
শোক, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ২০২৫ সাল। বিদায়ী এই বছরটি দেশের মানুষকে দিয়েছে একের পর এক নাড়া দেওয়া ঘটনা, যা কেবল রাজনীতিকেই নয়, সমাজের বিবেককেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বছরের শেষভাগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং তার আগে আলোচিত যুবক ওসমান হাদির মর্মান্তিক পরিণতি—এই দুই ঘটনা ২০২৫-কে পরিণত করেছে বেদনার এক স্মরণীয় বছরে।
গণআন্দোলন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতীক হয়ে ওঠা ওসমান হাদীর মৃত্যু সারাবছরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তার মৃত্যুকে ঘিরে বিচার, দায়বদ্ধতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে রাজপথে যেমন ক্ষোভ জমেছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৈরি হয়েছে গভীর প্রতিক্রিয়া। অনেকের কাছে ওসমান হাদি হয়ে উঠেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক প্রজন্মের কণ্ঠস্বর।
অন্যদিকে, বছরের শেষ প্রান্তে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ দেশের রাজনীতিতে নেমে আনে গভীর শোকের ছায়া। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার রাজনৈতিক ভূমিকা যেমন আলোচিত, তেমনি তার মৃত্যু বিএনপি ও সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে এক আবেগঘন শূন্যতা। দেশ-বিদেশে গায়েবানা জানাজা, শোকসভা ও দোয়া মাহফিল তার রাজনৈতিক জীবনের ব্যাপ্তিকেই তুলে ধরেছে।
এই দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ঘটনা—একটি তরুণের মৃত্যুকে ঘিরে ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যটি একজন প্রবীণ নেত্রীর বিদায়—২০২৫ সালকে দিয়েছে অশ্রু ও প্রশ্নচিহ্নে ভরা এক বিদায়ী অধ্যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্ম ও পুরোনো রাজনীতির মাঝের দূরত্ব এবং সংকটকে আরও স্পষ্ট করেছে।
এমন এক আবহেই শুরু হলো ২০২৬ সাল—একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনী বছর। সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং আস্থা পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার কঠিন পরীক্ষা।
২০২৫ সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেও, নতুন বছরকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা একটাই—ওসমান হাদি মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং ন্যায়বিচার; আর খালেদা জিয়ার বিদায়ের শোক পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়া।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 


















