
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে উদিত স্বাধীনতার সূর্য বিগত বছরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের কারণে ম্লান হয়েছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এখন আমরা আবারও একটি দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছি।
তিনি বাংলাদেশের নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবিদ্ধ হামলা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আঘাত নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও অস্তিত্বের ওপর আঘাত। প্রধান উপদেষ্টা জানান, হাদির চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কেও কথা বলেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সরকার তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের ইচ্ছার প্রতি সম্মান রেখে সব ধরনের সহযোগিতা করছে।
অধ্যাপক ইউনূস এই ভাষণে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ও বিচার প্রক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন হত্যাকাণ্ডের বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে এবং সাজাপ্রাপ্তদের দেশে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি সরকারের সংস্কার কর্মসূচি, জুলাই জাতীয় সনদ ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। নির্বাচনের সঙ্গে সমান্তরালভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা নতুন বাংলাদেশের কাঠামো ও অগ্রযাত্রার পথ নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, প্রবাসীরা প্রথমবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।
প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন যে, পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ও সন্ত্রাসীদের চেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই থামানো যাবে না।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 















