০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদির ওপর হামলা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সুপরিকল্পিত আঘাত: ড. ইউনূস

হাদির ওপর হামলা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সুপরিকল্পিত আঘাত: ড. ইউনূস

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দেশত্যাগ রোধে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, হামলাকারীরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে, সে জন্য এখনই সীমান্তে সর্বোচ্চ তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাদির ওপর হামলাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালের অন্যতম গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, এই হামলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত। এর মাধ্যমে পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের অপশক্তির তৎপরতা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন প্রধান উপদেষ্টা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, কোনো শক্তিই আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তিনি বলেন, যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান জানান, শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী তাকে ইতোমধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারী ও হামলার পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলার স্থান থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ও সম্ভাব্য পালানোর রুটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার এবং সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলগুলোতে বিশেষ তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে জড়িত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে শিগগিরই দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলোচনা করবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস—এ সিদ্ধান্তও বৈঠকে নেওয়া হয়।

পয়লা ফাল্গুনে রঙিন বাংলাদেশ, ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে জোড়া উৎসব

আজ পয়লা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। বাংলা সনের একাদশ মাসের সূচনা ঘিরে সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ। একই দিনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় উৎসবে যুক্ত হয়েছে বাড়তি মাত্রা। প্রকৃতির রঙিন সাজ, তরুণ-তরুণীদের বাসন্তী পোশাক আর দখিনা হাওয়ার মৃদু পরশে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পয়লা ফাল্গুন উদযাপনের আয়োজন করে। এরপর থেকেই দিনটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এ বছরও বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদের আয়োজনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে বসন্তবরণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীর ‘ফুসফুস’খ্যাত রমনা পার্ক-এ দেখা গেছে শিমুল, পলাশ, রক্তকাঞ্চনের রঙিন সমারোহ। কোকিলের কুহুতান আর আম্রকুঞ্জের মুকুলের ঘ্রাণে চারদিক ভরে উঠেছে। অনেক তরুণীর পরনে হলুদ, বাসন্তী ও কমলা রঙের শাড়ি; মাথায় গাঁদা ফুলের মালা। অন্যদিকে ছেলেদের পরনে রঙিন পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। এ রঙিন সাজে ঢাকার যান্ত্রিক চেহারা যেন মুহূর্তেই বদলে গেছে। ফাল্গুনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির ঐতিহ্য ও ইতিহাস। ‘ফাল্গুন’ নামটি এসেছে ফাল্গুনী নক্ষত্র থেকে। ১৯৫০–৬০ দশকে পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে নিজেদের আলাদা পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে রবীন্দ্রসংগীত ও বাঙালি আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পয়লা ফাল্গুন উদযাপন জনপ্রিয়তা পায়। বসন্তের রক্তিম রং স্মরণ করিয়ে দেয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা—রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারদের রক্তে রাঙা ইতিহাসও ফাল্গুনের স্মারক হয়ে আছে। বসন্ত নিয়ে সাহিত্য-সংগীতে রয়েছে বিস্তৃত...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানান, পারমাণবিক শক্তিচালিত ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হবে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা “সফল” হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। হোয়াইট হাউসে বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা প্রস্তুত থাকব—একটি অত্যন্ত বড় শক্তি নিয়ে।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে সেটি হবে “ইরানের জন্য খারাপ দিন।” গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা হলেও আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনকে “সবচেয়ে ভালো ঘটনা” আখ্যা দেন। তার ভাষ্য, “৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা অনেক জীবন হারিয়েছি।” সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটেই তিনি এ মন্তব্য করেন। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মোতায়েন অঞ্চলটিতে চলমান সামরিক জোরদারের অংশ। এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান পাঠানো হয়েছে। জেরাল্ড আর ফোর্ডে ৭৫টিরও বেশি সামরিক বিমান বহনের সক্ষমতা রয়েছে। ট্রাম্পের এ ঘোষণা আসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu–এর সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠকের কয়েক দিন পর। নেতানিয়াহু বলেন, একটি “ভালো চুক্তি” প্রত্যাশিত, তবে তা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত না করলে তার আপত্তি থাকবে। তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায়...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ

দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ

বিগত কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হননি—এমন দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মধ্যেই প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয় পেয়েছেন এবং ইতোমধ্যে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলে যেতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান-ও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াত থেকে নির্বাচিত ৬৮ জনের মধ্যে ৬৫ জনই নতুন মুখ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে প্রায় ৭১ জন এবার প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন। বিএনপি-জোট মোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি দলে সম্পূর্ণ নতুন প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ৬ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ২ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) থেকে ১ জন প্রার্থী প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করছেন। তবে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ নির্বাচনের আগে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি সংসদে দেড় শতাধিক নতুন সদস্য থাকা ইতিবাচক...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ফলাফল বদলে দেওয়ার অভিযোগ ১১ দলের

ফলাফল বদলে দেওয়ার অভিযোগ ১১ দলের

গণভোটে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট সংস্কারের পক্ষে পড়েছে দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, একই জনগণ ১১ দলীয় জোটের পক্ষেও ভোট দিলেও শেষ মুহূর্তে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটে কারচুপি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে এবং সেটিকে তারা স্বাগতও জানিয়েছিলেন। তবে ফলাফল ঘোষণার সময় এসে কিছু নির্দিষ্ট আসনকে লক্ষ্য করে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “না হলে পুরো ভোটটাই ১১ দলের পক্ষেই আসত।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে ব্যবহার করে কিছু কেন্দ্র দখল এবং জোরপূর্বক ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মামুনুল হক-এর ঢাকা-১৩ আসন, ঢাকা-৮ আসন এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের আসনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের কথা। তার দাবি, এসব আসনে পরিকল্পিতভাবে ফলাফল পরিবর্তন করে ১১ দলীয় প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কারচুপি অতীতে যেভাবে নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে, তারই পুনরাবৃত্তি বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় ১১ দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং হুমকির ঘটনা ঘটছে। এতে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হাদির ওপর হামলা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সুপরিকল্পিত আঘাত: ড. ইউনূস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দেশত্যাগ রোধে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, হামলাকারীরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে, সে জন্য এখনই সীমান্তে সর্বোচ্চ তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাদির ওপর হামলাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালের অন্যতম গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, এই হামলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত। এর মাধ্যমে পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের অপশক্তির তৎপরতা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন প্রধান উপদেষ্টা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, কোনো শক্তিই আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তিনি বলেন, যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান জানান, শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী তাকে ইতোমধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারী ও হামলার পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলার স্থান থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ও সম্ভাব্য পালানোর রুটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার এবং সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলগুলোতে বিশেষ তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে জড়িত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে শিগগিরই দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলোচনা করবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস—এ সিদ্ধান্তও বৈঠকে নেওয়া হয়।