১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সাইবার অপরাধ রোধে কঠোর নির্দেশ

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সাইবার অপরাধ রোধে কঠোর নির্দেশ

 আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার নাগরিক সেবাসমূহকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে। এসব সেবা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে নাগরিক সেবার গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ করতে হবে এবং এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকে দক্ষ করে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও জনবলকে একটি রেটিং ব্যবস্থার আওতায় আনার নির্দেশনাও দেন তিনি।

ফিনান্সিয়াল সেক্টরে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়—সে বিষয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আরও কিছু প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিটিআরসির মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর বলেন, ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আরও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় এজেন্সির কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ‘Cyber Incident Reporting and Response System’-এর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সভায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, আইজিপি বাহারুল আলম এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়নের পর গত ২৬ আগস্ট ২৫ সদস্যের জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

ট্যাগ

ইরানের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সাইবার অপরাধ রোধে কঠোর নির্দেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার নাগরিক সেবাসমূহকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে। এসব সেবা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে নাগরিক সেবার গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ করতে হবে এবং এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকে দক্ষ করে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও জনবলকে একটি রেটিং ব্যবস্থার আওতায় আনার নির্দেশনাও দেন তিনি।

ফিনান্সিয়াল সেক্টরে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়—সে বিষয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আরও কিছু প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিটিআরসির মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর বলেন, ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আরও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় এজেন্সির কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ‘Cyber Incident Reporting and Response System’-এর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সভায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, আইজিপি বাহারুল আলম এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়নের পর গত ২৬ আগস্ট ২৫ সদস্যের জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।