১০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চার বছরে একবার আফ্রিকা কাপ, তবে আসছে নতুন টুর্নামেন্ট

চার বছরে একবার আফ্রিকা কাপ, তবে আসছে নতুন টুর্নামেন্ট

২০২৮ সাল থেকে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (এএফকন) প্রতি চার বছর অন্তর আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবল (CAF)। এতদিন ধরে দ্বিবার্ষিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই টুর্নামেন্টের ফরম্যাট পরিবর্তনকে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে CAF একটি নতুন মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য রাজস্ব আয়ের নতুন উৎস তৈরি করা।

CAF–এর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক বাস্তব ও কৌশলগত কারণ। প্রথমত, দ্বিবার্ষিক আফ্রিকা কাপ ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সূচির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত সৃষ্টি করে আসছিল। বিশেষ করে জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইউরোপে খেলা আফ্রিকান ফুটবলারদের ক্লাবগুলো বড় ধরনের চাপ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছিল। চার বছর অন্তর আয়োজন করলে এই সংঘাত অনেকটাই কমবে বলে CAF মনে করছে।

দ্বিতীয়ত, টুর্নামেন্টের ঘন ঘন আয়োজন এর ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক মূল্য কিছুটা ক্ষুণ্ন করছিল—এমন মূল্যায়নও রয়েছে। বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলো চার বছর অন্তর হওয়ায় সেগুলোর প্রতি দর্শক, স্পনসর ও সম্প্রচারকারীদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। CAF চাইছে, আফ্রিকা কাপকেও একই মর্যাদায় নিয়ে যেতে।

তবে চার বছর অন্তর আয়োজনের ফলে CAF–এর নিয়মিত আয় প্রবাহে একটি বড় ফাঁক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। কারণ, আফ্রিকা কাপ ছিল সংস্থাটির প্রধান রাজস্ব আয়ের উৎস—টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসত এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে। এই শূন্যতা পূরণ করতেই CAF একটি নতুন টুর্নামেন্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নতুন এই প্রতিযোগিতা মূলত বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় হবে—এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে বেশি ম্যাচ, শক্তিশালী দল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রচারের সুযোগ থাকবে। এতে স্পনসর ও সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে CAF আশা করছে।

সমালোচকদের মতে, একদিকে টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়ানো এবং অন্যদিকে খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করার ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার অনেক দেশে অবকাঠামো, খেলোয়াড় কল্যাণ এবং ঘরোয়া লিগ এখনও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি। নতুন প্রতিযোগিতা সেই চাপ আরও বাড়াতে পারে।

তবে CAF–এর দৃষ্টিতে এই পরিবর্তন আফ্রিকান ফুটবলকে দীর্ঘমেয়াদে আরও সংগঠিত, প্রতিযোগিতামূলক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করার কৌশলগত পদক্ষেপ। চার বছর অন্তর আফ্রিকা কাপ আয়োজন এবং তার ফাঁকে নতুন টুর্নামেন্ট—এই দুইয়ের সমন্বয়ে মহাদেশীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

চার বছরে একবার আফ্রিকা কাপ, তবে আসছে নতুন টুর্নামেন্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

২০২৮ সাল থেকে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (এএফকন) প্রতি চার বছর অন্তর আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবল (CAF)। এতদিন ধরে দ্বিবার্ষিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই টুর্নামেন্টের ফরম্যাট পরিবর্তনকে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে CAF একটি নতুন মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য রাজস্ব আয়ের নতুন উৎস তৈরি করা।

CAF–এর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক বাস্তব ও কৌশলগত কারণ। প্রথমত, দ্বিবার্ষিক আফ্রিকা কাপ ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সূচির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত সৃষ্টি করে আসছিল। বিশেষ করে জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইউরোপে খেলা আফ্রিকান ফুটবলারদের ক্লাবগুলো বড় ধরনের চাপ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছিল। চার বছর অন্তর আয়োজন করলে এই সংঘাত অনেকটাই কমবে বলে CAF মনে করছে।

দ্বিতীয়ত, টুর্নামেন্টের ঘন ঘন আয়োজন এর ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক মূল্য কিছুটা ক্ষুণ্ন করছিল—এমন মূল্যায়নও রয়েছে। বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলো চার বছর অন্তর হওয়ায় সেগুলোর প্রতি দর্শক, স্পনসর ও সম্প্রচারকারীদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। CAF চাইছে, আফ্রিকা কাপকেও একই মর্যাদায় নিয়ে যেতে।

তবে চার বছর অন্তর আয়োজনের ফলে CAF–এর নিয়মিত আয় প্রবাহে একটি বড় ফাঁক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। কারণ, আফ্রিকা কাপ ছিল সংস্থাটির প্রধান রাজস্ব আয়ের উৎস—টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসত এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে। এই শূন্যতা পূরণ করতেই CAF একটি নতুন টুর্নামেন্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নতুন এই প্রতিযোগিতা মূলত বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় হবে—এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে বেশি ম্যাচ, শক্তিশালী দল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রচারের সুযোগ থাকবে। এতে স্পনসর ও সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে CAF আশা করছে।

সমালোচকদের মতে, একদিকে টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়ানো এবং অন্যদিকে খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করার ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার অনেক দেশে অবকাঠামো, খেলোয়াড় কল্যাণ এবং ঘরোয়া লিগ এখনও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি। নতুন প্রতিযোগিতা সেই চাপ আরও বাড়াতে পারে।

তবে CAF–এর দৃষ্টিতে এই পরিবর্তন আফ্রিকান ফুটবলকে দীর্ঘমেয়াদে আরও সংগঠিত, প্রতিযোগিতামূলক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করার কৌশলগত পদক্ষেপ। চার বছর অন্তর আফ্রিকা কাপ আয়োজন এবং তার ফাঁকে নতুন টুর্নামেন্ট—এই দুইয়ের সমন্বয়ে মহাদেশীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।