১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“কয়েক দশকের বিভ্রান্তি ভেঙে দিল ফরাসি স্বাস্থ্য সংস্থা”

“কয়েক দশকের বিভ্রান্তি ভেঙে দিল ফরাসি স্বাস্থ্য সংস্থা”

কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত একটি বড় ভুল ধারণা হলো—মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ফলে মানুষের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে সাম্প্রতিক সময়ে ফরাসি স্বাস্থ্য সংস্থা ANSES (French Agency for Food, Environmental and Occupational Health & Safety) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি মোবাইল ফোনের তরঙ্গ বা রেডিওফ্রিকোয়েন্সি মানুষের শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে কিনা তা জানতে প্রায় ১,০০০টি আন্তর্জাতিক গবেষণা পর্যালোচনা করে, যার মধ্যে ২৫০টি সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য গবেষণা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

ANSES-এর সিদ্ধান্ত একবাক্যে স্পষ্ট—মোবাইল ফোনের তরঙ্গের সংস্পর্শে আসা এবং ক্যান্সারের বিকাশের মধ্যে কোনও কার্যকারণ সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি মোবাইল ব্যবহারের পরও ক্যান্সারের হার বৃদ্ধি পায় এমন প্রমাণ বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি। ফলে বহু বছর ধরে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে খণ্ডিত হলো।

যদিও কিছু পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে যে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের সংস্পর্শে আসার পর মানবদেহের কিছু কোষে সাময়িক পরিবর্তন ঘটতে পারে, তবে এসব পরিবর্তন ক্যান্সারের দিকে এগিয়ে যায় এমন কোনও প্রমাণ নেই। বিজ্ঞানী হানান শানা’আ এই পরিবর্তনগুলোকে “অস্থায়ী” বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, তরঙ্গের প্রভাব শেষ হলে কোষ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পর্কিত ভয় ও ভুল ধারণা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য নীতিতে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার ভিত্তি আরও শক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

“কয়েক দশকের বিভ্রান্তি ভেঙে দিল ফরাসি স্বাস্থ্য সংস্থা”

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৭:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত একটি বড় ভুল ধারণা হলো—মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ফলে মানুষের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে সাম্প্রতিক সময়ে ফরাসি স্বাস্থ্য সংস্থা ANSES (French Agency for Food, Environmental and Occupational Health & Safety) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি মোবাইল ফোনের তরঙ্গ বা রেডিওফ্রিকোয়েন্সি মানুষের শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে কিনা তা জানতে প্রায় ১,০০০টি আন্তর্জাতিক গবেষণা পর্যালোচনা করে, যার মধ্যে ২৫০টি সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য গবেষণা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

ANSES-এর সিদ্ধান্ত একবাক্যে স্পষ্ট—মোবাইল ফোনের তরঙ্গের সংস্পর্শে আসা এবং ক্যান্সারের বিকাশের মধ্যে কোনও কার্যকারণ সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি মোবাইল ব্যবহারের পরও ক্যান্সারের হার বৃদ্ধি পায় এমন প্রমাণ বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি। ফলে বহু বছর ধরে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে খণ্ডিত হলো।

যদিও কিছু পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে যে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের সংস্পর্শে আসার পর মানবদেহের কিছু কোষে সাময়িক পরিবর্তন ঘটতে পারে, তবে এসব পরিবর্তন ক্যান্সারের দিকে এগিয়ে যায় এমন কোনও প্রমাণ নেই। বিজ্ঞানী হানান শানা’আ এই পরিবর্তনগুলোকে “অস্থায়ী” বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, তরঙ্গের প্রভাব শেষ হলে কোষ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পর্কিত ভয় ও ভুল ধারণা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য নীতিতে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার ভিত্তি আরও শক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।