
অবশেষে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ময়নাতদন্তে সম্মতি দিয়েছে তার পরিবার। প্রথমদিকে পরিবার ময়নাতদন্তে আপত্তি জানালেও, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে তারা এ সিদ্ধান্তে আসে।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি (ঢাকা মেট্রো–শ ১১–৪৯৫৪) ব্যবহার করে মরদেহ মর্গে পৌঁছানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। হাদির স্বজন, সহযোদ্ধা ও সহকর্মীরাও মরদেহের সঙ্গে ছিলেন। ভোর থেকেই হাদিকে শেষবারের মতো দেখতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে জড়ো হন।
সূত্র জানায়, ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ আবারও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে নেওয়া হবে। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ গোসল করানো হবে। এরপর সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলসহ মরদেহ নেওয়া হবে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে। দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার কফিন দেশে পৌঁছায়। পরে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সহযোদ্ধা ও সমর্থকরা দ্রুত বিচার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজ শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা–সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি–বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের সিদ্ধান্তে পরবর্তীতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 















