
পরিকল্পনা যখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে, তখন ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক মারিভ এমন এক কূটনৈতিক তথ্য প্রকাশ করেছে, যা আঞ্চলিক ভারসাম্যকে নতুন করে নাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার মধ্যস্থতাকারীরা গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইসরায়েলি সরকারের উপর তীব্র চাপ প্রয়োগ করছেন।
মারিভের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের তুরস্ক-বিরোধী ভেটো মেনে নিয়েছে বলে মনে হলেও, পর্দার আড়ালে তুর্কি বিকল্পটি এখনো বাতিল করা হয়নি। বরং দাবি করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতীকী বা সীমিত আকারে তুর্কি সামরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইসরায়েলকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দেখাতে চান যে তার প্রশাসন গাজায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম।
ইসরায়েলের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মারিভের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেল আবিব প্রশাসন তুরস্কের অংশগ্রহণের প্রশ্নে এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে খুব নির্দিষ্ট ও কড়া রাজনৈতিক ও সামরিক শর্তে ইসরায়েল তার ভেটো কিছুটা শিথিল করতে পারে। এর অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—হামাসের পুনর্গঠন ঠেকানোর অজুহাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) গাজায় অবাধ অপারেশনাল স্বাধীনতা বজায় রাখা।
এছাড়া, ইসরায়েল চায় তুর্কি সেনাদের ভূমিকা ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্র কঠোরভাবে সীমিত থাকুক এবং সব ধরনের সামরিক তৎপরতা ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হোক। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, হামাসের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক যেন বন্দী বিনিময় ও মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনোভাবেই সামরিক বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রূপ না নেয়।
মার্কিন প্রশাসনের কাছে তুরস্ক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ—তার ব্যাখ্যাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে, তুরস্ক এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ স্থলবাহিনীর অধিকারী এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি পক্ষের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের কার্যকর চ্যানেল রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, এই দুই বৈশিষ্ট্যের কারণে গাজায় তুর্কি উপস্থিতি শুধু সামরিকভাবে নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈধতার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাহিনীকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে, বিশেষ করে আরব ও ইসলামী বিশ্বের চোখে।
তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগও গভীর। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের হামাসের প্রতি প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমর্থনকে তেল আবিব একটি সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। তাদের আশঙ্কা, গাজায় তুর্কি সেনাদের উপস্থিতি ভবিষ্যতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পথে একটি “কার্যকরী বাধা” হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য “গেম-চেঞ্জিং” পদক্ষেপ নেতানিয়াহু সরকার কীভাবে গ্রহণ করে, তার ওপরই গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে। তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এটি নতুন এক আঞ্চলিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে, আর প্রত্যাখ্যান করা হলে “পরের দিনের” পরিকল্পনা আবারও কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 


















