০৯:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লন্ডনে ইউনূস-তারেক সম্ভাব্য বৈঠক: রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত?

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাতে একটি সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন। সফর উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘সরকারি’ তকমা থাকলেও, ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে ‘কিংস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণকেই কেন্দ্রবিন্দু মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

তবে এ সফর নিয়ে সবচেয়ে বেশি গুঞ্জন তৈরি হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সম্ভাব্য এক বৈঠক ঘিরে। ঢাকায় বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র দাবি করছে, অধ্যাপক ইউনূসের পক্ষ থেকেই এই বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ জানানো হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এমন কোনও তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে, তবে সেটির সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি বাসস জানায়, এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাজ্যের সমর্থনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি তুলে ধরা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউনূস যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ, কমনওয়েলথ মহাসচিব ও কয়েকজন শীর্ষ ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি কিংস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজ ও চ্যাথাম হাউসে সংলাপে অংশ নেবেন।

৪ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী বলেন, “সফরসূচিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কোনও বৈঠকের তথ্য নেই।” কিন্তু বিএনপির একাধিক সূত্র দাবি করছে, উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি ইউনূস-তারেক বৈঠক হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এখানে একটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে—একজন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, যিনি একটি ‘সরকারি সফর’-এ রয়েছেন, তিনি কীভাবে একজন স্বেচ্ছা নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন? কূটনৈতিক রীতিনীতির দিক থেকেও এটি ব্যতিক্রম এবং বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইউনূস সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে আগামী এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছেন, যা বিএনপি নেতাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, তারেক রহমান কয়েক দিন আগেই দাবি করেছিলেন, “নির্বাচন হতে হবে ডিসেম্বরেই।”

এই ভিন্ন অবস্থান থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে—এবং এমন পটভূমিতে একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাকে কেউ কেউ দেখছেন একটি সম্ভাব্য সমঝোতার উদ্যোগ হিসেবে।

সংক্ষিপ্তভাবে মূল বিষয়গুলো:

  • প্রধান উপদেষ্টার সফর: সরকারি তকমা থাকলেও মূল গুরুত্ব ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণে।
  • তারেক রহমান বৈঠক: সরকারি নিশ্চয়তা নেই, কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে সম্ভাবনার ইঙ্গিত।
  • নির্বাচনী সময়: এপ্রিল বনাম ডিসেম্বর—এ নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থানে ব্যবধান।
  • অন্য কর্মসূচি: চ্যাথাম হাউস সংলাপ, রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক।

এই সফর কেবলমাত্র একটি পুরস্কার গ্রহণ কিংবা কূটনৈতিক বৈঠকের সুযোগ নয়—বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অঙ্ক কষার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্রও হতে পারে।

 

ট্যাগ

দেশে রমজানের চাঁদ দেখা, আজ থেকে সিয়াম সাধনা

দেশে রমজানের চাঁদ দেখা, আজ থেকে সিয়াম সাধনা

বছর ঘুরে আবারও এলো পবিত্র মাহে রমজান। বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম–এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সদ্য গঠিত বিএনপি সরকারের ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র রমজান মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে আগামী ১৬ মার্চ সোমবার দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। চাঁদ দেখার ঘোষণার পরই দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে নেমে আসে ভিন্ন আবহ। বুধবার রাতেই এশার নামাজের পর মসজিদগুলোতে জামাতে তারাবিহ আদায় করা হয়। তারাবিহর মধ্য দিয়েই মূলত রোজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ভোররাতে সাহরি খেয়ে রোজা রাখার নিয়ত করেন মুসলমানরা। রমজান মাস উপলক্ষে দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতিতে খতমে তারাবিহ আদায়ের অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারাবিহ নামাজে কোরআন তিলাওয়াতের পারার পরিমাণে যে ভিন্নতা রয়েছে, তা নিরসনে একটি সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, রমজানের প্রথম ছয় দিনে দেড় পারা করে মোট ৯ পারা এবং বাকি ২১ দিনে এক পারা করে ২১ পারা তিলাওয়াত করা হবে। এতে ২৭ রমজান রাতে, অর্থাৎ শবে কদরে, পবিত্র কোরআন খতম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। রমজান আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ভোটের আগেই লাল পাসপোর্ট জমা দেন প্রধান উপদেষ্টা

ভোটের আগেই লাল পাসপোর্ট জমা দেন প্রধান উপদেষ্টা

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। সরকারের মেয়াদকালেই, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি পাসপোর্টটি জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদার প্রায় ২০ জন তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইতোমধ্যে হস্তান্তর করেছেন। তবে কয়েকজন এখনো লাল পাসপোর্ট জমা দেননি। এদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট সরকারের মেয়াদ অনুযায়ী এবং অতিরিক্ত ছয় মাস পর্যন্ত ইস্যু করা হয়। বিদায়ী সরকারের বেশিরভাগ উপদেষ্টা পাসপোর্ট ফেরত দিলেও যারা এখনো দেননি, মেয়াদ শেষে নবায়নের সময় তাদের আর সেই সুবিধা দেওয়া হবে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেগুলো জমা দিতে হবে। লাল পাসপোর্ট হস্তান্তরকারীদের তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ আরও কয়েকজন উপদেষ্টা। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

“আই হ্যাভ এ প্ল্যান” বাস্তবায়ন শুরু: প্রধানমন্ত্রী

“আই হ্যাভ এ প্ল্যান” বাস্তবায়ন শুরু: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশ ও জনগণের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান”। সেই পরিকল্পনার অনেক দিক ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে তুলে ধরেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-কে ভোট দিয়ে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারকে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করা বিএনপি সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রায় ভবিষ্যতেও জনগণের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, যারা দেননি কিংবা যারা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের কাছে সবার অধিকার সমান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দলমত, ধর্ম ও দর্শন যার যার হলেও রাষ্ট্র সবার। একজন বাংলাদেশি হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে। ভাষণের শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেন, দেশবাসী যেন নিরাপদ ও সুস্থ থাকেন এবং সরকারের ইতিবাচক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের তৌফিক লাভ হয়।

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

রেল যোগাযোগ ঢেলে সাজানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

রেল যোগাযোগ ঢেলে সাজানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ যাতে নিজ জেলা বা নিজ বাসায় থেকেও সহজভাবে নির্ধারিত সময়ে অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারেন, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানানোর আগে সরকার নিজেদের মধ্য থেকেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। তিনি বলেন, বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, দল থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধায় ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধাও নেবেন না। এটি ন্যায়পরায়ণতার নীতির প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় জনসংখ্যার চাপ প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। এই লক্ষ্যেই রেল যোগাযোগ সহজ, সুলভ ও নিরাপদ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয়ের উদ্যোগ চলছে। তিনি মনে করেন, রেলব্যবস্থা শক্তিশালী হলে শহরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশেরও উন্নতি হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনাও কম নয়। বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে সেটিই হবে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারলে বিশ্ববাজারেও বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তথ্যপ্রযুক্তি...

আরো পড়ুন
জনপ্রিয় সংবাদ

লন্ডনে ইউনূস-তারেক সম্ভাব্য বৈঠক: রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাতে একটি সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন। সফর উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘সরকারি’ তকমা থাকলেও, ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে ‘কিংস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণকেই কেন্দ্রবিন্দু মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

তবে এ সফর নিয়ে সবচেয়ে বেশি গুঞ্জন তৈরি হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সম্ভাব্য এক বৈঠক ঘিরে। ঢাকায় বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র দাবি করছে, অধ্যাপক ইউনূসের পক্ষ থেকেই এই বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ জানানো হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এমন কোনও তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে, তবে সেটির সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি বাসস জানায়, এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাজ্যের সমর্থনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি তুলে ধরা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউনূস যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ, কমনওয়েলথ মহাসচিব ও কয়েকজন শীর্ষ ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি কিংস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজ ও চ্যাথাম হাউসে সংলাপে অংশ নেবেন।

৪ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী বলেন, “সফরসূচিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কোনও বৈঠকের তথ্য নেই।” কিন্তু বিএনপির একাধিক সূত্র দাবি করছে, উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি ইউনূস-তারেক বৈঠক হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এখানে একটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে—একজন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, যিনি একটি ‘সরকারি সফর’-এ রয়েছেন, তিনি কীভাবে একজন স্বেচ্ছা নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন? কূটনৈতিক রীতিনীতির দিক থেকেও এটি ব্যতিক্রম এবং বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইউনূস সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে আগামী এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছেন, যা বিএনপি নেতাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, তারেক রহমান কয়েক দিন আগেই দাবি করেছিলেন, “নির্বাচন হতে হবে ডিসেম্বরেই।”

এই ভিন্ন অবস্থান থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে—এবং এমন পটভূমিতে একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাকে কেউ কেউ দেখছেন একটি সম্ভাব্য সমঝোতার উদ্যোগ হিসেবে।

সংক্ষিপ্তভাবে মূল বিষয়গুলো:

  • প্রধান উপদেষ্টার সফর: সরকারি তকমা থাকলেও মূল গুরুত্ব ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণে।
  • তারেক রহমান বৈঠক: সরকারি নিশ্চয়তা নেই, কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে সম্ভাবনার ইঙ্গিত।
  • নির্বাচনী সময়: এপ্রিল বনাম ডিসেম্বর—এ নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থানে ব্যবধান।
  • অন্য কর্মসূচি: চ্যাথাম হাউস সংলাপ, রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক।

এই সফর কেবলমাত্র একটি পুরস্কার গ্রহণ কিংবা কূটনৈতিক বৈঠকের সুযোগ নয়—বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অঙ্ক কষার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্রও হতে পারে।