০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা: ইরানে ইসরায়েলের বিমান হামলা

রাজধানী তেহরানসহ ইরানের অন্তত ৮টি শহরে একযোগে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী (IAF)। শুক্রবার শুরু হওয়া এই হামলার নাম দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)— ‘দ্য রাইজিং লায়ন’।

সূত্র জানায়, ইরানের পরমাণু প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলা একেবারে ‘অপ্রত্যাশিত’ নয়। ২০২৫ সালের শুরু থেকেই তারা সতর্ক করে আসছিলেন, ইসরায়েল যে কোনো সময় ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অনেকবারই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে সামরিক পথই হতে পারে একমাত্র কার্যকর উপায়।

২০২৪ সালের অক্টোবরেও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরান-সমর্থিত হামলার প্রতিশোধে আইডিএফ একবার বিমান হামলা চালিয়েছিল। তবে এবার হামলার ব্যাপ্তি, সময় ও লক্ষ্যবস্তুর গভীরতা—সবই অনেক বেশি বিস্তৃত ও কৌশলগত।

হামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
সম্প্রতি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব উঠেছিল। অল্প ভোটের ব্যবধানে নেতানিয়াহু সেই প্রস্তাব থেকে রক্ষা পেলেও জনসমর্থনে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। গাজা যুদ্ধ, জিম্মিদের মুক্তিতে ব্যর্থতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানে ক্লান্ত ইসরায়েলি জনগণ নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষুব্ধ।

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ চাপ থেকে নজর ঘোরাতে এবং রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে ইরানে হামলার মাধ্যমে শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী বার্তা দিতে চাইছেন নেতানিয়াহু।

ইরানইসরায়েল উত্তেজনার পেছনে মূল কারণ:

  • ইরান বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি প্রভৃতি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইসরায়েলবিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা দিয়ে আসছে।
  • ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের নেতৃত্ব ইসরায়েলের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করে আসছে।
  • ইরানকে ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ মনে করে আসছে ইসরায়েল।

মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে:
এই হামলার স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য হলো— ইরানের পরমাণু প্রকল্প ধ্বংস করা। আর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে— ইরানের বর্তমান কট্টর ইসলামপন্থী সরকারের পতন ঘটানো।

উল্লেখযোগ্য পটভূমি:
গত বছর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার প্রতিশোধে গাজা, লেবানন এবং ইয়েমেনে একাধিক হামলা চালায় ইসরায়েল। এবারের অভিযান সেই প্রতিরোধের ধারাবাহিক অংশ বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে একটি বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

 

ট্যাগ

সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান আর নেই। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২৭ দিন পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হুজাইফার চাচা শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “আপনারা সবাই আমার ভাতিজির জন্য দোয়া করবেন।” গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে অবস্থানকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে হুজাইফার মাথায় লাগে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় জানান, অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকির কারণে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। কেবল মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৩ জানুয়ারি শিশুটিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হুজাইফার পরিবার জানায়, ঘটনার আগের রাতে সীমান্তের ওপারে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় শিশুটি বাইরে বের হলে আবারও...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়, একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়, একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী দলের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নির্বাচন শেষে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তাদের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তারা সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছে। যদিও ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল, তবে এবার সেই জোট পুনরায় গঠনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছেন তারেক রহমান। তারেক...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

হাদি হত্যা তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার

হাদি হত্যা তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার। ছবিঃসংগৃহীত

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিক পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে যমুনা ঘিরে সংঘর্ষে গুলির ব্যবহার হয়নি বলে দাবি সরকারের। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে পরিচালনার দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠানো হবে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরুতে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি। তবে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কোনো ধরনের গুলি বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে সরকার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্চিত করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক

মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের স্বপ্ন: SpaceX ও xAI একীভূত করলেন ইলন মাস্ক। ছবিঃসংগৃহীত

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার গড়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজের দুই প্রতিষ্ঠান SpaceX ও xAI-কে একীভূত করেছেন ধনকুবের উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার SpaceX-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই একীভূতকরণের ঘোষণা দেন। টেসলার সিইও ইলন মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও শীতলকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা পৃথিবীতে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, সূর্যের অফুরন্ত শক্তি কাজে লাগাতে সক্ষম মহাকাশ-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারই এআই-এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। মাস্ক লিখেছেন, “দীর্ঘমেয়াদে মহাকাশ-ভিত্তিক এআই ছাড়া বড় পরিসরে এআই সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। সূর্যের শক্তির মাত্র এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করলেও তা আমাদের বর্তমান সভ্যতার ব্যবহৃত শক্তির তুলনায় প্রায় দশ লক্ষ গুণ বেশি।” তিনি আরও বলেন, “এই বিপুল সম্পদ-নির্ভর কার্যক্রমকে এমন জায়গায় স্থানান্তর করাই যুক্তিসংগত, যেখানে শক্তি ও জায়গার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।” তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই এআই কম্পিউটিংয়ের সবচেয়ে কম খরচের জায়গা হয়ে উঠবে মহাকাশ। SpaceX ও xAI-এর এই একীভূতকরণে মাস্কের মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প একই ছাতার নিচে চলে এলো। SpaceX বর্তমানে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেট কর্মসূচি পরিচালনা করছে, আর xAI পরিচিত এআই-চালিত Grok চ্যাটবট তৈরির জন্য। গত বছর xAI সামাজিক...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা: ইরানে ইসরায়েলের বিমান হামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

রাজধানী তেহরানসহ ইরানের অন্তত ৮টি শহরে একযোগে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী (IAF)। শুক্রবার শুরু হওয়া এই হামলার নাম দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)— ‘দ্য রাইজিং লায়ন’।

সূত্র জানায়, ইরানের পরমাণু প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলা একেবারে ‘অপ্রত্যাশিত’ নয়। ২০২৫ সালের শুরু থেকেই তারা সতর্ক করে আসছিলেন, ইসরায়েল যে কোনো সময় ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অনেকবারই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে সামরিক পথই হতে পারে একমাত্র কার্যকর উপায়।

২০২৪ সালের অক্টোবরেও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরান-সমর্থিত হামলার প্রতিশোধে আইডিএফ একবার বিমান হামলা চালিয়েছিল। তবে এবার হামলার ব্যাপ্তি, সময় ও লক্ষ্যবস্তুর গভীরতা—সবই অনেক বেশি বিস্তৃত ও কৌশলগত।

হামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
সম্প্রতি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব উঠেছিল। অল্প ভোটের ব্যবধানে নেতানিয়াহু সেই প্রস্তাব থেকে রক্ষা পেলেও জনসমর্থনে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। গাজা যুদ্ধ, জিম্মিদের মুক্তিতে ব্যর্থতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানে ক্লান্ত ইসরায়েলি জনগণ নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষুব্ধ।

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ চাপ থেকে নজর ঘোরাতে এবং রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে ইরানে হামলার মাধ্যমে শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী বার্তা দিতে চাইছেন নেতানিয়াহু।

ইরানইসরায়েল উত্তেজনার পেছনে মূল কারণ:

  • ইরান বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি প্রভৃতি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইসরায়েলবিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা দিয়ে আসছে।
  • ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের নেতৃত্ব ইসরায়েলের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করে আসছে।
  • ইরানকে ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ মনে করে আসছে ইসরায়েল।

মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে:
এই হামলার স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য হলো— ইরানের পরমাণু প্রকল্প ধ্বংস করা। আর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে— ইরানের বর্তমান কট্টর ইসলামপন্থী সরকারের পতন ঘটানো।

উল্লেখযোগ্য পটভূমি:
গত বছর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার প্রতিশোধে গাজা, লেবানন এবং ইয়েমেনে একাধিক হামলা চালায় ইসরায়েল। এবারের অভিযান সেই প্রতিরোধের ধারাবাহিক অংশ বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে একটি বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।