
গাজা থেকে হজে গেছেন ১,৩৫০ জন, আশ্রয়স্থল মিশর থেকেই সৌদি যাত্রা
চলতি হজ মৌসুমে ৬,৬০০ জন ফিলিস্তিনি মুসলিম হজ পালন করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিন সরকারের আওতাধীন ধর্ম ও ওয়াকফ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তফা নাজম।
তাদের মধ্যে ৫,২৫০ জন এসেছেন পশ্চিম তীর ও দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম অঞ্চল থেকে।
অপরদিকে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা থেকে হজে গেছেন ১,৩৫০ জন।
তারা বর্তমানে মিশরে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই সৌদি আরবে হজ পালনের উদ্দেশ্যে গমন করেন।
ফিলিস্তিনিদের হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৩,৩২০ থেকে ৩,৮১৭ জর্ডানিয়ান দিনার, যা মার্কিন ডলারে আনুমানিক ৪,৬৮০ থেকে ৫,৩৮০ ডলারের সমান।
এমন উচ্চ ব্যয়, চলমান সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও ফিলিস্তিনি মুসলিমরা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এই ফরজ ইবাদত পালন করছেন।
মন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তফা নাজম ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’-কে জানান,
“ফিলিস্তিনি হাজিরা বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। তারা আরাফার ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন এবং হজের সকল আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে পালন করছেন।”
তিনি আরও জানান, “বৃহস্পতিবার ফজরের আগেই হাজিদের মিনা থেকে আরাফায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ হজযাত্রা শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।”
মন্ত্রী বলেন, “গতবারের মতো এবারও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যার মধ্যেই পবিত্র হজ পালিত হচ্ছে।”
তিনি জানান, “চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ১,৭৯,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ ও আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
১১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ, এবং লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।”
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও ফিলিস্তিনি হাজিদের হজে অংশগ্রহণ বিশ্ব মুসলিমদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে— ইমান, একতা ও ত্যাগের অবিচল প্রতীক হিসেবে তারা প্রমাণ করেছেন, দমন-পীড়নের মধ্যেও তারা ইসলামি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ রীতিনীতিতে অটল।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 














