
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাদির মৃত্যুর সংবাদটি টেলিফোনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানান সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। এ তথ্য নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
ভাষণে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, তিনি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি সংবাদ নিয়ে জাতির সামনে হাজির হয়েছেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসারির অন্যতম যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি আর বেঁচে নেই উল্লেখ করে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এই সাহসী সৈনিককে মহান আল্লাহ শহিদ হিসেবে কবুল করুন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শরিফ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি হাদির রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, পরিবার-পরিজন, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, শহিদ হাদির স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।
হাদির মৃত্যুতে আগামী শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন প্রধান উপদেষ্টা। ওইদিন দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি শুক্রবার বাদ জুম্মা দেশের প্রতিটি মসজিদে হাদির রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
সিঙ্গাপুর সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, হাদির চিকিৎসায় তারা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণ্ণান—যিনি একইসঙ্গে একজন চিকিৎসক—নিজে হাদির চিকিৎসা ও পরিচর্যায় যুক্ত ছিলেন এবং নিয়মিতভাবে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর দিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই নৃশংস হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।
উল্লেখ্য, ঢাকা–৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন কালভার্ট রোডে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই দীর্ঘ চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 
















