১০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গবেষণা: মানুষ কি জৈবিকভাবে একবিবাহী এবং বিশ্বস্ত?

গবেষণা: মানুষ কি জৈবিকভাবে একবিবাহী এবং বিশ্বস্ত?

সম্প্রতি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা এই প্রশ্নের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে: মানুষ কি জৈবিকভাবে একবিবাহী এবং সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছে, নাকি একবিবাহ কেবল সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশীলনের ফল?

অনেক গবেষক মনে করেন, একবিবাহ মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য নয়। তাদের যুক্তি হলো, ইতিহাসে মানুষ বহু স্ত্রীর বা বহু স্বামী গ্রহণের উদাহরণ থেকে বোঝা যায় যে একবিবাহ মূলত তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক সামাজিক এবং ধর্মীয় নীতি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে কিছু গবেষক মনে করেন, বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ার কারণে মানুষের মধ্যে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ততার স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে। যেমন, দীর্ঘমেয়াদী সঙ্গম সম্পর্ক সন্তান লালনপালন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাম্প্রতিক অধ্যয়নে মানব আচরণের জৈবিক এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, মানুষের মস্তিষ্কে সম্পর্ক-নির্ভর সামাজিক ও আবেগীয় সিগন্যাল থাকায় এক ধরনের বিশ্বস্ততা উদ্ভূত হয়। তবে এটি একেবারেই “নিশ্চিত প্রোগ্রাম” নয়—মানুষের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে, এবং পরিবেশ, সংস্কৃতি, সামাজিক নীতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এই আচরণকে প্রভাবিত করে।

অধ্যয়নের মূল উপসংহার হলো, মানুষ সম্পূর্ণরূপে একবিবাহী বা বিশ্বস্ত হওয়ার জন্য জৈবিকভাবে প্রোগ্রাম করা হয়নি, বরং দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক ও সঙ্গীর প্রতি আনুগত্যের প্রবণতা কিছু মানুষের মধ্যে শক্তিশালী। এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং বিবর্তনীয় কারণের সমন্বয় ফলাফল।

গবেষকরা আরও বলেন, এই ফলাফল আমাদের বোঝায় যে মানুষ যে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং কিভাবে বিশ্বস্ত থাকে তা শুধুমাত্র “স্বভাবগত” নয়; বরং এটি জটিল সামাজিক এবং জৈবিক প্রক্রিয়ার সমন্বিত ফল।

ট্যাগ

গবেষণা: মানুষ কি জৈবিকভাবে একবিবাহী এবং বিশ্বস্ত?

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:২৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সম্প্রতি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা এই প্রশ্নের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে: মানুষ কি জৈবিকভাবে একবিবাহী এবং সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছে, নাকি একবিবাহ কেবল সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশীলনের ফল?

অনেক গবেষক মনে করেন, একবিবাহ মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য নয়। তাদের যুক্তি হলো, ইতিহাসে মানুষ বহু স্ত্রীর বা বহু স্বামী গ্রহণের উদাহরণ থেকে বোঝা যায় যে একবিবাহ মূলত তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক সামাজিক এবং ধর্মীয় নীতি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে কিছু গবেষক মনে করেন, বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ার কারণে মানুষের মধ্যে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ততার স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে। যেমন, দীর্ঘমেয়াদী সঙ্গম সম্পর্ক সন্তান লালনপালন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাম্প্রতিক অধ্যয়নে মানব আচরণের জৈবিক এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, মানুষের মস্তিষ্কে সম্পর্ক-নির্ভর সামাজিক ও আবেগীয় সিগন্যাল থাকায় এক ধরনের বিশ্বস্ততা উদ্ভূত হয়। তবে এটি একেবারেই “নিশ্চিত প্রোগ্রাম” নয়—মানুষের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে, এবং পরিবেশ, সংস্কৃতি, সামাজিক নীতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এই আচরণকে প্রভাবিত করে।

অধ্যয়নের মূল উপসংহার হলো, মানুষ সম্পূর্ণরূপে একবিবাহী বা বিশ্বস্ত হওয়ার জন্য জৈবিকভাবে প্রোগ্রাম করা হয়নি, বরং দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক ও সঙ্গীর প্রতি আনুগত্যের প্রবণতা কিছু মানুষের মধ্যে শক্তিশালী। এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং বিবর্তনীয় কারণের সমন্বয় ফলাফল।

গবেষকরা আরও বলেন, এই ফলাফল আমাদের বোঝায় যে মানুষ যে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং কিভাবে বিশ্বস্ত থাকে তা শুধুমাত্র “স্বভাবগত” নয়; বরং এটি জটিল সামাজিক এবং জৈবিক প্রক্রিয়ার সমন্বিত ফল।