
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিমকে হুমকির ঘটনায় আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা বাবুল হোসেন। বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, গত দুদিন আগে অন্য একটি মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালত কারাগারে পাঠায়। তবে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারকসহ প্রসিকিউশন টিমকে হুমকির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ মামলায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাদের শনাক্ত করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ২৪ নভেম্বর যশোর শহরের চুয়াডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে ভারতে তথ্য পাচার ও অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার অভিযোগে বাবুলকে আটক করেছিল পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩১৭টি ভারতীয় সিমকার্ড। এ ঘটনায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালকে হুমকি মামলার তথ্য-প্রমাণ তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়।
এর আগে, একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ নভেম্বর ভোলার লালমোহন থেকে মো. শরীফ নামে আরেক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন পর্যন্ত হুমকি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন দুজন। প্রসিকিউশন বলছে, এই নেটওয়ার্কে আরও কয়েকজন যুক্ত আছেন এবং শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এটি প্রথম মামলার রায়।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 


















