
সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গকে লন্ডনে একটি ফিলিস্তিনি সমর্থক বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস মঙ্গলবার জানায়, থানবার্গকে নিষিদ্ধ ঘোষিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপকে সমর্থন করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে তার হাতে একটি প্ল্যাকার্ড ছিল, যেখানে লেখা ছিল— “আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন বন্দীদের সমর্থন করি এবং আমি গণহত্যা প্রত্যাখ্যান করি।”
এই বিক্ষোভটি প্যালেস্টাইনের জন্য আন্দোলনরত আটজন অনশনকারীর প্রতি সংহতি জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ওই আট কর্মী জুলাই মাসে সংঘটিত কিছু ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে এবং তারা বর্তমানে বিচারের অপেক্ষায় কারাগারে আছে। লন্ডন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে একটি প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক মহিলাকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু থানবার্গের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার লন্ডনের আর্থিক জেলার একটি ভবনে “অপরাধমূলক ক্ষতি” করার অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস দাবি করে, বিক্ষোভকারীরা অ্যাস্পেন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ভবনের সামনে লাল রঙ স্প্রে করেন, যাতে তারা “গণহত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি তুলে ধরতে চাইছিল।” বিক্ষোভের একটি ছবি, যেখানে থানবার্গ প্ল্যাকার্ড হাতে মাটিতে বসে আছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
পালেস্টাইন অ্যাকশনকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, যখন সংগঠনের সদস্যরা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটিতে ঢুকে দুটি বিমান লাল রঙে স্প্রে করেন — এতে প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছিল। নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে এই গোষ্ঠীর সদস্যতা বা প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস জানায়, নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিক্ষোভে ইতোমধ্যেই ২,০০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হোদা আমোরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেছেন। প্যালেস্টাইন অ্যাকশন দাবি করে তারা ইসরায়েলের “গণহত্যা ও বর্ণবাদী শাসনের” বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন বন্ধে কাজ করে, বিশেষ করে অস্ত্র চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেনের ইসরাইলের সাথে সম্পর্ককে নিন্দা করে।
নিষেধাজ্ঞার বিরোধীতায় আন্তর্জাতিক সমালোচনাও তীব্র; মানবadhিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তকে অনুপাতহীন বলে উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ক্ষুদ্র সম্পত্তি ক্ষতি যারা করছে সেটা সন্ত্রাসবাদ হিসাবে বিবেচনা করা উচিত নয় এবং তিনি সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 


















