
গাজা উপত্যকায় সংঘটিত সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধের তদন্তসংক্রান্ত মামলায় ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) দুইজন অতিরিক্ত বিচারকের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে আইসিসির বিরুদ্ধে চলমান চাপ অভিযানের আরও এক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজা যুদ্ধ সংক্রান্ত তদন্তে আইসিসির ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করছে। সেই প্রেক্ষাপটে আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট বিচারকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন সীমিত করার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, বিচারকদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ওপর সরাসরি আঘাত। আদালত আরও বলেছে, রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল এই মার্কিন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আইসিসি গাজা যুদ্ধের ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক অবস্থান নিয়েছে এবং ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইসিসির ‘অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের’ বিরুদ্ধে একটি প্রয়োজনীয় বার্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থাকে আরও রাজনৈতিক মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 















