
গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের পর মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর আকার ধারণ করেছে। ঝড়ের ফলে অন্তত ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হওয়ার পর ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শুরু করেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ঝড়ের কারণে গাজাজুড়ে অন্তত ১০৭টি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। ইতোমধ্যে যুদ্ধ ও অবরোধে বিধ্বস্ত এই জনপদে নতুন করে হাজারো পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে। ফলে সেখানে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। ঠান্ডা আবহাওয়া, ভেজা কাপড় ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে খাবার, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে, যা হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবিক সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই আঘাত গাজার বিদ্যমান মানবিক সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে, এবং অবিলম্বে কার্যকর সহায়তা না এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 














