০৫:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিগ্রির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ও সততা: আসিফ নজরুল

ডিগ্রির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ও সততা: আসিফ নজরুল

বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলাও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দক্ষতা অর্জনকে লক্ষ্য নয়, বরং জীবনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে এবং সততাকে নীতি নয়, নিজের পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) পূর্বাচল নতুন শহরে অবস্থিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এবারের সমাবর্তন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির স্মরণে উৎসর্গ করা হয়।

সমাবর্তনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ব্যক্তি পর্যায়ে বাংলাদেশের অনেক অর্জন থাকলেও শক্তিশালী ও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশটি পিছিয়ে রয়েছে। এক সময় পুলিশ, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রসরমান অবস্থায় থাকলেও গত দেড় দশকে পরিকল্পিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের ভিত দুর্বল করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে দেশ গঠনে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দেশ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পেরেছে, তারাই টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যক্তি ও পরিবার প্রাধান্য পেয়েছে, প্রতিষ্ঠান নয়—ফলে অর্জন থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

বক্তব্যের শুরুতেই শরিফ ওসমান বিন হাদির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আসিফ নজরুল বলেন, তিনি জীবনে কখনো এত বড় জানাজা দেখেননি। মানুষের কান্না, দোয়া ও ভালোবাসা দেখে তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে আল্লাহ হাদিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন। তিনি বলেন, হাদি এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে আরও উত্তম এক জগতে অবস্থান করছেন—এ বিশ্বাস তার অন্তরে দৃঢ়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, হাদির জন্য মানুষের এই গভীর শোকের কারণ হলো তিনি কখনো নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবতেন না; ভাবতেন ইনসাফ ও ন্যায়ের কথা। তিনি সৎ জীবনযাপন করতেন, সবাইকে ভালোবাসতেন এবং কর্মীদের জন্য যে ত্যাগ ও নিষ্ঠা দেখিয়েছেন, তা অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। তিনি বলেন, আজকের গ্র্যাজুয়েটরা মেধাবী ও সাহসী প্রজন্মের প্রতিনিধি। বর্তমান সময়ে জ্ঞান শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার পরিসর ও চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান। এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডা. এ এম শামীম, ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নওজিয়া ইয়াসমীনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা।

এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি বিভাগের মোট ৬৭২ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তিনজন শিক্ষার্থী চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল, চারজন ভাইস-চ্যান্সেলর সিলভার মেডেল এবং ২০ জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অ্যালামনাই, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা ছাড়াও সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। এর আগে অনুষ্ঠিত ছয়টি সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৫ হাজারের বেশি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করেছে। সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালে। এবারের সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে গাউন ও হ্যাট পরিহিত গ্র্যাজুয়েটদের আনন্দ ও স্মৃতিচারণে পুরো প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

পয়লা ফাল্গুনে রঙিন বাংলাদেশ, ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে জোড়া উৎসব

আজ পয়লা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। বাংলা সনের একাদশ মাসের সূচনা ঘিরে সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ। একই দিনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় উৎসবে যুক্ত হয়েছে বাড়তি মাত্রা। প্রকৃতির রঙিন সাজ, তরুণ-তরুণীদের বাসন্তী পোশাক আর দখিনা হাওয়ার মৃদু পরশে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পয়লা ফাল্গুন উদযাপনের আয়োজন করে। এরপর থেকেই দিনটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এ বছরও বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদের আয়োজনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে বসন্তবরণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীর ‘ফুসফুস’খ্যাত রমনা পার্ক-এ দেখা গেছে শিমুল, পলাশ, রক্তকাঞ্চনের রঙিন সমারোহ। কোকিলের কুহুতান আর আম্রকুঞ্জের মুকুলের ঘ্রাণে চারদিক ভরে উঠেছে। অনেক তরুণীর পরনে হলুদ, বাসন্তী ও কমলা রঙের শাড়ি; মাথায় গাঁদা ফুলের মালা। অন্যদিকে ছেলেদের পরনে রঙিন পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। এ রঙিন সাজে ঢাকার যান্ত্রিক চেহারা যেন মুহূর্তেই বদলে গেছে। ফাল্গুনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির ঐতিহ্য ও ইতিহাস। ‘ফাল্গুন’ নামটি এসেছে ফাল্গুনী নক্ষত্র থেকে। ১৯৫০–৬০ দশকে পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে নিজেদের আলাদা পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে রবীন্দ্রসংগীত ও বাঙালি আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পয়লা ফাল্গুন উদযাপন জনপ্রিয়তা পায়। বসন্তের রক্তিম রং স্মরণ করিয়ে দেয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা—রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারদের রক্তে রাঙা ইতিহাসও ফাল্গুনের স্মারক হয়ে আছে। বসন্ত নিয়ে সাহিত্য-সংগীতে রয়েছে বিস্তৃত...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানান, পারমাণবিক শক্তিচালিত ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হবে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা “সফল” হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। হোয়াইট হাউসে বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা প্রস্তুত থাকব—একটি অত্যন্ত বড় শক্তি নিয়ে।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে সেটি হবে “ইরানের জন্য খারাপ দিন।” গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা হলেও আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনকে “সবচেয়ে ভালো ঘটনা” আখ্যা দেন। তার ভাষ্য, “৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা অনেক জীবন হারিয়েছি।” সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটেই তিনি এ মন্তব্য করেন। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মোতায়েন অঞ্চলটিতে চলমান সামরিক জোরদারের অংশ। এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান পাঠানো হয়েছে। জেরাল্ড আর ফোর্ডে ৭৫টিরও বেশি সামরিক বিমান বহনের সক্ষমতা রয়েছে। ট্রাম্পের এ ঘোষণা আসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu–এর সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠকের কয়েক দিন পর। নেতানিয়াহু বলেন, একটি “ভালো চুক্তি” প্রত্যাশিত, তবে তা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত না করলে তার আপত্তি থাকবে। তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায়...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ

দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ

বিগত কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হননি—এমন দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মধ্যেই প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয় পেয়েছেন এবং ইতোমধ্যে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলে যেতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান-ও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াত থেকে নির্বাচিত ৬৮ জনের মধ্যে ৬৫ জনই নতুন মুখ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে প্রায় ৭১ জন এবার প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন। বিএনপি-জোট মোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি দলে সম্পূর্ণ নতুন প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ৬ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ২ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) থেকে ১ জন প্রার্থী প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করছেন। তবে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ নির্বাচনের আগে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি সংসদে দেড় শতাধিক নতুন সদস্য থাকা ইতিবাচক...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ফলাফল বদলে দেওয়ার অভিযোগ ১১ দলের

ফলাফল বদলে দেওয়ার অভিযোগ ১১ দলের

গণভোটে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট সংস্কারের পক্ষে পড়েছে দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, একই জনগণ ১১ দলীয় জোটের পক্ষেও ভোট দিলেও শেষ মুহূর্তে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটে কারচুপি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে এবং সেটিকে তারা স্বাগতও জানিয়েছিলেন। তবে ফলাফল ঘোষণার সময় এসে কিছু নির্দিষ্ট আসনকে লক্ষ্য করে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “না হলে পুরো ভোটটাই ১১ দলের পক্ষেই আসত।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে ব্যবহার করে কিছু কেন্দ্র দখল এবং জোরপূর্বক ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মামুনুল হক-এর ঢাকা-১৩ আসন, ঢাকা-৮ আসন এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের আসনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের কথা। তার দাবি, এসব আসনে পরিকল্পিতভাবে ফলাফল পরিবর্তন করে ১১ দলীয় প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কারচুপি অতীতে যেভাবে নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে, তারই পুনরাবৃত্তি বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় ১১ দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং হুমকির ঘটনা ঘটছে। এতে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে...

আরো পড়ুন
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিগ্রির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ও সততা: আসিফ নজরুল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৪৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলাও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দক্ষতা অর্জনকে লক্ষ্য নয়, বরং জীবনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে এবং সততাকে নীতি নয়, নিজের পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) পূর্বাচল নতুন শহরে অবস্থিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এবারের সমাবর্তন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির স্মরণে উৎসর্গ করা হয়।

সমাবর্তনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ব্যক্তি পর্যায়ে বাংলাদেশের অনেক অর্জন থাকলেও শক্তিশালী ও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশটি পিছিয়ে রয়েছে। এক সময় পুলিশ, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রসরমান অবস্থায় থাকলেও গত দেড় দশকে পরিকল্পিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের ভিত দুর্বল করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে দেশ গঠনে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দেশ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পেরেছে, তারাই টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যক্তি ও পরিবার প্রাধান্য পেয়েছে, প্রতিষ্ঠান নয়—ফলে অর্জন থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

বক্তব্যের শুরুতেই শরিফ ওসমান বিন হাদির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আসিফ নজরুল বলেন, তিনি জীবনে কখনো এত বড় জানাজা দেখেননি। মানুষের কান্না, দোয়া ও ভালোবাসা দেখে তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে আল্লাহ হাদিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন। তিনি বলেন, হাদি এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে আরও উত্তম এক জগতে অবস্থান করছেন—এ বিশ্বাস তার অন্তরে দৃঢ়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, হাদির জন্য মানুষের এই গভীর শোকের কারণ হলো তিনি কখনো নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবতেন না; ভাবতেন ইনসাফ ও ন্যায়ের কথা। তিনি সৎ জীবনযাপন করতেন, সবাইকে ভালোবাসতেন এবং কর্মীদের জন্য যে ত্যাগ ও নিষ্ঠা দেখিয়েছেন, তা অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। তিনি বলেন, আজকের গ্র্যাজুয়েটরা মেধাবী ও সাহসী প্রজন্মের প্রতিনিধি। বর্তমান সময়ে জ্ঞান শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার পরিসর ও চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান। এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডা. এ এম শামীম, ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নওজিয়া ইয়াসমীনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা।

এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি বিভাগের মোট ৬৭২ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তিনজন শিক্ষার্থী চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল, চারজন ভাইস-চ্যান্সেলর সিলভার মেডেল এবং ২০ জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অ্যালামনাই, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা ছাড়াও সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। এর আগে অনুষ্ঠিত ছয়টি সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৫ হাজারের বেশি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করেছে। সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালে। এবারের সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে গাউন ও হ্যাট পরিহিত গ্র্যাজুয়েটদের আনন্দ ও স্মৃতিচারণে পুরো প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।