
বয়স মহিলাদের উর্বরতার উপর প্রভাব ফেলে—এটি অস্বীকার করার নয়। তবে ৩৫ বছরকে উর্বরতার “হঠাৎ পতনের” সীমা হিসেবে দেখানো কিছুটা ভুল ধারণা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩৫ বছর একটি ঐতিহাসিক ও ব্যবহারিক সূচক মাত্র। এটি নির্দেশ করে যে, এই বয়সের পর ক্রোমোজোম অস্বাভাবিকতা ও গর্ভপাতের ঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ বা ৩০ বছর বয়সী সুস্থ দম্পতিদের ক্ষেত্রে, এক মাসিক চক্রে গর্ভধারণের সম্ভাবনা ২৫–৩০ শতাংশ, যেখানে ৪০ বছর বয়সে এটি ১০ শতাংশেরও কম হয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মহিলাদের ডিম্বাণুর সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়, এবং হরমোনের পরিবর্তনের ফলে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, যা উর্বরতাকে প্রভাবিত করে।
তবে ডিম্বাণুর হ্রাসের হার নারীভেদে ভিন্ন হতে পারে। ধূমপান, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং জেনেটিক ফ্যাক্টরও এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যগত জটিলতাও (যেমন জরায়ু ফাইব্রয়েড, অটোইমিউন সমস্যা) ৩০–৫০ বছর বয়সী মহিলাদের গর্ভধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের সমন্বিত মহিলা স্বাস্থ্যের পরিচালক ডাঃ মেরি রোসার বলেন, “৩৫ সংখ্যা একটি কঠোর জৈবিক সীমা নয়। এটি শুধুমাত্র একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা। অনেক মহিলা ৩৫ বছর বা তার পরে সুস্থভাবে গর্ভধারণ করতে সক্ষম।”
বিশেষজ্ঞরা অনুরোধ করেছেন যে, মহিলারা এই বয়সকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখবেন না, বরং স্বাস্থ্য, জীবনধারা ও চিকিৎসা পরামর্শকে প্রাধান্য দেবেন।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















