
ইসলামে কোরবানির রীতি নবী আদম (আঃ) এবং ইব্রাহিম (আঃ)-এর সময় থেকেই প্রচলিত থাকলেও, ইসলাম ধর্ম প্রচারের পর ঈদুল আযহার কোরবানি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিধান হিসেবে চালু হয় হিজরতের পর মদিনায়।
ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কার বহু মানুষ ইসলামপূর্ব যুগে বিভিন্ন দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করত। তবে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এ রীতিতে অংশ নেননি। ইসলাম প্রচারের শুরুতে তাঁর মূল কাজ ছিল একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা। মদিনায় হিজরতের পর দ্বিতীয় হিজরি সনে আনুষ্ঠানিকভাবে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার প্রবর্তন হয়। তখন থেকেই ইসলামে কোরবানি ইবাদত হিসেবে পালন শুরু হয়। “মদিনায় যাওয়ার পর রাসূল (সাঃ) মুসলমানদের জন্য দুটি ধর্মীয় উৎসব চালু করেন, যার একটি হচ্ছে ঈদুল আযহা।”
ইতিহাসবিদদের মতে, হিজরতের পর রাসূল (সাঃ) নিজ হাতে দুইটি শিংওয়ালা, স্থূল দেহের দুম্বা কোরবানি করেন—একটি নিজের পক্ষ থেকে, অন্যটি উম্মতের পক্ষ থেকে। তিরমিজি শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূল (সাঃ) জীবনের শেষ দশ বছর মদিনায় অবস্থানকালে প্রতি বছর কোরবানি করতেন।
প্রথম যুগে কোরবানি ছিল অনেকটাই হজ কেন্দ্রিক। হজ পালনকারীরা ‘হাদি’ নামে পশু নিয়ে যেতেন, যেগুলোর শরীরে চিহ্ন দিয়ে কাবার দিকে ছেড়ে দেওয়া হতো। ষষ্ঠ হিজরিতে ওমরাহর উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় রাসূল (সাঃ) হুদাইবিয়ার সীমানায় অবস্থানকালে ৬৩টি উট কোরবানি করেন বলে জানা যায়।
রাসূল (সাঃ)-এর প্রথম কোরবানি
ইতিহাসবিদদের মতে, হিজরতের পর রাসূল (সাঃ) নিজ হাতে দুইটি শিংওয়ালা, স্থূল দেহের দুম্বা কোরবানি করেন—একটি নিজের পক্ষ থেকে, অন্যটি উম্মতের পক্ষ থেকে। তিরমিজি শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূল (সাঃ) জীবনের শেষ দশ বছর মদিনায় অবস্থানকালে প্রতি বছর কোরবানি করতেন। প্রথম যুগে কোরবানি ছিল অনেকটাই হজ কেন্দ্রিক। হজ পালনকারীরা ‘হাদি’ নামে পশু নিয়ে যেতেন, যেগুলোর শরীরে চিহ্ন দিয়ে কাবার দিকে ছেড়ে দেওয়া হতো। ষষ্ঠ হিজরিতে ওমরাহর উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় রাসূল (সাঃ) হুদাইবিয়ার সীমানায় অবস্থানকালে ৬৩টি উট কোরবানি করেন বলে জানা যায়।
কোরআনের সুরা কাওসার ও সুরা হজ-এ কোরবানির সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সূরা নাজিল হয় রাসূল (সাঃ)-এর মক্কায় অবস্থানকালে ও হিজরতের পরের সময়কালে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, “ইসলামের বহু বিধান পূর্ববর্তী নবীদের রীতি অনুসরণ করে প্রবর্তিত হয়েছে। কোরবানির রীতিও এর ব্যতিক্রম নয়।”
তিনি আরও বলেন, “রাসূল (সাঃ)-এর জীবনে কোরবানি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বের বিষয়। তাঁর উম্মতের জন্য এটি শুধু এক ধর্মীয় কর্তব্য নয়, বরং আত্মত্যাগ ও ভক্তির প্রতীক।”
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















