প্রবর্তন করি এবং এটিকে ব্যবহারিক, দ্রুত ফলপ্রসূভাবে উপস্থাপন করি, বিশেষ করে তাৎক্ষণিক হিপনোসিসের মাধ্যমে, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হিপনোটিক অবস্থা তৈরি করতে পারে।” আরো পড়ুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান, পরাজয় মেনে নিল জামায়াত বঙ্গভবন নয়  দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে শান্তি পরিষদে যোগ দেবেন হিপনোসিস বা হিপনোথেরাপি, ওয়ালিদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মনোবিজ্ঞানের একটি শাখা যা অবচেতন মনকে লক্ষ্য করে। শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত স্মৃতি, আচরণ এবং প্রোগ্রামিংয়ের উপর সরাসরি কাজ করে এটি। এর মাধ্যমে ধূমপান, মাদক, অ্যালকোহল আসক্তি, ফোবিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি ভয় নিরাময় করা সম্ভব। “আমরা অবচেতন মন পুনঃপ্রোগ্রাম করে মানুষের অসাধারণ ক্ষমতা উদ্দীপিত করতে পারি,” ওয়ালিদ বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে হিপনোসিস শুধুমাত্র বিনোদন বা সিনেমার গল্প নয়, বরং একটি বাস্তব এবং কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে এই ক্ষেত্রটি ভয় এবং কৌতূহল উভয়ই উদ্রেক করে। “সম্মোহনের ভয় প্রায়শই জ্ঞানের অভাব, চলচ্চিত্র এবং গুজব দ্বারা প্রভাবিত হয়। যারা শিখতে এবং পরীক্ষা করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বিদায় হজ: যখন এক ভাষণে গড়ে উঠেছিল ন্যায়ভিত্তিক সভ্যতার ভিত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো তাঁর বিদায় হজ। এটি ছিল একমাত্র হজ যা তিনি স্বয়ং সম্পন্ন করেছিলেন এবং এ হজে তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে ইসলামি জীবনব্যবস্থার পূর্ণতা ঘোষণা করা হয়।

বিদায় হজ পালিত হয় ১০ হিজরি সনের জিলহজ মাসে। রাসূল (সা.) মদিনা থেকে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হন ২৫শে জিলকদ তারিখে, প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষের মতো সাহাবী তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

তিনি মক্কায় পৌঁছে ৮ই জিলহজ কাবা শরিফে গমন করেন এবং যথারীতি হজের সব নিয়ম-নীতি আদায় করেন।

🕋 হজের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

  1. ইহরাম গ্রহণ – যুলহাজ্জার শুরুতে ‘জুহফা’ নামক স্থানে পৌঁছে রাসূল (সা.) ইহরাম বাঁধেন।
  2. কাবা শরীফ তাওয়াফ – পবিত্র কাবা ঘরের তাওয়াফ করেন।
  3. আরাফাতের ময়দানে উপস্থিতি (৯ই জিলহজ) – এখানেই তিনি প্রদান করেন বিখ্যাত বিদায় খুতবা।
  4. মুযদালিফা ও মিনায় অবস্থান – রাত কাটান মুযদালিফায়, এবং মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

আরাফাতের ময়দানে প্রদত্ত খুতবায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

❝হে মানবজাতি! তোমরা সবাই আদম (আ.)-এর সন্তান, আর আদম মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছেন। কোন আরবের উপর অনারবের, অনারবের উপর আরবের, কালোর উপর সাদার, বা সাদার উপর কালোর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই — শুধুই তাকওয়ার ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত।❞
(মুসলিম, হাদীস ১২১৮; ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩০৫৫)

তিনি আরও বলেন:

❝আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা তা আঁকড়ে ধরো তবে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না — তা হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআন) এবং আমার সুন্নাহ।❞
(মুয়াত্তা মালিক, হাদীস ১৬১৩)

আরাফার মাঠে থাকাকালীন নাজিল হয় ঐতিহাসিক আয়াত:

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণতা দান করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”
— সূরা আল-মায়িদাহ: ৩

এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে পরিপূর্ণতা লাভ করে।

রাসূল (সা.) তাঁর খুতবায় বলেন:

❝হয়ত এই হজের পর আমি তোমাদের সাথে আর কখনো এখানে মিলিত হতে পারব না।❞
এ কথায় উপস্থিত সাহাবীরা অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। এই হজের পর রাসূল (সা.) মাত্র তিন মাস বেঁচে ছিলেন।

বিদায় হজ ছিল মানবতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, নারী-পুরুষের অধিকার এবং ইসলামি জীবনব্যবস্থার সারাংশ উপস্থাপনের চূড়ান্ত মঞ্চ। এর খুতবায় তুলে ধরা হয়েছে এমন এক আদর্শ সমাজব্যবস্থার রূপরেখা, যা আজও মানব জাতির জন্য পথপ্রদর্শক।