
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস করে আসছে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস বা বিলম্বিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এর নেতৃত্বদানকারী বিজ্ঞানী ও গবেষকদের লক্ষ্যবস্তু করা। এই কৌশলের অংশ হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে কথিত অপারেশন “নার্নিয়া”, যার মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামো ধ্বংস বা স্থাপনায় হামলার চেয়ে “পারমাণবিক মস্তিষ্কে আঘাত” অনেক বেশি কার্যকর। তাদের যুক্তি হলো—কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী ও মূল পরিকল্পনাকারীরা নিহত হলে বা অক্ষম হলে পুরো প্রকল্পটি স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে, কখনো কখনো পুরোপুরি অচলও হয়ে যায়।
বেনেট আরবসহ একাধিক মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিশ্লেষণী প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন ‘নার্নিয়া’র লক্ষ্য ছিল এমন বিজ্ঞানীরা, যারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, সেন্ট্রিফিউজ উন্নয়ন এবং অস্ত্রায়ন পর্যায়ের গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ইসরায়েল মনে করে, এই বিজ্ঞানীরা কেবল প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞই নন, বরং পুরো কর্মসূচির কৌশলগত দিকনির্দেশক।
এই হত্যাকাণ্ডগুলোর পর ইরান বারবার ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে এবং এগুলোকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান দাবি করছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত হয়েছে এবং এর জবাব দেওয়া হবে “উপযুক্ত সময়ে ও উপযুক্ত উপায়ে”।
অন্যদিকে ইসরায়েল বরাবরের মতোই আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযানের দায় স্বীকার করেনি। তবে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব বিভিন্ন বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে তারা “সব বিকল্প খোলা রাখবে”।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অপারেশন ‘নার্নিয়া’র মতো অভিযানের মাধ্যমে ইসরায়েল শুধু ইরানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেই আঘাত করেনি, বরং একটি মনস্তাত্ত্বিক বার্তাও দিতে চেয়েছে—যে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কেউই নিরাপদ নয়। তবে একই সঙ্গে এসব হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে ছায়াযুদ্ধ আরও গভীর করেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজ্ঞানী হত্যার মাধ্যমে সাময়িক বিলম্ব সৃষ্টি করা গেলেও ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি থামানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে। বরং এই কৌশল ইরানকে আরও গোপনীয়তা ও প্রতিরক্ষামূলক পথে ঠেলে দিচ্ছে বলেও মত অনেকের।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 














